কথিত আছে বয়স একটা সংখ্যামাত্র। এই কথিতকে অনেকেই ঠিক প্রমাণ করেছেন। যেই তালিকায় নতুন সংযোজন ফ্যাবিও। ব্রাজ়িলিয়ান এই গোলকিপার সম্প্রতি বিশ্ব ফুটবলে রেকর্ড তৈরি করেছেন (Fabio world record)। তিনি হলেন বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ফুটবল ম্যাচ খেলা প্লেয়ার।
জেনে নিন ফ্যাবিওর ব্যাপারে-
Table of Contents
Fabio world record: ১৩৯১টা ম্যাচ
তাঁর পুরো নাম ফাবিও দেভিসন লোপেস মাসিয়েল, সংক্ষেপে ফ্যাবিও নামে পরিচিত। গত মঙ্গলবার তিনি তাঁর পেশাদার কেরিয়ারের ১,৩৯১তম ম্যাচটি খেললেন। এর মাধ্যমে তিনি ভেঙে দিয়েছেন ইংল্যান্ডের কিংবদন্তি গোলকিপার পিটার শিল্টনের দীর্ঘদিনের রেকর্ড। ১৯৯৭ সালে শিল্টনের অবসরের বছরে পেশাদার ফুটবলে পা রাখেন ফ্যাবিও। কাকতালীয় হলেও, প্রায় তিন দশক পর সেই শিল্টনের ১৩৯০ ম্যাচের রেকর্ডটি ভেঙে দিলেন এই ব্রাজ়িলিয়ান। ফ্লুমিনেন্সের হয়ে এই কীর্তি করলেন। পাশাপাশি ফ্যাবিও হলেন একমাত্র প্লেয়ার যিনি ব্রাজ়িলের বাইরে কোনও ফুটবল ক্লাবে খেলেননি।
ফ্যাবিওর এই রেকর্ড কেবল একটি সংখ্যা নয়, এটি তাঁর নিরলস প্রচেষ্টা, ধৈর্য এবং ফুটবলের প্রতি ভালোবাসার উদাহরণ। ৪৪ বছর বয়সেও একজন খেলোয়াড় কীভাবে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পারফর্ম করতে পারেন, তার জ্বলন্ত প্রমাণ হলেন তিনি (Fabio world record)।
ফ্যাবিওর কেরিয়ার
ফ্যাবিওর পেশাদার ফুটবল জীবন শুরু হয় ১৯৯৭ সালে উনিয়াও বান্দেইরান্তের হয়ে। সেখান থেকে তিনি যোগ দেন ভাস্কো দা গামায়। সেখান থেকে চলে যান আতলেতিকো পারানেন্সে দলে।
তাঁর কেরিয়ারে সোনালী অধ্যায় শুরু হয় ক্রুজেইরোতে, যেখানে তিনি ২০০৫ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত কাটিয়েছেন। ক্রুজেইরোর হয়ে তিনি মোট ৯৭৬টি ম্যাচ খেলেন, যা ক্লাবটির ইতিহাসের রেকর্ড। এরপর ২০২২ সাল থেকে তিনি ফ্লুমিনেন্সের হয়ে খেলছেন। এখানেও তিনি একই ফর্ম বজায় রেখেছেন। মনে রাখতে হবে তাঁর বয়স ৪৪ (Fabio world record)।
lord’s Stadium-এর 8 ফুটের ঢালেই খেলা হয় ম্যাচ, কেন এই বিপুল ঢাল? নেপথ্যে কারণ কী?
