বাঙালির মাছ খেতে যেমন কোনও কারণ লাগে না, তেমনই খিচুড়ি খেতেও কোনও কারণ লাগে না। হাল্কা বৃষ্টিতে খিচুড়ি, ঠাণ্ডা পড়লে খিচুড়ি, অন্যরকম খেতে ইচ্ছে করলে খিচুড়ি। আর পুজোতে খিচুড়ি ভোগ মাস্ট। এই প্রতিবেদনে জেনে নিন নিরামিষ ভোগের খিচুড়ি (bhoger khichuri recipe) কী করে বানাবেন-
Table of Contents
সামনেই শুরু উৎসবের মরশুম। বিশ্বকর্মা পুজো, দুর্গাপুজো, লক্ষ্মী পুজো, কালী পুজো, জগদ্ধাত্রী পুজো রয়েছে। আর এই পুজোতে প্রায় প্রতিটা বাঙালির বাড়িতে কোনও না কোনও দিন খিচুড়ি রান্না হবেই। পুজোয় যেমন ভোগ দেওয়া হয় খিচুড়ি, তেমনই বাড়িতেও আলাদা করে বানানো হয়। আর অধিকাংশ বাঙালির ঘরে খিচুড়ি মানেই সেটা নিরামিষ।
নিরামিষ ভোগের খিচুড়ি বানানোর উপকরণ (bhoger khichuri recipe)
ভোগের খিচুড়ি তৈরি করতে খুব বেশি জিনিস লাগে না। কম জিনিস ও সঠিক পরিমাণে ব্যবহার করলেই জাদু দেখানো যাবে।
গোবিন্দভোগ চাল
এটি খিচুড়ির প্রধান উপাদান, বলা ভালো হার্ট। গোবিন্দভোগ চালের একটি নিজস্ব সুগন্ধ আছে যা খিচুড়ির স্বাদকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে তোলে।
সোনা মুগের ডাল
মুগ ডালেরও একটা সুন্দর গন্ধ থাকে। সেটাকে গরম কড়াইয়ে ভেজে নিলে তার অপূর্ব সুগন্ধ বের হয়।
সবজি
বিরিয়ানিতে যেমন আলু মাস্ট, তেমনই খিচুড়িতে সবজি মাস্ট। আলু, ফুলকপি, মটর, গাজর, এবং কখনও কখনও কুমড়ো দিতে পারেন।
তেল ও ঘি
রান্নার জন্য সর্ষের তেল এবং খাঁটি গাওয়া ঘি।
মশলা
আদা বাটা, জিরা গুঁড়ো, হলুদ গুঁড়ো, শুকনো লঙ্কা গুঁড়ো, কাশ্মীরি লঙ্কা গুঁড়ো, আস্ত জিরা, তেজপাতা, শুকনো লঙ্কা, আর এলাচ-দারুচিনি।
নুন ও চিনি
স্বাদমতো
Masala Dosa: লাগবে 15 মিনিট, বাড়িতেই বানান রেস্টুরেন্ট স্টাইলে, জানুন পদ্ধতি
ভোগের খিচুড়ি বানানোর নিয়ম
এটি বানাতে খুব বেশি সময় লাগে না, তবে দরকার যত্ন ও মনোযোগ (bhoger khichuri recipe)।
ধাপ ১: ডাল ভাজা
শুরুতেই শুকনো কড়াইতে মুগ ডাল ভেজে নিতে হবে। দেখতে হবে রং যেন হালকা সোনালি হয়। ভাজার পর ডাল তুলে ঠান্ডা করে ধুয়ে নিন।
ধাপ ২: চাল ও ডাল প্রস্তুতি
গোবিন্দভোগ চাল এবং ভাজা মুগ ডাল একসঙ্গে ভালো করে ধুয়ে জল ঝরিয়ে নিন।
ধাপ ৩: সবজি ভাজা
একটি বড় পাত্রে সর্ষের তেল গরম করুন। তেল গরম হলে একসঙ্গে ফুলকপি, আলু এবং অন্য সবজিগুলো দিয়ে হালকা ভেজে তুলে নিন (মনে রাখবেন সবজিগুলো যেন ছোট করে কাটা হয়)। এতে সবজিগুলো সহজে নরম হয়ে যায়।
ধাপ ৪: মশলা তৈরি
ওই একই পাত্রে সামান্য তেল ও ঘি দিন। গরম হলে তেজ পাতা, শুকনো লঙ্কা, আস্ত জিরা, এলাচ ও দারুচিনি দিয়ে ফোড়ন দিন। এগুলো ভাজা হয়ে গন্ধ বের হলে আদা বাটা দিয়ে নাড়তে থাকুন।
ধাপ ৫: খিচুড়ি রান্না
চাল ও ডালের মিশ্রণটি সেই পাত্রে ঢেলে দিন এবং ভালো করে নাড়াচাড়া করে মশলার সঙ্গে চাল ও ডালের মিশ্রণের সঙ্গে সেটা মিশিয়ে দিন। এরপর তার উপরে জিরা, হলুদ এবং লঙ্কা গুঁড়ো দিয়ে আরও কিছুক্ষণ ভাজুন। পুরোটা মিশে গেলে গরম জল দিন।
ধাপ ৬: সবজি ও ফিনিশিং টাচ
