Site icon Unknown Story

History of Jeans: খনি শ্রমিকদের দিয়ে শুরু, বর্তমানে ফ্যাশন স্টেটমেন্ট জেনে নিন জিন্সের ইতিহাস

History of Jeans

বর্তমানে ফ্যাশন স্টেটমেন্ট মানে সবার আগে আগে জিন্সের নাম। জেন জ়ি হোক বা মিলেনিয়ান, সকলের ফ্যাশনে জিন্সটা মাস্ট। কলেজ, অফিস কিংবা পার্টি, জিন্স ছাড়া আমাদের জীবন প্রায় অচল। কিন্তু আপনি কি জানেন, আজ আমরা যে জিন্সকে ফ্যাশনের প্রতীক মনে করি, তার জন্ম হয়েছিল কোনও র‍্যাম্প ওয়াকের জন্য। বরং আমেরিকার ধুলোমাখা খনিতে? এই প্রতিবেদনে জেনে নিন History of Jeans.

শ্রমিকদের গায়ের নোংরা আর ছেঁড়া পোশাক থেকে কীভাবে জিন্স হয়ে উঠল বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় প্যান্ট? এই প্রতিবেদনে জেনে নিন জিন্স আবিষ্কারের সেই রোমাঞ্চকর ইতিহাস।

History of Jeans: ১৮৫০-এর দশকে গল্পের শুরু

জিন্সের ইতিহাসের শুরুটা হয় ১৮৫০-এর দশকে, আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়ায়। সেই সময় চলছে বিখ্যাত ‘গোল্ড রাশ’ (Gold Rush)। অর্থাৎ, মাটির নিচে সোনার খোঁজ পাওয়ার আশায় হাজার হাজার মানুষ ভিড় করছেন ক্যালিফোর্নিয়ার সোনার খনিগুলোতে। (History of Jeans)

আর খনিতে কাজ মানে সেখানে হাড়ভাঙা খাটুনি। কারণ পাথর ভেঙে সেখান থেকে সোনা বের করা সহজ ছিল না। সারাদিন পাথর ভাঙার কাজ করার ফলে শ্রমিকদের সাধারণ কাপড়ের প্যান্ট ছিঁড়ে যেত দ্রুত। এতে মালিকপক্ষের খরচ ক্রমে বাড়তে থাকে। অন্যদিকে বারবার প্য়ান্ট ছিঁড়ে যাওয়ায় সমস্য়ায় পড়েন শ্রমিকরাও। এই পরিস্থিতিতে শ্রমিকরা এমন একটি প্যান্ট চাইছিলেন যা হবে লোহার মতো মজবুত এবং সহজে ছিঁড়বে না। 

তাঁদের এই সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে আসেন লিভাই স্ট্রস (Levi Strauss)। তিনি ছিলেন একজন জার্মান বংশোদ্ভূত কাপড়ের ব্যবসায়ী, যিনি স্যান ফ্রান্সিসকোতে তাঁবু এবং ক্যানভাসের কাপড় বিক্রি করতেন।

পুলিশ থেকে চিকিৎসকদের পরনে সাদা উর্দি, নেপথ্যে কোন ইতিহাস?

দর্জি জ্যাকব ডেভিস এবং একটি যুগান্তকারী আইডিয়া

গল্পের আসল নায়ক ছিলেন জ্যাকব ডেভিস (Jacob Davis) নামে একজন দর্জি। তিনি লিভাই স্ট্রসের কাছ থেকে কাপড় কিনে দর্জির কাজ করতেন। একদিন এক শ্রমিকের স্ত্রী জ্যাকবের কাছে এসে আবেদন করেন এমন একটা প্যান্ট বানিয়ে দিতে যা সহজে ছিঁড়বে না। (History of Jeans)

জ্যাকব ডেভিস সেটাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নেনে। তিনি মোটা ডেনিম কাপড় দিয়ে প্যান্ট বানান। কিন্তু ডেনিম কাপড়ের প্যান্ট ছিল মোটা। ফলে যেখানে দুইয়ের বেশি অংশ সেলাই করতে হয়েছে সেগুলো আঁটছিল না। তাই তিনি সেখানে ছোট ছোট তামার পেরেক লাগিয়ে দেন। ফলে প্যান্ট মজবুত হয়।

