Site icon Unknown Story

Eden Gardens History: উদ্যান থেকে বিশ্বের সেরা স্টেডিয়াম, জেনে নিন ইডেন গার্ডেন্সের ইতিহাস

Eden gardens History

বিশ্বে ক্রিকেটের নাম আসলে প্রথম সারিতে থাকবে ইডেন গার্ডেন্সের নাম। ব্রিটিশদের তৈরি করা ইডেন গার্ডেন্স এখন পরিচিত ক্রিকেটের নন্দন কানন নামে। ভারতের পাশাপাশি বাঙালিদের আবেগের নাম ইডেন। টিভির পর্দায় খেলা দেখা আর ইডেনের গ্যালারিতে বসে ‘ইন্ডিয়া… ইন্ডিয়া…’ ধ্বনি তোলার মধ্যে যে আকাশ-পাতাল তফাত, তা একমাত্র একজন ক্রিকেটপ্রেমীই বুঝবেন। কিন্তু ঐতিহ্যবাহী এই ইডেনের ইতিহাস কী (Eden Gardens History)?

ইডেন গার্ডেন্স নামের মাঝে রয়েছে গার্ডেন্স। অর্থাৎ, বাগান। কীভাবে গঙ্গার ধারের এক বাগান হয়ে উঠল বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম শক্তিশালী কেন্দ্র? জেনে নেওয়া যাক-

Eden Gardens History: নেপথ্যে দুই বোন

১৮৩৬ থেকে ১৮৪২ সাল পর্যন্ত ভারতের গভর্নর জেনারেল ছিলেন লর্ড অকল্যান্ড। তাঁর দুই বোন ছিলেন— এমিলি ইডেন এবং ফ্যানি ইডেন। তাঁরা গঙ্গার পাড়ের এই জায়গাটিতে প্রায়ই হাঁটতে আসতেন। তাঁদের নাম অনুসারেই এই বিশাল বাগানের নাম রাখা হয় ‘ইডেন গার্ডেন্স’।

শুরুতে এটি ছিল শুধুই একটি উদ্যান। ১৮৬৪ সালে এই উদ্যানের একটি অংশে ক্রিকেট খেলার মাঠ তৈরি করা হয়। আর সেই থেকেই শুরু হয় ইডেন গার্ডেন্সে ক্রিকেট খেলা। বর্তমানে এটিই ভারতের সবচেয়ে পুরোনো ক্রিকেট স্টেডিয়াম।

এই পার্ক থেকে শুরু স্টেডিয়াম

বাঁশের ব্যারিকেড থেকে আধুনিক কোলিসিয়াম: ইডেনের বিবর্তন

আজকের ইডেন গার্ডেন্স আর সত্তরের দশকের ইডেনের মধ্যে আমূল পরিবর্তন এসেছে।

শুরুর দিনগুলো: প্রথমদিকে ইডেনে কোনও কংক্রিটের গ্যালারি ছিল না। ছিল কাঠের গ্যালারি এবং বাঁশের ব্যারিকেড। তখন দর্শকাসন ছিল অনেক বেশি, প্রায় ১ লক্ষের কাছাকাছি মানুষ খেলা দেখতে পারতেন।

১৯৮৭ বিশ্বকাপ: রিলায়েন্স কাপ বা ১৯৮৭-র বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে ইডেনের চেহারা বদলাতে শুরু করে। শুরু হয় ফ্লাডলাইটের খেলা। (Eden Gardens History)

২০১১ সালে সংস্কার: ২০১১ সালের বিশ্বকাপের আগে ইডেনকে নতুনভাবে সাজানো হয়। দর্শকদের জন্য প্লাস্টিকের বাকেট সিট বসানো হয়। এর ফলে দর্শক আসন সংখ্যা ১ লক্ষ থেকে কমে ৬৬,০০০-এ নেমে আসে। বর্তমান CAB সচিব সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ইডেনের দর্শক সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে।

ইতিহাসের সাক্ষী ইডেন

ইডেনের ঘাসে লড়া প্রতিটি ম্যাচেই ইতিহাস লেখা হয়। তবে এমন কিছু ম্যাচ আছে যা ক্রিকেট বিশ্বের মানচিত্র বদলে দিয়েছে।

