Site icon Unknown Story

Carrot Benefits for Diabetes: সুগারের রোগীদের কি গাজর খাওয়া উচিত? কী বলছেন চিকিৎসকরা?

Carrot Benefits for Diabetes

বর্তমানে যেই রোগের সংখ্যা পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সেটা হলো ডায়াবেটিস বা মধুমেহ। প্রতি ১০ জনের মধ্যে ৩ জন এই রোগে আক্রান্ত। একবার ডায়াবেটিস হওয়া মানে সেটা আজীবন থাকবে। চ্যালেঞ্জ হচ্ছে রোগকে নিয়ন্ত্রণে রাখা। আর এই রোগকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ হলো ডায়েট। যার ডায়েট সবচেয়ে ভালো তিন সবচেয়ে ভালো এই রোগকে সামলাতে পারবেন। আর এখানে গুরুত্বপূর্ণ হলো গাজর। ডায়বেটিসের জন্য গাজর কি ভালো? (Carrot Benefits for Diabetes) এই প্রতিবেদনে জেনে নিই এর ব্যাপারে-

এখন ডায়াবেটিস আর কেবল বয়স্কদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। অনিয়মিত জীবনধারা, খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন এবং শারীরিক পরিশ্রমের অভাবের কারণে অল্প বয়সেও অনেকের শরীরে বাসা বাঁধছে এই রোগ। ডায়াবেটিস ধরা পড়লে একজন রোগীকে তাঁর রোজকার খাদ্যতালিকা থেকে হাই গ্লাইসেমিক ইনডেক্সযুক্ত খাবার বাদ দিতে হয়। বিশেষ করে মিষ্টি জাতীয় খাবারের দিকে তাকানোই বারণ হয়ে যায়। এই পরিস্থিতিতে, শীতকাল এলেই যে প্রশ্নটি আবশ্যিকভাবে ওঠে, তা হলো: ডায়াবেটিস রোগীরা কি মিষ্টি স্বাদের কারণে এই মরসুমে গাজর খেতে পারবেন? 

গাজর কেন গুণী? পুষ্টির ভাণ্ডার বিশ্লেষণ (Carrot Benefits for Diabetes)

গাজর চিবোলে মিষ্টি লাগে বলে অনেকে মনে করেন এটি হয়তো সুগারের মাত্রা বাড়িয়ে দেবে। কিন্তু এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। গাজর কেবল শর্করাবিহীন সবজিই নয়, এটি এমন একটি খাদ্য, যা ফ্যাট ও কোলেস্টেরল মুক্ত। বরং এটি মিনারেল, ভিটামিন, ফাইবার এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর। এই কারণেই সুগারের রোগীদের জন্য গাজর এক অসাধারণ উপকারী সবজি।

গাজরের এই প্রোফাইলই প্রমাণ করে, এটি কেবল কম ক্যালোরির সবজি নয়, বরং এটিতে রয়েছে একাধিক স্বাস্থ্যকর উপকারিতা। (Carrot Benefits for Diabetes)

খোসাসহ না ছাড়িয়ে, কীভাবে আমন্ড খেলে উপকার বেশি? রইল বিস্তারিত

সুগার রোগীদের জন্য গাজরের ৬টি উপকারিতা

গাজর শুধু চোখের পাশাপাশি শরীরে একাধিক কাজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

সুগার লেভেল নিয়ন্ত্রণে রাখা

গাজরের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স সাধারণত ৩৫-এর আশপাশে, যা খুবই কম। এটি হজম হতে সময় নেয়। ফলে রক্তে গ্লুকোজ হঠাৎ করে বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে না।

গাজরে থাকা প্রাকৃতিক শর্করা খুব ধীরে ধীরে রক্তে প্রবেশ করে, যা ইনসুলিনের উপর চাপ কমিয়ে দেয়। তাই নিশ্চিন্তে এবং পরিমিত পরিমাণে গাজর খেতে পারেন সুগারের রোগীরা। 

দৃষ্টিশক্তির সুরক্ষা

ডায়াবেটিস হলে সবার আগে নষ্ট হয় দৃষ্টিশক্তি। যাকে ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি বলা হয়। গাজর এই সমস্যা মোকাবিলায় কার্যকরী ভূমিকা নিতে পারে। কারণ গাজরে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে বিটা-ক্যারোটিন যা দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে সিদ্ধহস্ত। শরীরে এই ক্যারোটিন ভিটামিন A-তে রূপান্তরিত হয়, যা চোখের রেটিনাকে সুস্থ রাখে। (Carrot Benefits for Diabetes)