২০ মে ১৮৭৩: জিন্সের জন্মদিন

জ্যাকব ডেভিসের এই আইডিয়া কাজে লাগে। সকলের পছন্দও হয়। কিন্তু এটাকে অন্য়স্তরে নিয়ে যাওয়ার জন্য অর্থ ছিল তাঁর কাছে। তিনি তখন লিভাই স্ট্রসকে পার্টনারশিপের প্রস্তাব দেন। তাঁর তৈরি প্যান্ট দেখে পার্টনারশিপে রাজি হয়ে যান লিভাই স্ট্রস। (History of Jeans)

১৮৭৩ সালের ২০ মে, লিভাই স্ট্রস এবং জ্যাকব ডেভিস যৌথভাবে এই প্যান্টের পেটেন্ট পান। এই দিনটিকেই আইনিভাবে Blue Jeans-এর জন্মদিন বলা হয়। তবে মজার ব্যাপার হলো, তখন একে ‘জিন্স’ বলা হতো না, বলা হতো Waist Overalls।

জিন্সের ইতিহাস কেমন ছিল?

জিন্স কেন নীল রঙের হয়?

প্রথম জিন্সটি তৈরি হয়েছিল ‘ইন্ডিগো’ বা নীল রং দিয়ে। এই রং ব্যবহার করার পিছনে কারণ ছিল ময়লা থেকে বাঁচানো।

আসলে খনিতে বা কারখানায় কাজ করার সময় শ্রমিকদের পোশাকে প্রচুর ধুলো-ময়লা লাগত। নীল রঙে ময়লা সবচেয়ে কম বোঝা যায়, তাই ডেনিম কাপড়ে নীল রং ব্যবহার করা শুরু হয়। একেই বলা হতো ‘ব্লু জিন্স’।

খনি থেকে হলিউড: ফ্যাশনের দুনিয়ায় ডেনিম

জিন্স জনপ্রিয়তা অর্জন করার পর অবশ্য বাকি দুনিয়া সেটাকে ব্যবহার করেনি। এটি আবিষ্কারের পর প্রথম ৮০ বছর শুধুই শ্রমিক, কাউবয় বা কৃষকরা ব্যবহার করতেন। কিন্তু ১৯৫০-এর দশকে চিত্রটা বদলে যায়। (History of Jeans)

হলিউড অভিনেতা জেমস ডিন (James Dean) তাঁর বিখ্যাত সিনেমা ‘রেবেল উইদাউট আ কজ়’-এ জিন্স পরে পর্দায় আসেন। এরপর মার্লিন মনরোর মতো অভিনেত্রীরাও জিন্স পরেন। রাতারাতি জিন্স হয়ে ওঠে তরুণ প্রজন্মের কাছে ‘বিদ্রোহ’ এবং ‘তারুণ্য’-এর প্রতীক। ৭০ এবং ৮০-র দশকে রক স্টার এবং হিপ্পি আন্দোলনের হাত ধরে জিন্স ছড়িয়ে পড়ে গোটা বিশ্বে।

এক নজরে: জিন্সের ঐতিহাসিক তথ্য

বিষয়তথ্য
আবিষ্কারকলিভাই স্ট্রস ও জ্যাকব ডেভিস
জন্ম সাল১৮৭৩ (২০ মে)
উৎপত্তিস্থলআমেরিকা (ক্যালিফোর্নিয়া ও নেভাডা)
আসল ব্যবহারকারীসোনার খনির শ্রমিকরা
মূল কাপড়ডেনিম (Denim)
প্রথম নামওয়েস্ট ওভারঅল (Waist Overalls)

১৮৭৩ সালে খনি শ্রমিকদের প্রয়োজনে যে মোটা কাপড়ের প্যান্ট তৈরি হয়েছিল, তা আজ ১৫০ বছর পেরিয়েও আমাদের নিত্যসঙ্গী। শ্রমিকদের ঘাম আর পরিশ্রমের ইতিহাস জড়িয়ে আছে এই নীল কাপড়ের ভাঁজে ভাঁজে। তবে এখন জিন্স নীল কাপড়ের পাশাপাশি অন্য রংয়েও এসেছে। তাই পরের বার যখন জিন্স পরবেন, মনে রাখবেন—আপনি শুধু একটি প্যান্ট পরছেন না, আপনি ইতিহাসের এক অবিচ্ছেদ্য অংশকে সঙ্গে নিয়ে চলছেন। (History of Jeans)


Unknown Story-কে ফেসবুক ও ইন্সটাগ্রামে ফলো করুন


Exit mobile version