২০০১ সালে ভারত বনাম অস্ট্রেলিয়া টেস্ট (দ্য গ্রেটেস্ট কামব্যাক)

সেই সময় স্টিভ ওয়ার অপরাজেয় অস্ট্রেলিয়াকে থামিয়ে দিয়েছিল সৌরভের ভারত। ফলো-অন করার পরেও ভিভিএস লক্ষ্মণ (২৮১) এবং রাহুল দ্রাবিড়ের (১৮০) পার্টনারশিপ এবং হরভজন সিংয়ের হ্যাটট্রিক ছিল টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে সেরা কামব্যাক। এই ম্যাচটিই শিখিয়েছিল চোখ রাঙিয়ে কীভাবে জিততে হয়। আসলে তৎকালীন অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় বরাবরই লড়াই করা শিখিয়েছিলেন। ঘরের মাঠে সেটা ছিল একটা উদাহরণ। (Eden Gardens History)

রোহিত শর্মার ২৬৪ (২০১৪)

শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে রোহিত শর্মার সেই দানবীয় ইনিংস আজও সমর্থকদের মনে রয়েছে। একদিনের ক্রিকেটে ব্যক্তিগত ২৬৪ রান করেছিলেন তিনি। 

১৯৯৬ বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল (কান্না ও বিতর্ক)

ভারত বনাম শ্রীলঙ্কা। সেই ম্যাচ আজও ভারতীয় ফ্যানদের বুকে কাঁটার মতো বিঁধে আছে। বিনোদ কাম্বলির কান্না এবং দর্শকদের বিশৃঙ্খলার জন্য ম্যাচ রেফারি শ্রীলঙ্কাকে জয়ী ঘোষণা করেন। এটি ইডেনের ইতিহাসের একটি কালো অধ্যায়।

lord’s Stadium-এর 8 ফুটের ঢালেই খেলা হয় ম্যাচ, কেন এই বিপুল ঢাল? নেপথ্যে কারণ কী?

এক নজরে ইডেন গার্ডেন্স

বিষয়তথ্য
প্রতিষ্ঠাকাল১৮৬৪ সাল
দর্শক ক্ষমতাপ্রায় ৬৬,০০০ (বর্তমান)
মালিকানাভারতীয় সেনাবাহিনী (Eastern Command)
পরিচালনাক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল (CAB)
প্রথম টেস্ট ম্যাচ১৯৩৪ (ভারত বনাম ইংল্যান্ড)
প্রথম ওডিআই (ODI)১৯৮৭ (ভারত বনাম পাকিস্তান)
প্রান্তের নাম (Ends)হাই কোর্ট এন্ড, প্যাভিলিয়ন এন্ড
কিউরেটরসুজন মুখার্জি (বর্তমান)

১৬ই আগস্ট ১৯৮০: ইডেনের বুকে কালো দিন

ইডেন গার্ডেন্স মানেই যে শুধু উল্লাস, তা নয়; এর বুকে জড়িয়ে আছে এক গভীর ট্র্যাজেডিও। ১৯৮০ সালের ১৬ই আগস্ট ইডেনের ইতিহাসের সবচেয়ে কালো দিন। সেদিন ক্রিকেট নয়, ছিল ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগানের ফুটবল ম্যাচ। গ্যালারিতে প্রবল উত্তেজনা ও বিশৃঙ্খলা থেকে ঘটা ধস্তাধস্তিতে পদপিষ্ট হয়ে ১৬ জন সমর্থকের মৃত্যু হয়। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর দীর্ঘদিন ইডেনে বড় কোনো ম্যাচ আয়োজন বন্ধ রাখা হয়েছিল। আজও ১৬ই আগস্ট দিনটিকে ময়দানের ‘ফুটবল লাভার্স ডে’ হিসেবে পালন করা হয়। ইডেনের কংক্রিটের নিচে চাপা পড়ে থাকা এই কান্নার ইতিহাস আজও ভোলেননি কলকাতার ক্রীড়াপ্রেমীরা। (Eden Gardens History)