জল গরম হয়ে ফুটলে তাতে পরিমাণমতো নুন ও চিনি দিন এবং আঁচ কমিয়ে ঢাকনা দিয়ে দিন। কিছুক্ষণ পরপর ঢাকনা সরিয়ে খুন্তি দিয়ে দেখবেন যাতে নিচে লেগে না যায়। হয়ে গেলে গরম মশলা ও ঘি উপর থেকে দিয়ে ঢেকে দিন ২ মিনিটের জন্য।
ব্যাস কাজ শেষ, এ বার তুলে নিন ও গরম গরম পরিবেশন করুন।
Anarosh Ilish: ঝাল মিষ্টি স্বাদ, মাত্র 35 মিনিটেই বানিয়ে ফেলুন আনারস ইলিশ
খিচুড়ি ও বাঙালির আবেগ
খিচুড়ির সুগন্ধ যখন বাতাসে ভাসে তখন অন্তত পাশের দুটো বাড়িতে তার খবর যায়। নিরামিষ খিচুড়ির একটা নিজস্বতা থাকে। সেখানে পেঁয়াদ বা ডিম দিলে নিজস্ব গন্ধটা চলে যায়। গোবিন্দভোগ চাল, সোনা মুগ ডাল, ঘি, সবজি সবকিছুর গন্ধে নিরামিষ খিচুড়িতে ভোগের উপযোগী করে তোলে (bhoger khichuri recipe)।
অন্যদিক থেকে দেখতে গেলে ভোগের খিচুড়ি কেবল একটি সাধারণ পদ নয়, এটি বাঙালির রক্তে মিশে গেছে। কারণ কয়েক হাজার বছর ধরে দেবতাকে নিরামিষ খিচুড়ি ভোগ হিসেবে দেওয়া হয়।
পূজার সময় মন্দিরে বা মণ্ডপে এই খিচুড়ি বড় বড় ডেকচিতে রান্না করা হয়। বলা হয় ভোগের খিচুড়ি সবসময় বাড়িতে তৈরি খিচুড়ির স্বাদের থেকে আলাদা হয়। এটাকে A+ দেয় মরশুমি সবজি। শীতকালের টাটকা ফুলকপি, মটরশুঁটি, আলু যোগ করলে সেটার ন্যাচরাল স্বাদ খিচুড়িকে উপরের দিকে নিয়ে যায়।
ভোগের খিচুড়ির সঙ্গে কী কী পরিবেশন করা যায়?
- পাঁচমিশালি সবজির তরকারি, যাকে আমরা ‘লাবড়া’ বলি
- বেগুনি অথবা বেগুন ভাজা
- শীতকালে টাটকা টমেটোর চাটনি
- পায়েস
- পাপড়
নিখুঁত নিরামিষ ভোগের খিচুড়ি বানানোর কিছু টিপস
- ডাল ভাজা: তাড়াহুড়ো করবেন না। ডাল ভাজার ওপরই এর স্বাদ ও গন্ধ অনেকাংশে নির্ভর করে।
- জলের পরিমাণ: জলের পরিমাণ ঠিক রাখা খুব জরুরি। যদি খিচুড়ি বেশি ঘন হয়ে যায়, তবে সামান্য গরম জল যোগ করতে পারেন।
- ঘি: ভোগের খিচুড়িতে ঘিয়ের ব্যবহারে কিপ্টেমি করবেন না।
- হিং: সামান্য হিং ব্যবহার করলে হজম ভালো হয় এবং স্বাদও বাড়ে।
- ধৈর্য: কম আঁচে ধীরে ধীরে রান্না করুন। এতে চাল ও ডাল ভালোভাবে সেদ্ধ হবে এবং সব মশলার স্বাদ মিশে যাবে।
FAQ
নিরামিষ ভোগের খিচুড়ি বানাতে কী কী লাগবে?
গোবিন্দভোগ চাল, সোনা মুগের ডাল, সবজি, তেল ও ঘি, মশলা, নুন ও চিনি।
ভোগের খিচুড়ির সঙ্গে কী কী পরিবেশন করা যায়?
পাঁচমিশালি সবজির তরকারি, যাকে আমরা ‘লাবড়া’ বলি
বেগুনি অথবা বেগুন ভাজা
শীতকালে টাটকা টমেটোর চাটনি
পায়েস
পাপড়
নিখুঁত নিরামিষ ভোগের খিচুড়ি বানানোর টিপস
ডাল ভাজা: তাড়াহুড়ো করবেন না। ডাল ভাজার ওপরই এর স্বাদ ও গন্ধ অনেকাংশে নির্ভর করে।
জলের পরিমাণ: জলের পরিমাণ ঠিক রাখা খুব জরুরি। যদি খিচুড়ি বেশি ঘন হয়ে যায়, তবে সামান্য গরম জল যোগ করতে পারেন।
ঘি: ভোগের খিচুড়িতে ঘিয়ের ব্যবহারে কিপ্টেমি করবেন না।
হিং: সামান্য হিং ব্যবহার করলে হজম ভালো হয় এবং স্বাদও বাড়ে।
ধৈর্য: কম আঁচে ধীরে ধীরে রান্না করুন। এতে চাল ও ডাল ভালোভাবে সেদ্ধ হবে এবং সব মশলার স্বাদ মিশে যাবে।
Discover more from Unknown Story
Subscribe to get the latest posts sent to your email.




