হৃদরোগ এবং কোলেস্টেরলকে নিয়ন্ত্রণে রাখা

ডায়াবেটিস রোগীদের হৃদরোগের ঝুঁকি স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকে। ফাইবার এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর গাজর এই ঝুঁকি কমাতে পারে। নিয়মিত গাজর খেলে কোলেস্টেরলও কমে, যা ধমনীতে চর্বি জমার ঝুঁকি কমিয়ে হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের আশঙ্কা হ্রাস করে।

গাজর যত বেশি ফ্রেশ, তত বেশি কার্যকরি

ওজন নিয়ন্ত্রণে ফাইবার ও জলের ভূমিকা

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য সুস্থ ওজন বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। গাজর হলো কম ক্যালোরিযুক্ত এবং উচ্চ ফাইবারযুক্ত সবজি। ফাইবারযুক্ত খাবার হজম হতে বেশি সময় নেয় এবং জল শোষণ করে পেট দীর্ঘ সময়ের জন্য ভর্তি রাখে। এতে করে বার বার খাবার খাওয়ার ইচ্ছা কমে যায় এবং অতিরিক্ত ক্যালোরি গ্রহণের প্রবণতা হ্রাস পায়।

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে পটাশিয়াম

গাজরে থাকা পটাশিয়াম একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, যা উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। পটাশিয়াম শরীরে সোডিয়ামের মাত্রা ঠিক রাখে এবং রক্তনালীগুলিকে শিথিল করতে সহায়তা করে। ডায়াবেটিস এবং উচ্চ রক্তচাপ প্রায়শই হাত ধরাধরি করে চলে। তাই নিয়মিত পটাশিয়াম সমৃদ্ধ গাজর খেলে দুই রোগের ঝুঁকি মোকাবিলা করা যায়।

চকোবারের নামে তেল খাচ্ছেন না তো? জেনে নিন আসল আইসক্রিম চেনার 3 কৌশল

কাঁচা না রান্না করা, কোন গাজর কার্যকরি?

ডায়াবেটিস রোগীরা গাজর খেতে পারবেন, তবে তা কীভাবে এবং কী পরিমাণে খাবেন, সে বিষয়ে সচেতন থাকা জরুরি।

কাঁচা গাজর বাছুন

বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, ডায়াবেটিসের রোগীরা রান্না করা গাজরের তুলনায় কাঁচা গাজর খেলে বেশি উপকার পাবেন। রান্নার ফলে গাজরের GI মান কিছুটা বেড়ে যায়, কারণ রান্নার তাপে এর ফাইবার ভেঙে যায়। কাঁচা গাজর খেলে সবচেয়ে বেশি ফাইবার পাওয়া যায়। (Carrot Benefits for Diabetes)

পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ

যদিও গাজরের GI কম, তবুও অতিরিক্ত পরিমাণে খেলে তা রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়াতে পারে। তাই সুগারের রোগীদের উচিত দৈনিক ১০০ থেকে ১২০ গ্রাম বা একটি মাঝারি আকারের গাজর খাওয়া।

কাঁচা গাজর খেতে না পারলে গাজর দিয়ে তৈরি নানা পদ খেতে পারেন। স্যালাড, স্যুপ খেতে পারেন। স্যুপের ক্ষেত্রে গাজর সেদ্ধ করে খেতে পারেন। গাজরের জুস খাবেন না। এতে রক্তে গ্লুকোজ সরাসরি প্রবেশ করে। ফলে গাজরের জুস এড়িয়ে চলা উচিত।

চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত: ডায়াবেটিস রোগীরা গাজর খেতে পারবেন? (Carrot Benefits for Diabetes)

সবদিক বিবেচনা করে বলা যায়, ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য গাজর অত্যন্ত উপকারী একটি সবজি, যা তাঁরা নিশ্চিন্তে নিজেদের খাদ্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন। তবে মনে রাখতে হবে:

এই শীতে গাজরকে আপনার ডায়েটের অংশ করে নিন এবং ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী জীবনধারা ও খাদ্যাভ্যাসে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন এনে আপনার সুগার লেভেলকে হাতের মুঠোয় রাখুন।


Unknown Story-কে ফেসবুক ও ইন্সটাগ্রামে ফলো করুন


Exit mobile version