রাজ্য দেশ বিদেশ খেলা খাবার ও রেসিপি লাইফস্টাইল ও স্বাস্থ্য প্রযুক্তি ও গ্যাজেটস অন্যান্য খবর Utility News

---Advertisement---

History of Kashmir: হিন্দু রাজার সিদ্ধান্তে 1949 সালে এদেশে, কীভাবে ভারতের অংশ হলো কাশ্মীর?

By Raja
Published on: October 21, 2025
History of Kashmir
---Advertisement---

কাশ্মীর, নামেই লুকিয়ে আছে প্রশান্তি। চারিদিকে পাহাড়, বরফ, ডাল লেক, পাইন গাছ, আকাবাঁকা পথ সব মিলিয়ে সত্যিই কাশ্মীর ভূস্বর্গ। একদিকে কাশ্মীর যেখানে ভারতের একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ, সেখানে কাশ্মীরের দিকে নজর পড়শি দেশ পাকিস্তানের। নিত্যদিন হামলা চলে। কিন্তু এই কাশ্মীর একটা সময় ভারত বা পাকিস্তানের অংশ ছিল না। তারা ছিল আলাদা। কিন্তু ১৯৪৭ সালে দেশভাগের সময়ে কাশ্মীর ভারতের অংশ হয়। কাশ্মীর ভারতের অংশ হলো কীভাবে? (How Kashmir became Part of India) জেনে নিন এই প্রতিবেদনে (History of Kashmir)।

দেশভাগ ও মহারাজের দ্বিধা: রাজ্যের স্বাধীনতা (১৯৪৭)

১৯৪৭ সালের অগস্ট মাসে যখন ইংরেজরা ভারতকে ভাগ করে তখন জন্ম হয় পাকিস্তানের। সেই সময় দেখা যায় মোট ৫৬২টি Princely States রয়েছে। ইংরেজ আমলে যাদের আলাদা নিয়ম, রাজা ছিল। দেখা গেল, ভারত দেশকে শক্তিশালী করতে গেলে এই ৫৬২টি রাজ্যকে এক করতে হবে। তাই তাদের সামনে তৎকালীন সরকার তিনটি বিকল্প দেয়: হয় ভারতে যোগ দাও, নয়তো পাকিস্তানে, অথবা স্বাধীন থাক। সেখানে গুরুত্বপূর্ণ ছিল জম্মু ও কাশ্মীর। (History of Kashmir)

জম্মু ও কাশ্মীরের অবস্থান

ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব: জম্মু ও কাশ্মীরের অবস্থান ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটির উত্তরে রাশিয়া (তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন), পূর্বে চিন এবং দক্ষিণে নবগঠিত দুটি দেশ—ভারত ও পাকিস্তান। আর কাশ্মীরের সৌন্দর্যের জন্য এটা পর্যটনের একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ফলে সকলের নজর ছিল। এই পরিস্থিতিতে কাশ্মীরের নিরাপত্তা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। (History of Kashmir)

নিজ়ামের শাসন থেকে ভারতের সিলিকন ভ্যালি, ঐতিহ্য ও আধুনিকতার অন্য নাম হায়দারাবাদ

জনসংখ্যার চিত্র: সেই সময়ে জম্মু ও কাশ্মীরের জনসংখ্যার প্রায় ৭৭% ছিলেন মুসলিম, যাদের দাবি ছিল, কাশ্মীর পাকিস্তানের অংশ হোক। সেই সময় রাজ্যের তৎকালীন রাজা মহারাজা হরি সিং নিজের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন। কাশ্মীরের রাজা হওয়ায় তাঁ সিদ্ধান্ত ছিল চূড়ান্ত। (How Kashmir became Part of India)

তবে মহারাজা হরি সিং প্রাথমিকভাবে স্বাধীন থাকতে চেয়েছিলেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, তাঁর রাজ্য একটি নিরপেক্ষ অবস্থানে থেকে উভয় দেশের কাছ থেকে সুবিধা নিতে পারবে।

How Kashmir became Part of India
ডাল লেক

স্ট্যান্ডস্টিল চুক্তি

কাশ্মীর স্বাধীন থাকার সিদ্ধান্ত নিয়ে ভারত ও পাকিস্তান দুই দেশের কাছেই স্ট্যান্ডস্টিল চুক্তির প্রস্তাব দেয়। এই চুক্তির অর্থ হলো, দেশভাগের আগে ব্রিটিশ ভারত সরকারের অধীনে যে প্রশাসনিক ব্যবস্থা (যেমন ডাক, টেলিগ্রাম, বাণিজ্য) চালু ছিল, তা অস্থায়ীভাবে নতুন প্রদেশগুলির সঙ্গেও বজায় থাকবে। এই চুক্তিতে পাকিস্তান দ্রুত সই করে। কারণ সেই সময়ে তাদের কোনও পরিকাঠামো ছিল না। কিন্তু ভারত সই করে না। ভারত সরকার জানিয়ে দেয় যে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত কোনও চুক্তি করবে না। (History of Kashmir)

