ইতিহাস থেকে বর্তমান সময়, যেই বিষয়টা ভারতের সঙ্গে জুড়ে আছে তা হলো মন্দির, তার সঙ্গে রয়েছে রহস্য (Mysterious Ancient Temples in India)। দক্ষিণ ভারতে রয়েছে সবচেয়ে বেশি মন্দির। বর্তমানে এ দেশের কোণায় কোণায় ছড়িয়ে আছে এমন সব প্রাচীন মন্দির, যেগুলোর নির্মাণশৈলী এবং সেখানে ঘটে চলা অলৌকিক ঘটনাগুলো আধুনিক বিজ্ঞানের সমস্ত যুক্তিকে চ্যালেঞ্জ জানায়। শুধু তাই-ই নয়। কয়েক হাজার বছর আগে প্রযুক্তি ছাড়া শুধু হাতের জাদুতে তৈরি করা হয়েছে মন্দিরগুলো। একটা পাথর থেকে একটা মন্দির হোক বা আলাদা আলাদা পাথর থেকে মন্দির। উদাহরণ রয়েছে প্রচুর। তবে এই মন্দিরের সঙ্গে জড়িয়ে অনেক রহস্য। যার কিনারা বিজ্ঞানও করতে পারেনি।
এই প্রতিবেদনে জেনে নিন ভারতের এমন পাঁচটা মন্দির যেখানে রয়েছে রহস্য। যা এখনও অজানা।
Table of Contents
Mysterious Ancient Temples in India: পুরীর জগন্নাথ মন্দির: যেখানে হাওয়া বয় উল্টো দিকে
ওডিশার পুরীতে অবস্থিত জগন্নাথ মন্দির কেবল হিন্দুদের পবিত্র তীর্থস্থানই নয়, এটি বিজ্ঞানের এক অমীমাংসিত রহস্য। এখানে প্রকৃতি নিজের নিয়ম বদলে ফেলে। বাঙালির অন্যতম পছন্দের ডেস্টিনেশন নিয়ে রয়েছে অনেক রহস্য। (Mysterious Ancient Temples in India)
- বিপরীত হাওয়া: সাধারণত সমুদ্রতীরবর্তী এলাকায় দিনের বেলা বাতাস সমুদ্র থেকে স্থলের দিকে আসে। কিন্তু পুরীতে এর ঠিক উল্টোটা ঘটে।
- পতাকার রহস্য: মন্দিরের চূড়ায় থাকা ধ্বজা বা পতাকা সবসময় বাতাসের গতির বিপরীত দিকে ওড়ে। এটি কেন হয়, তার কোনো ভৌগোলিক ব্যাখ্যা আজও মেলেনি।
- ছায়াহীন মন্দির: বলা হয়, দিনের যে কোনও সময়েই এই বিশাল মন্দিরের মূল গম্বুজের ছায়া মাটিতে পড়ে না।
- শব্দহীন সমুদ্র: মন্দিরের সিংহদুয়ার দিয়ে ভেতরে এক পা প্রবেশ করলেই সমুদ্রের গর্জনের শব্দ আর শোনা যায় না, কিন্তু এক পা বাইরে বেরোলেই আবার সব শোনা যায়। (Mysterious Ancient Temples in India)
ভারতে রয়েছে এক রহস্য গ্রাম, যেখানে উধাও হয়ে যেত মানুষ, জানুন বিস্তারিত
লেপাক্ষী মন্দির: শূন্যে ঝুলে থাকা স্তম্ভ
অন্ধ্রপ্রদেশের বীরভদ্র বা লেপাক্ষী মন্দির তার বিস্ময়কর স্থাপত্যের জন্য পরিচিত। এখানে মোট ৭০টি বিশাল পাথরের স্তম্ভ রয়েছে।
ঝুলন্ত স্তম্ভ (Hanging Pillar): এই ৭০টি স্তম্ভের মধ্যে একটি স্তম্ভ মাটিকে স্পর্শ করে না। এটি ছাদ থেকে ঝুলে আছে এবং মাটির সঙ্গে এর সামান্য ফাঁক রয়েছে। খালি চোখে দেখলেও সেই ফাঁকটা বোঝা যায়। ব্রিটিশ আমলে এক ইঞ্জিনিয়ার এটি সরানোর চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু একটি স্তম্ভ নাড়া দিলে পুরো মন্দিরের ভারসাম্য নষ্ট হতে শুরু করে। কীভাবে একটি পাথরের ভার শূন্যে ঝুলে আছে, তা আজও রহস্য।
কোনারকের সূর্য মন্দির: চুম্বকীয় শক্তির ভারসাম্য
ওডিশার কোনারকের সূর্য মন্দির এক সময় নাবিকদের জন্য আতঙ্কের কারণ ছিল। যদিও বর্তমানের মন্দিরের সেই মূল অংশটি আর আগের মতো নেই, তবে এর ইতিহাস চমকে দেওয়ার মতো। (Mysterious Ancient Temples in India)
