প্রতিবারের মতো, এবার FIFA বিশ্বকাপের জন্য বিশেষ বল সামন আনল (FIFA World Cup 2026 Ball)। ২০২৬ সালের FIFA বিশ্বকাপের জন্য বল আত্মপ্রকাশ করল। এবার বিশ্বকাপের বলের নাম দেওয়া হয়েছে ট্রাইওন্ডা (Trionda)। কী বিশেষত্ব এই বলের? কেন এই নাম? জেনে নিন এই প্রতিবেদনে।
ফুটবল সমর্থকরা চার বছর অপেক্ষা করেন এই একটা ইভেন্টের জন্য। সেটা ফুটবল বিশ্বকাপ। ২০২২ সালে আয়োজক ছিল কাতার। এবারের আয়োজক হচ্ছে আমেরিকা, ক্যানাডা ও মেক্সিকো। ফলে এটি হতে চলেছে ঐতিহাসিক। কারণ ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবার তিনটে দেশ আয়োজন করছে। তাই এবারের বলকেও স্পেশাল করা হয়েছে।
Table of Contents
দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বকাপের বল তৈরি করছে Adidas, এই নিয়ে টানা ১৫ বার FIFA বিশ্বকাপের বল তৈরি করল। এবারে বলের নাম দেওয়া হয়েছে ‘ট্রাইওন্ডা’। এই বল কেবল গতি বা অ্যাকশন নিয়ন্ত্রণ করবে না, এটিতে রয়েছে তিন দেশের সংষ্কৃতির ছাপ। সঙ্গে রয়েছে প্রযুক্তি। এটা নিয়ে অ্যাডিডাসের কর্তা স্যাম হ্যান্ডি বলেছেন, “প্রতিটি ছোটো জিনিসই বড় প্রভাব ফেলে। খোদাই করা নকশা, স্তরযুক্ত গ্রাফিক্স এবং উজ্জ্বল রং এই বলকে অন্যগুলোর থেকে আলাদা করেছে। এখন পর্যন্ত এটাই আমাদের তৈরি করা সবচেয়ে সুন্দর এবং আকর্ষণীয় ফিফা বিশ্বকাপের বল।”
ট্রাইওন্ডা: নামের অর্থ, তাৎপর্য ও বিস্তারিত বিবরণ (FIFA World Cup 2026 Ball)
২০২৬ বিশ্বকাপ আয়োজিত হচ্ছে ১১টি আমেরিকান শহর, দুটি ক্যানাডিয়ান শহর এবং তিনটি মেক্সিকান শহরে। এই বিশাল ভৌগোলিক বিস্তৃতি এবং সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে একসূত্রে বাঁধার প্রধান মাধ্যম হলো এই ‘ট্রাইওন্ডা’ বল।
ট্রাইওন্ডা নামের নেপথ্যের ভাবনা
ট্রাইওন্ডা নামটি এসেছে দুটি স্প্যানিশ শব্দ থেকে — ