Site icon Unknown Story

Mayong Black Magic Village: ভারতে রয়েছে এক রহস্য গ্রাম, যেখানে উধাও হয়ে যেত মানুষ, জানুন বিস্তারিত

Mayong Black Magic Village

ভারতে নানা ভাষা, নানা ধর্মের মানুষের বাস। বিশ্বের কোনও দেশে এত ভাষা, এত ধর্মের মানুষ একসঙ্গে থাকে কি না তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। আর এই বিপুল জনসংখ্যার সঙ্গে ভারতের কোনায় কোনায় রয়েছে রহস্য। আর সেই রহস্য খুঁজতে গেলে তালিকায় থাকবে অসম। পশ্চিমবঙ্গের পড়শি রাজ্য অসমের মরিগাঁও জেলার মায়ং গ্রাম পরিচিত ব্ল্যাক ম্যাজিক গ্রাম নামে (Mayong Black Magic Village)। বিষয়টি কী?

লোককথা অনুযায়ী, মায়ং-এর ওঝারা নাকি মন্ত্র পড়ে মানুষকে ভেড়া বা ছাগলে পরিণত করে দিতে পারতেন! মুঘল সেনাবাহিনীও নাকি এই গ্রামের নাম শুনলে ভয়ে কাঁপত। কিন্তু এই একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়ে মায়ং-এর আসল সত্যটা কী? এটি কি শুধুই কুসংস্কার, নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে কোনও বিজ্ঞান?

নামেই লুকিয়ে রহস্য

‘মায়ং’ নামের পিছনে রয়েছে রোমাঞ্চকর তথ্য।

Mayong Black Magic Village: হাড়হিম করা লোককথা

মায়ং নিয়ে এমন সব গল্প প্রচলিত আছে যা শুনলে যুক্তিবাদী মানুষেরও গা ছমছম করবে।

মানুষ থেকে পশু?

সবচেয়ে প্রচলিত বিশ্বাস হলো, এখানকার মন্ত্রতন্ত্র এত শক্তিশালী ছিল যে, মানুষকে পশুতে রূপান্তরিত করা যেত। স্থানীয় বয়োজ্যেষ্ঠদের মুখে শোনা যায়, কীভাবে কেউ মন্ত্র পড়ে বনের বাঘকে বশ মানাতেন।

অদৃশ্য হওয়ার মন্ত্র

কথিত আছে, মায়ং-এর সাধকরা ‘লুকি মন্ত্র’ জানতেন, যার সাহায্যে তাঁরা নিমেষেই অদৃশ্য হয়ে যেতে পারতেন।

মুঘল ফৌজের উধাও হয়ে যাওয়া

ইতিহাস বলছে, ১৩৩৭ সালে মহাম্মদ শাহ-এর ১ লক্ষ অশ্বারোহী সৈন্য অসম দখল করতে এসে এই মায়ং এলাকায় সম্পূর্ণ উধাও হয়ে গিয়েছিল। কোনও যুদ্ধ ছাড়াই এত বিশাল সেনাবাহিনী কীভাবে নিশ্চিহ্ন হলো, তা আজও এক অমীমাংসিত রহস্য। মুঘল সেনাপতিরা নাকি মায়ং-কে ‘জাদুবিদ্যার ও ভয়ের জায়গা’ বলে উল্লেখ করেছিলেন। (Mayong Black Magic Village)

নদীর উপরে আস্ত রেল স্টেশন, ভারতেই রয়েছে এই বিষ্ময়, জানুন কোথায়

জাদু নাকি চিকিৎসা বিজ্ঞান?

মায়ং-এর রহস্য খুঁজতে চেষ্টার খামতি ছিল না। এত বছর ধরে রহস্যের খোঁজ চলেছে। তাই গবেষকরা এর পিছনে অন্য কারণ খুঁজে পেয়েছেন। মায়ং আসলে ছিল প্রাচীন আয়ুর্বেদ এবং ভেষজ চিকিৎসার এক কেন্দ্র।

যাকে আমরা ‘জাদু’ ভাবছি, তা আসলে ছিল চিকিৎসকদের (যাঁদের স্থানীয় ভাষায় ‘বেজ’ বা ‘ওঝা’ বলা হয়) অসামান্য ভেষজ জ্ঞান। তাঁরা এমন সব গাছগাছড়া চিনতেন যা দিয়ে বড় বড় রোগ সারানো যেত। হয়তো অজ্ঞান করার কোনও ভেষজ প্রয়োগ করে তাঁরা শত্রুদের পরাস্ত করতেন, যা সাধারণ মানুষের কাছে ‘জাদু’ বলে মনে হতো। (Mayong Black Magic Village)

মায়ং ব্ল্যাক ম্যাজিক মিউজিয়াম (Mayong Central Museum)