৫২ টনের চুম্বক: লোককথা অনুযায়ী, এই মন্দিরের চূড়ায় ৫২ টনের একটি বিশাল চুম্বক ছিল এবং মন্দিরের পাথরের ভেতরে লোহার পাত বসানো ছিল। এই চুম্বকীয় শক্তির কারণেই মন্দিরের মূল মূর্তিকে শূন্যে ভাসমান রাখা হয়েছিল। এই চুম্বকের শক্তি এতটাই বেশি ছিল যে সমুদ্র দিয়ে যাওয়া জাহাজগুলোর কম্পাস কাজ করা বন্ধ করে দিত এবং জাহাজগুলো মন্দিরের দিকে টেনে আনত। পরে পর্তুগিজ নাবিকরা এটি সরিয়ে ফেলেন।
কৈলাস মন্দির, ইলোরা: পাহাড় কেটে তৈরি বিস্ময়
মহারাষ্ট্রের ইলোরা গুহায় অবস্থিত কৈলাস মন্দির পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ স্থাপত্য। এটি নিচ থেকে উপরে নয়, বরং একটি আস্ত পাহাড়কে ওপর থেকে নিচে কেটে তৈরি করা হয়েছে।
অসম্ভব নির্মাণ: আধুনিক ইঞ্জিনিয়ারদের মতে, বর্তমানের উন্নত ক্রেন বা ড্রিলিং মেশিন দিয়েও এই মন্দির তৈরি করতে কয়েকশো বছর লাগবে। কিন্তু সেই যুগে মাত্র ১৮ বছরে ৪ লক্ষ টন পাথর কেটে এই মন্দির বানানো হয়েছিল। মন্দিরের নিচে এমন কিছু সুড়ঙ্গ আছে যা সাধারণ মানুষের জন্য নিষিদ্ধ। অনেকে মনে করেন, এই মন্দির নির্মাণে মহাজাগতিক শক্তির হাত ছিল। (Mysterious Ancient Temples in India)
অনন্ত পদ্মনাভস্বামী মন্দির: নাগপাশা মন্ত্রে আবদ্ধ সপ্তম দুয়ার
কেরালার এই মন্দিরটি বিশ্বের সবচেয়ে ধনী মন্দির হিসেবে পরিচিত। মন্দিরের নিচে সাতটি গোপন কক্ষ রয়েছে যার মধ্যে ছয়টি খোলা সম্ভব হয়েছে এবং সেখান থেকে কয়েক লক্ষ কোটি টাকার ধনরত্ন উদ্ধার হয়েছে।
রহস্যময় বি-ভল্ট (B-Vault): সপ্তম কক্ষ বা ‘বি-ভল্ট’ আজও কেউ খুলতে পারেনি। এই দরজার গায়ে দুটি বিশাল সাপের ছবি খোদাই করা আছে। বিশ্বাস করা হয়, এটি কোনো চাবি দিয়ে নয়, বরং ‘নাগপাশা’ মন্ত্রের মাধ্যমে বন্ধ করা হয়েছে। কোনো সিদ্ধ পুরুষ যদি সঠিক ‘গরুড় মন্ত্র’ পাঠ করতে পারেন, তবেই এই দরজা খুলবে। যান্ত্রিক উপায়ে এটি খোলার চেষ্টা করলে বড় ধরণের প্রাকৃতিক বিপর্যয় বা অভিশাপ নামতে পারে বলে মনে করা হয়। (Mysterious Ancient Temples in India)
জ্বলছে 100 বছরেরও বেশি সময় ধরে, জেনে নিন Burning City of India-র গল্প
এক নজরে ভারতের রহস্যময় মন্দিরগুলোর বৈশিষ্ট্য
| মন্দিরের নাম | রাজ্য | প্রধান রহস্য |
| জগন্নাথ মন্দির | ওডিশা | বাতাসের বিপরীত দিকে পতাকা ওড়া এবং ছায়াহীন গম্বুজ। |
| লেপাক্ষী মন্দির | অন্ধ্রপ্রদেশ | শূন্যে ঝুলন্ত পাথরের স্তম্ভ। |
| কৈলাস মন্দির | মহারাষ্ট্র | একটি আস্ত পাহাড় ওপর থেকে নিচে কেটে নির্মাণ। |
| পদ্মনাভস্বামী মন্দির | কেরালা | মন্ত্রে আবদ্ধ অভিশপ্ত বা রহস্যময় সপ্তম কক্ষ। |
| জ্বলামুখী মন্দির | হিমাচল প্রদেশ | কোনো জ্বালানি ছাড়াই পাথরের খাঁজ থেকে অনবরত জ্বলতে থাকা শিখা। |
কেন বিজ্ঞান আজও নীরব?
আধুনিক বিজ্ঞান অনেক কিছুর ব্যাখ্যা দিলেও এই মন্দিরগুলোর নির্মাণশৈলী এবং ভৌগোলিক অবস্থান এমনভাবে পরিকল্পনা করা হয়েছে যা প্রাচীন ভারতীয়দের উন্নত ইঞ্জিনিয়ারিং এবং মহাজাগতিক জ্ঞানের পরিচয় দেয়। অনেক বিজ্ঞানী মনে করেন, আমাদের পূর্বপুরুষদের কাছে এমন কোনও শক্তি বা সূত্র ছিল যা আমরা সময়ের সঙ্গে হারিয়ে ফেলেছি। অন্যদিকে বিজ্ঞান দিয়ে এই মন্দিরের রহস্য উন্মোচন করতে গেলে তখন মানুষের ভাবাবেগে আঘাত লাগতে পারে। তাই এটা নিয়ে আর খুব একটা বেশি কাটাছেঁড়া করা হয়নি। (Mysterious Ancient Temples in India)
Unknown Story-কে ফেসবুক ও ইন্সটাগ্রামে ফলো করুন

