Healthy Biryani Recipe: সুখে হোক বা দুঃখে, চাকরি পাওয়ার খুশি হোক বা ব্রেকআপের যন্ত্রণা, বাঙালির পাতে বিরিয়ানি মাস্ট। বাঙালি মানেই তাঁকে বিরিয়ানি প্রেমী হতে হবে, এটা একটা অলিখিত নিয়ম। আজকাল অলিতে গলিতে বিরিয়ানির দোকান। কিন্তু প্রত্যেক বিরিয়ানির ক্ষেত্রে সমস্যা একটাই তা হলো ওজন। বিরিয়ানি খেলে ওজন বাড়তে বাধ্য। এই কারণে অনেকে বিরিয়ানি এড়িয়ে চড়েন, মন চাইলেও শরীর চায় না। তবে এ বার আর চিন্তা নেই রইল Healthy Biryani Recipe, এটা দিয়ে আপনি বিরিয়ানি খেলেও ওজন বাড়বে না।
Table of Contents
Healthy Biryani Recipe
হেলদি বিরিয়ানি বানানোর টিপস
- হাইপ্রোটিন, ভাত-পরিমিত: সাধারণত বিরিয়ানিতে থাকে যতটা ভাত, ততটা মাংস। এখানে সেটা করলে হবে না। এখানে ২০০ গ্রাম ভাতের সঙ্গে দিতে হবে ৪০০ গ্রাম মুরগির মাংস। মাংসকে মেরিনেট করতে হবে টক দই ও মশলা দিয়ে।
- ঘি ও তেলের পরিমাণ কম রাখা: বিরিয়ানির স্বাদ ধরে রাখার জন্য ঘি ব্যবহার করা হলেও সেটার পরিমাণ কম দিন। যেমন ১০০ গ্রাম পেঁয়াজ ভাজার জন্য মাত্র এক চামচ ঘি যথেষ্ট।
- পরিমাণ ঠিকমতো খাওয়া: বিরিয়ানি খেতে ভালো লাগে বলে প্রচুর পরিমাণে খেলে হবে না। পরিমাণ করে খান। যতটা মন চাইছে তার থেকে কম খান।
- সাইডে রায়তা রাখুন: রায়তা খেতে পারেন। কলকাতার বিরিয়ানির সঙ্গে রায়তা খাবার চল না থাকলেও এটা খাবারকে পরিপূর্ণ করে। (Healthy Biryani Recipe)
কেন এটা গুরুত্বপূর্ণ?
বিরিয়ানি খারাপ নয়। কিন্তু বিরিয়ানিতে অতিরিক্ত ঘি বা মশলাটা সমস্য়ার। ডায়েটের নিয়ম অনুযায়ী, সবকিছুই খাওয়া যায়, শুধু ব্যালান্স করতে হয় ঠিক করে। এখন সব অনুষ্ঠানে বিরিয়ানি আবশ্যক। আর সেই বিরিয়ানিকে না বলাও যায় না। কিন্তু ওজন নিয়ন্ত্রণ করার পথে সেই আনন্দ যেন নষ্ট না হয়—সেটাও মাথায় রাখতে হয়। তবে বদলে দেওয়া হয়েছে মন্ত্র: বেশি ঘি নয়, বেশি প্রোটিন; বেশি ভাত নয়, মাপমতো ভাত; শুধু স্বাদ নয়—দায়িত্বও। (Healthy Biryani Recipe)
এখন বিরিয়ানি মানে প্লেট ভর্তি ভাত, ঘিয়ের গন্ধ, বড় মাপের আলু, মাংস। বিভিন্ন রিসার্চে দেখা গিয়েছে, বিরিয়ানি খাওয়ার পরে আসে ক্লান্তি, ভারি ভাব, অতিরিক্ত ঘুমপ্রবণতা।
30 মিনিটে বাজিমাত, বাড়িতেই বানিয়ে ফেলুন রেস্তোরাঁর মতো চিংড়ির পাতুরি
কিন্তু যদি এটাকে একটু পরিবর্তন করা যায়। অর্থাৎ, এক বাটি বিরিয়ানি, পরিমিত ভাত, হাড় ছাড়ানো মাংস, কম ঘি, প্রোটিনের পরিমিত ভাগ—তাহলে বিরিয়ানির আনন্দও থাকে আর মনও ভালো থাকে। খাবার শুধু পেট ভরানোর বিষয় নয়, মন ভালো রাখার বিষয়। তাই বিরিয়ানিকে বন্ধ করা নয় যত্নে খাওয়া।
হেলদি বিরিয়ানি কাদের জন্য প্রযোজ্য?
যারা ওজন কমাতে চান কিন্তু ভালো খাবার, স্বাদ, লাইফস্টাইল ছাড়তে চান না। যারা ফিট থাকাকে শরীরে শাস্তি হিসেবে দেখতে নারাজ। যারা খাদ্যকে প্রেম হিসেবে দেখতে চান— কেবল শাসন হিসেবে নয়। (Healthy Biryani Recipe)
বিরিয়ানিতে আরও ভালো ফলের জন্য
রান্নার আগে ভাত সেদ্ধ করুন নির্দিষ্ট পরিমাণে। মাংস মেরিনেট করুন দই ও মশলা দিয়ে। শুধু এক চামচ ঘি দিয়ে ভাজুন পিঁয়াজ। বিরিয়ানির সঙ্গে রাখুন রায়তা—দই কিংবা কম চর্বি দিয়ে। খাবার যতক্ষণ খাচ্ছেন, সেই সময় সজাগ থাকুন—খাওয়ার সময় মন অন্যদিকে দেবেন না।
বিরিয়ানি-প্রেম আমাদের বাঙালির হৃদয়ে রয়েছে। তার ঘ্রাণ, তার স্মৃতি, তার হাসি—সব এক সঙ্গে থাকে। কিন্তু আজ আমরা এমন এক সময়ের মধ্যে দিয়ে রয়েছি যেখানে ফিট থাকাটা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বর্তমানে ভেজালের যুগে ফিটনেসটা গুরুত্বপূর্ণ। আর নিজের পছন্দের সঙ্গে ফিটনেসকে ধরে এগিয়ে চলতে গেলে এই পরিবর্তনগুলো করতেই হবে।
বিরিয়ানি বদলাতে হবে না, শুধু বানাতে হবে একটু বুদ্ধি করে। তাই আর দেরি না করে আপনি নিজের জন্য বানিয়ে ফেলুন, এক বাটি বিরিয়ানি, মেনে চলুন নিয়ম করে, ভালো রাখুন শরীর আর ভালো রাখুন মন।
Unknown Story-কে ফেসবুক ও ইন্সটাগ্রামে ফলো করুন