২০০২ সালে এই গ্রামে পর্যটকদের জন্য একটি মিউজিয়াম বা সংগ্রহশালা তৈরি করা হয়। এখানে ঢুকলে আপনি দেখতে পাবেন:

ছবিটি প্রতীকী

এক নজরে মায়ং ভ্রমণ গাইড

বিষয়তথ্য
অবস্থানমরিগাঁও জেলা, অসম
গুয়াহাটি থেকে দূরত্বপ্রায় ৪০ কিলোমিটার
সেরা সময়নভেম্বর থেকে মার্চ
বিখ্যাত কেন?কালো জাদু এবং পবিতরা অভয়ারণ্য (Pobitora Wildlife Sanctuary)
নিকটতম এয়ারপোর্টলোকপ্রিয় গোপীনাথ বরদলৈ বিমানবন্দর, গুয়াহাটি
থাকার ব্যবস্থামায়ং পোবিয়া ইকো ক্যাম্প (Mayong Pobitora Eco Camp)

মায়ং কীভাবে যাবেন?

গুয়াহাটি থেকে সড়কপথে মায়ং-এর দূরত্ব ৫১ কিলোমিটার। দিনে দুটো ট্রেন যায় গুয়াহাটি স্টেশন থেকে। একটা সকাল সাড়ে ১০টা আর অন্যটা বিকেল ৬টার সময়। (Mayong Black Magic Village)

মুঘলদের দম্ভ চূর্ণ করে অসমীয়াদের লড়াইয়ের প্রতীক, সরাইঘাট এক্সপ্রেস যেন এক চলন্ত ইতিহাস

পর্যটন এবং আজকের মায়ং

আজকের মায়ং আর ভয়ের জায়গা নয়, বরং এটি একটি জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র। মানুষ এখন আর জাদুর ভয়ে নয়, বরং এখানকার ইতিহাস এবং পবিতরা অভয়ারণ্য (Pobitora Wildlife Sanctuary) দেখতে যান। পবিতরা হলো কাজিরঙার পর একশৃঙ্গ গন্ডারের সবচেয়ে বড় বাসস্থান। (Mayong Black Magic Village)

পর্যটকরা এখানে এসে স্থানীয় ওঝাদের সাথে কথা বলেন, তাঁদের ‘জাদু’ দেখেন এবং প্রাচীন পুঁথিগুলো দেখেন। প্রতি বছর এখানে ‘মায়ং পবিতরা ফেস্টিভ্যাল’ অনুষ্ঠিত হয়।

মায়ং কি সত্যিই জাদুর শহর? উত্তরটা হলো—হ্যাঁ এবং না। মানুষ ভল্লুক হয়ে যাওয়ার গল্পগুলো হয়তো মিথ, কিন্তু এখানকার মানুষের প্রাচীন আয়ুর্বেদ জ্ঞান এবং তন্ত্রসাধনার ইতিহাস অনস্বীকার্য। কুসংস্কারের চশমা সরিয়ে দেখলে মায়ং ভারতের সমৃদ্ধ ঐতিহ্যের এক অনন্য নিদর্শন। আপনি যদি রোমাঞ্চ ভালোবাসেন, তবে জীবনের একবার অন্তত এই রহস্যময় গ্রামে আপনার যাওয়া উচিত। (Mayong Black Magic Village)


Unknown Story-কে ফেসবুক ও ইন্সটাগ্রামে ফলো করুন


FAQ on Mayong Black Magic Village

মায়ং কি পর্যটকদের জন্য নিরাপদ?

হ্যাঁ, মায়ং এখন সম্পূর্ণ নিরাপদ। কালো জাদুর গল্পগুলো এখন শুধুই ইতিহাস এবং পর্যটনের অংশ। স্থানীয় মানুষজন পর্যটকদের সাথে খুব ভালো ব্যবহার করেন।

মায়ং-এ কি এখনো কালো জাদু হয়?

বর্তমানে মায়ং-এ ক্ষতিকারক কালো জাদুর চর্চা নেই। তবে কিছু স্থানীয় ওঝা বা বেজ এখনো আছেন, যাঁরা ভেষজ চিকিৎসা করেন এবং পর্যটকদের বিনোদনের জন্য কিছু হাতসাফাই বা ম্যাজিক দেখান।

কলকাতা থেকে কীভাবে মায়ং যাবো?

কলকাতা থেকে ট্রেন বা ফ্লাইটে গুয়াহাটি যেতে হবে। গুয়াহাটি থেকে গাড়ি ভাড়া করে বা বাসে মাত্র ১.৫ থেকে ২ ঘণ্টার মধ্যেই মায়ং পৌঁছানো যায়।


Exit mobile version