পাকিস্তানের ষড়যন্ত্র ও আক্রমণ: অক্টোবর ১৯৪৭

স্ট্যান্ডস্টিল চুক্তির কিছুদিন পরেই পাকিস্তান সরকার কাশ্মীরে খাদ্য ও জ্বালানির সরবরাহ বন্ধ করে দেয়। চেষ্টায় ছিল খাদ্য ও অর্থের দিক থেকে কাশ্মীরকে চাপ দিয়ে নিজেদের দিকে নেবে। কিন্তু অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করার পরেও মহারাজ হরি সিং পাকিস্তানে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেননি। সেই সময়ে পাকিস্তান কাশ্মীর আক্রমণ করে।

Maharaja Hari Singh
মহারাজা হরি সিং

১৯৪৮ সালের ২২ অক্টোবর, পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী সশস্ত্র অবস্থায় কাশ্মীরে অনুপ্রবেশ করে। এই আক্রমণকারীরা মুজাফফরাবাদ এবং বারামুলার মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলিতে ব্যাপক গণহত্যা ও লুটপাট চালায়। তাদের উদ্দেশ্য ছিল দ্রুত কাশ্মীর দখল করে মহারাজ হরি সিংকে উৎখাত করা। একটা সময়ে মহারাজা হরি সিং বুঝতে পারেন তাঁর যা ক্ষমতা তাতে পাক সেনাকে আটকানো যাবে না এবং তাঁর সামনে তখন ভারতের কাছে সাহায্য চাওয়া ছাড়া আর কোনও রাস্তা ছিল না। (How Kashmir became Part of India)

Prince Anwar Shah Road-এর আনোয়ার শাহ কে? কেন তাঁর নামে রাস্তা? জেনে নিন ইতিহাস

How Kashmir Became Part of India: অ্যাকসেশন চুক্তি স্বাক্ষর: অবিচ্ছেদ্য বন্ধন (অক্টোবর ২৬, ১৯৪৭)

ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি দেখে মহারাজ হরি সিং তাঁর রাজ্যের প্রধানমন্ত্রী মেহের চাঁদ মহাজনকে দ্রুত দিল্লি পাঠান সাহায্যের জন্য। ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সর্দার বল্লভ ভাই প্যাটেল শর্ত দেন। জানান, সামরিক সাহায্য দেওয়ার আগে কাশ্মীরকে আইনত ভারতের অংশ হতে হবে। বিদেশি আক্রমণে সামরিক সাহায্য দিতে হলে আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে সেই ভূখণ্ডটিকে প্রথমে দেশের অংশ হতে হয়।

এর পর ২৬ অক্টোবর ১৯৪৭-এ মহারাজ হরি সিং অন্তর্ভুক্তি চুক্তি বা Instrument of Accession-IOA-তে সই করেন। এই চুক্তিই হলো ভারতে কাশ্মীরের অন্তর্ভুক্তি।

এই চুক্তির ফলে কাশ্মীর তিনটি প্রধান বিষয়ে ভারতের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করে: প্রতিরক্ষা, বিদেশনীতি এবং যোগাযোগ এবং বাকি সমস্ত বিষয়ে কাশ্মীর স্বায়ত্তশাসন বজায় রাখে।

চুক্তির পর ভারতীয় সেনা কাশ্মীরে গিয়ে পাকিস্তানি সেনাকে ভাগিয়ে দেয়। (How Kashmir became part of India)

How Kashmir became Part of India
ভূস্বর্গ

রাষ্ট্রপুঞ্জের হস্তক্ষেপ: জন্ম হলো নিয়ন্ত্রণরেখার

১ জানুয়ারি ১৯৪৮, ভারত সরকার কাশ্মীর নিয়ে রাষ্ট্রপুঞ্জের দ্বারস্থ হয়। মূলত পাকিস্তান সেনা কাশ্মীরের একটা অংশে বসেছিল। ভারতীয় সেনা সেই অংশ পর্যন্ত যাওয়া আগেই জওহরলাল নেহরু রাষ্ট্রপুঞ্জে যান। তিনি প্রমাণ করতে চেয়েছিলেন, ভারত অবৈধভাবে কিছু করছে না। তিনি চেয়েছিলেন রাষ্ট্রপুঞ্জের হস্তক্ষেপে পাকিস্তান যেন কাশ্মীরের ওই অংশ থেকে সরে যায়। কিন্তু পাকিস্তান সেনা সরানোর অনুরোধকে অস্বীকার করে। এরপর ১ জানুয়ারি ১৯৪৯ সালে দুই দেশ যুদ্ধবিরতি মেনে নেয় এবং তৈরি হ লাইন অফ কন্ট্রোল। অর্থাৎ, কাশ্মীরের মাঝে দুটো ভাগ। একটি অংশ ভারতের আর অন্যটি পাক অধিকৃত কাশ্মীর। ফলে আইনি দিক থেকে পুরো কাশ্মীর ভারতের অংশ হলেও রাষ্ট্রপুঞ্জের হস্তক্ষেপের জন্য এখন অর্ধেক কাশ্মীর পাকিস্তান দখল করে বসে আছে। (How Kashmir became Part of India)

