বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তথা বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান সম্প্রতি মৌলবাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন (India Bangladesh Relations)। সোমবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বিএনপির শরিক দলগুলির নেতাদের সম্মানে আয়োজিত নৈশভোজের আগে তিনি বলেন, “৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর একটি গুপ্ত বাহিনী ধীরে ধীরে আত্মপ্রকাশ করেছে। আন্দোলনের সময় তাদের কোথাও দেখা যায়নি, অনেকেই আত্মগোপনে ছিল। নির্বাচনের পর থেকেই তাদের দিশাহীন মন্তব্য করতে দেখা যাচ্ছে, এখনও তারা বিভিন্ন ধরনের বক্তব্য দিয়ে চলেছে।”
তবে তারেক রহমানের এই বক্তব্যের মধ্যেই নতুন করে আলোচনায় এসেছে ভারতের জন্য বাংলাদেশ সরকারের সাম্প্রতিক দুই গুরুত্বপূর্ণ প্রেস-সংক্রান্ত নিয়োগ। কূটনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
দিল্লিতে প্রেস মিনিস্টার হিসেবে সাইদুর রহমান
ভারতের রাজধানী দিল্লিতে বাংলাদেশের নতুন প্রেস মিনিস্টার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন সাংবাদিক মো. সাইদুর রহমান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের প্রাক্তন ছাত্র সাইদুর দীর্ঘদিন ধরে দৈনিক ইত্তেফাক-এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সম্প্রতি তাঁর নিয়োগের সরকারি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে।
তবে তাঁর অতীতের একাধিক সামাজিক মাধ্যমের পোস্ট ও লেখালেখি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সমালোচকদের দাবি, গত কয়েক বছরে বিভিন্ন সময়ে তিনি ভারত ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে লক্ষ্য করে একাধিক কড়া মন্তব্য করেছেন। ২০২৪ সালের একাধিক ফেসবুক পোস্টে তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের কর্মকাণ্ডের জন্য ভারতের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে ভারতের সমর্থনের অভিযোগও করেন।
শুধু তাই নয়, ২০২৪ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের বিজয় দিবসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির শুভেচ্ছা বার্তা নিয়েও তিনি সমালোচনামূলক মন্তব্য করেছিলেন। এই ঘটনাগুলিই এখন নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
কলকাতায় ফার্স্ট সেক্রেটারি (প্রেস) হিসেবে মারুফা রহমান
একইভাবে কলকাতায় বাংলাদেশের ফার্স্ট সেক্রেটারি (প্রেস) পদে নিয়োগ পেয়েছেন সাংবাদিক মারুফা রহমান। তিনি বাংলাদেশের বেসরকারি সংবাদমাধ্যম নিউজ ২৪-এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং এই পদে প্রথম মহিলা কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব নিতে চলেছেন।
তাঁর ক্ষেত্রেও অতীতের কিছু মন্তব্য ও সামাজিক মাধ্যমের পোস্ট নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। সমালোচকদের অভিযোগ, বিভিন্ন সময়ে তিনি ভারত সম্পর্কিত বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন, ‘সেভেন সিস্টার্স’ প্রসঙ্গে মন্তব্য করেছেন এবং অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস ও তাঁর প্রেস সচিব শফিকুল আলমের কিছু বক্তব্যের প্রকাশ্য সমর্থন জানিয়েছেন।
কূটনৈতিক মহলে উঠছে প্রশ্ন
পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, দিল্লি ও কলকাতার মতো গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক কেন্দ্রে এমন ব্যক্তিদের নিয়োগ, যাঁদের অতীতের বক্তব্য নিয়ে বিতর্ক রয়েছে, তা ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ, প্রেস মিনিস্টার ও ফার্স্ট সেক্রেটারি (প্রেস)-এর অন্যতম দায়িত্ব হল সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে সমন্বয় রক্ষা এবং দুই দেশের মধ্যে ইতিবাচক যোগাযোগ গড়ে তোলা।
এই প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন উঠছে, একদিকে যখন তারেক রহমান প্রকাশ্যে মৌলবাদ ও উগ্রপন্থার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কথা বলছেন, অন্যদিকে বিতর্কিত অতীতের ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক দায়িত্ব দেওয়া কি তাঁর ঘোষিত অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ? বিষয়টি নিয়ে কূটনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই নানা আলোচনা শুরু হয়েছে।