এই দীর্ঘ পথচলায় ফ্যাবিওকে অসংখ্যবার কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। চোট, অফফর্ম, কিংবা নতুন প্লেয়ারদের যোগদান —কোনও কিছুই তাঁকে টলাতে পারেনি। পাশাপাশি বয়স বাড়লেও তাঁর ফিটনেস, খেলার প্রতি নিষ্ঠা আরও বেড়েছে। এই কারণের জন্যই তিনি এখনও পেশাদার ফুটবলের সর্বোচ্চস্তরে খেলে যাচ্ছেন।
ফ্যাবিওর রেকর্ড গড়ার মুহূর্ত
ব্রাজ়িলের ঐতিহাসিক মারাকানা স্টেডিয়ামে ফ্লুমিনেন্স অ্যামেরিকা দে ক্যালির বিপক্ষে খেলতে নামে। গত মঙ্গলবার এই ম্যাচটা ছিল ফ্যাবিওর কেরিয়ারের ১৩৯১ তম ম্যাচ। তিনি যখন মাঠে নামেন তখন দর্শকরা তাঁকে ব্রাজ়িলের সেরা গোলকিপার হিসেবে বর্ণনা করেন। ফ্যাবিও এই ঐতিহাসিক ম্যাচে একটিও গোল না খেয়ে ক্লিনশিট রাখলেন।
ফ্যাবিওর সাফল্যের নেপথ্য কাহিনী
তাঁর এই সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছে কঠোর পরিশ্রম, শৃঙ্খলা এবং ফুটবলের প্রতি তার গভীর শ্রদ্ধা। ফুটবল বিশ্বে অনেকে সাফল্য পেলেও ফ্যাবিওর স্তরে পৌঁছতে পারেননি কেউ। প্রায় ৩০ বছর ধরে সেটা ধরে রাখাটা নজির।
ফ্যাবিও তাঁর দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ব্রাজ়িলের শীর্ষ লিগ কোপা দো ব্রাজিল, কোপা লিবার্তাদোরেস সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শিরোপা জিতেছেন। ক্রুজেইরোতে তিনি ১৭ বছর কাটিয়ে কিংবদন্তী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন ((Fabio world record))।
Wimbledon: চলছে 225 বছর ধরে, কেন উইম্বলডনে সাদা পোশাক পরেন খেলোয়াড়রা?
ফ্যাবিওর উত্তরাধিকার এবং ভবিষ্যতের দিকনির্দেশ
ফ্যাবিও শুধু একজন খেলোয়াড় নন, তিনি অনুপ্রেরণাও। তাঁর এই রেকর্ডটি শুধু তাঁর ব্যক্তিগত অর্জন নয়, এটি ফুটবলের দীর্ঘসূত্রতার এক নতুন সংজ্ঞা তৈরি করেছে। ফ্যাবিও প্রমাণ করেছেন যে, বয়স শুধু একটি সংখ্যা মাত্র।
তাঁর এই কীর্তি তরুণ ফুটবলারদের জন্য একটি বার্তা। দ্রুত সাফল্যের পিছনে না ছুটে দীর্ঘমেয়াদী ক্যারিয়ারের দিকে মনোযোগ দেওয়া উচিত। বর্তমানে কুইক কমার্স বা রেডি টু ইটের দুনিয়ায় যেটা পাওয়া খুব কষ্টসাধ্য।
সাফল্যর সঙ্গে রয়েছে রেকর্ড নিয়ে বিতর্ক
ফ্যাবিও তাঁর ক্লাব কেরিয়ারে সাফল্য অর্জন করলেও, ব্রাজিল জাতীয় দলের হয়ে খুব বেশি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাননি। তাঁর সময়ে ব্রাজ়িলে বেশ কয়েকজন বিশ্বমানের গোলরক্ষক ছিলেন, যেমন দিদা এবং মার্কোস। তবে তা সত্ত্বেও ফ্যাবিওর ক্লাব রেকর্ডটি একটি আন্তর্জাতিক চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ব্রাজ়িলিয়ান মিডিয়া এবং ফ্লুমিনেন্স ক্লাব ফ্যাবিওকে আনুষ্ঠানিকভাবে রেকর্ডের মালিক ঘোষণা করেছে। কিন্তু FIFA বা CONMEBOL এই রেকর্ডটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়নি (Fabio world record)।
শুধু ফ্যাবিও একা নন, পিটার শিল্টনের রেকর্ড নিয়েও কিছু বিতর্ক ছিল, তিনি ১৩৮৭টি ম্যাচ খেললেও গিনেস বুকে সংখ্যাটা ছিল ১৩৯০।
ফ্যাবিওর এই অসাধারণ অর্জন কেবল একটি রেকর্ড নয়, এটি একটি জীবনের গল্প—যেখানে রয়েছে কঠোর পরিশ্রম, ত্যাগ এবং অদম্য জেদ। ব্রাজ়িলের ফুটবলে তাঁর অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তিনি দেখিয়েছেন যে, যদি লক্ষ্য অটুট থাকে, তাহলে কোনও বাধাই তাঁকে আটকাতে পারে না। তাঁর এই রেকর্ডটি আগামী দিনে বহু ফুটবলারকে তাঁদের স্বপ্নের পেছনে ছুটতে অনুপ্রাণিত করবে। ফ্যাবিও শুধু একজন ফুটবলার নন, তিনি একজন কিংবদন্তি, যিনি তার অধ্যবসায় এবং একনিষ্ঠতা দিয়ে ফুটবল ইতিহাসের পাতায় নিজের নাম স্বর্ণাক্ষরে লিখিয়েছেন।