ইডেন গার্ডেন্সের পুরোনো ছবি

ইডেন সম্পর্কে ৫টি অজানা তথ্য (Unknown Facts abot Eden Gardens)

লর্ডসের আগেই ইডেন: ক্রিকেটের মক্কা বলা হয় লর্ডসকে, কিন্তু লর্ডসের বর্তমান গ্রাউন্ড তৈরির আগেই ইডেন গার্ডেন্স প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

ঘণ্টা বাজানোর প্রথা: লর্ডসের অনুকরণে ইডেনেও এখন ম্যাচ শুরুর আগে বেল বা ঘণ্টা বাজানোর প্রথা চালু হয়েছে। কপিল দেব থেকে শুরু করে রিকি পন্টিং— অনেকেই এই ঘণ্টা বাজিয়েছেন। একে বলা হয় ইডেন বেল।

সেনাবাহিনীর জমি: অনেকেই জানেন না, ইডেন গার্ডেন্সের জমির আসল মালিক কিন্তু ‘ইস্টার্ন কম্যান্ড’ বা ভারতীয় সেনাবাহিনী। সিএবি (CAB) সেনাবাহিনীর কাছ থেকে লিজ় নিয়ে স্টেডিয়ামটি চালায়। শুধু ইডেন নয়, ইস্টবেঙ্গল, মোহনবাগান, মহামেডান সহ ময়দানে প্রতিটা মাঠের মালিক সেনাবাহিনী। প্রতিটা ক্লাব লিজ় নেয়। (Eden Gardens History)

ফুটবল ম্যাচ: সত্তর ও আশির দশকে ইডেনে বড় বড় ফুটবল ম্যাচও হতো। পেলে (Pele) যখন কসমসের হয়ে মোহনবাগানের বিরুদ্ধে খেলতে এসেছিলেন, সেই ঐতিহাসিক ম্যাচটি ইডেনেই হয়েছিল।

ক্রিকেট সিরিজ়ের নাম ‘ছাই’? কোথা থেকে এল The Ashes? জানুন 143 বছরের ইতিহাস

ইডেন গার্ডেন্স শুধু ইট-পাথরের স্টেডিয়াম নয়, এটি বাঙালির হৃদস্পন্দন। সৌরভের দাদাগিরি থেকে রোহিতের রেকর্ড, কিংবা সচিনের শেষ টেস্ট সিরিজ়— সবকিছুর সাক্ষী এই মাঠ। সময়ের সঙ্গে ইডেন আধুনিক হয়েছে, কিন্তু তার চরিত্র বদলায়নি। আজও যখন ৬৬,০০০ দর্শক একসাথে চিৎকার করে, তখন সেই গর্জনে বিপক্ষ দলের মেরুদণ্ড দিয়ে ঠান্ডা স্রোত বয়ে যায়। লর্ডস যদি ক্রিকেটের ‘জেন্টলম্যান’ হয়, তবে ইডেন হলো ক্রিকেটের ‘প্যাশন’। (Eden Gardens History)


Unknown Story-কে ফেসবুক ও ইন্সটাগ্রামে ফলো করুন


FAQ

ইডেন গার্ডেন্সে কি মেট্রো করে যাওয়া যায়?

হ্যাঁ, ইডেন গার্ডেন্সের সবচেয়ে কাছের মেট্রো স্টেশন হলো এসপ্ল্যানেড (Esplanade)। সেখান থেকে ১০-১৫ মিনিট হাঁটলেই স্টেডিয়ামে পৌঁছানো যায়।

ইডেন গার্ডেন্সের মালিক কে?

ইডেন গার্ডেন্স স্টেডিয়ামটি পরিচালনা করে ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল (CAB), তবে জমির মালিকানা ভারতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রক বা সেনাবাহিনীর হাতে।

ইডেন গার্ডেন্সে প্রথম ফ্লাডলাইট কবে বসে?

১৯৯৩ সালে সিএবি জুবিলি টুর্নামেন্ট (হিরো কাপ)-এর সময় ইডেনে প্রথম ফ্লাডলাইট বসানো হয়।


Exit mobile version