কাশ্মীরের সংবিধান ও বিশেষ মর্যাদা

অ্যাকসেশন চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার পর সাংবিধানিক দিক থেকে জম্মু ও কাশ্মীরকে ভারতের সঙ্গে এক করার কাজ শুরু হয়।

৩৭০ ধারা (Article 370): যার প্রথম পদক্ষেপ ছিল ৩৭০ ধারা। ১৯৫০ সালে ভারতীয় সংবিধানে এই ধারা অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যা জম্মু ও কাশ্মীরকে একটি বিশেষ রাজ্যের মর্যাদা দেয়।
৩৭০ ধারার উদ্দেশ্য: এই ধারা নিশ্চিত করে যে, প্রতিরক্ষা, বিদেশনীতি এবং যোগাযোগ—এই তিনটি বিষয় ছাড়া অন্য কোনও আইন ভারত সরকার কাশ্মীরের ওপর প্রয়োগ করতে পারবে না, যদি না কাশ্মীর রাজ্য সরকার সম্মতি দেয়।
পূর্ণাঙ্গ ভারতীয় রাজ্য: সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জম্মু ও কাশ্মীরের নিজস্ব সংবিধান তৈরি হয় এবং এটি ভারতের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি পায়। (How Kashmir became Part of India)

যদিও এই ৩৭০ ধারা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয় ২০১৯ সালের অগস্ট মাসে এবং জম্মু ও কাশ্মীরের সরকার ভেঙে তাদের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল করে দেওয়া হয়। যার ফলে ভারতের বাকি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের আইন কাশ্মীরেও প্রযোজ্য হয়।


Unknown Story-কে ফেসবুক ও ইন্সটাগ্রামে ফলো করুন


FAQ

কাশ্মীর কবে এবং কোন চুক্তির মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের অংশ হয়?

জম্মু ও কাশ্মীরের তৎকালীন শাসক মহারাজা হরি সিং ২৬ অক্টোবর ১৯৪৭-এ ঐতিহাসিক ‘অন্তর্ভুক্তি চুক্তি’ (Instrument of Accession – IOA)-এ স্বাক্ষর করে কাশ্মীরকে আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের অংশ করে দেন।

মহারাজা হরি সিং প্রাথমিকভাবে কেন ভারতে যোগ দেননি?

১৯৪৮ সালের ২২ অক্টোবর, পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী সশস্ত্র অবস্থায় কাশ্মীরে অনুপ্রবেশ করে। এই আক্রমণকারীরা মুজাফফরাবাদ এবং বারামুলার মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলিতে ব্যাপক গণহত্যা ও লুটপাট চালায়। তাদের উদ্দেশ্য ছিল দ্রুত কাশ্মীর দখল করে মহারাজ হরি সিংকে উৎখাত করা। একটা সময়ে মহারাজা হরি সিং বুঝতে পারেন তাঁর যা ক্ষমতা তাতে পাক সেনাকে আটকানো যাবে না, এর পর তিনি ভারতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

ভারতীয় সংবিধানে ৩৭০ ধারা (Article 370) কাশ্মীরের জন্য কী ভূমিকা পালন করত?

ভারতীয় সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত ৩৭০ ধারা জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যকে একটি বিশেষ মর্যাদা প্রদান করেছিল। এই ধারার মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছিল যে, প্রতিরক্ষা, বিদেশনীতি এবং যোগাযোগ ছাড়া কেন্দ্রীয় সরকারের কোনও আইন কাশ্মীরের ওপর প্রয়োগ করতে হলে রাজ্য সরকারের সম্মতি প্রয়োজন হবে। তবে, এই ধারাটি ২০১৯ সালে বাতিল করা হয়।



Discover more from Unknown Story

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

---Advertisement---

Raja

লেখালেখি পছন্দ করেন। পেশাদার লিখিয়ে নন। নিজের কাজের পাশাপাশি এখন UnknownStory.in-এ লিখছেন।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now

Leave a Reply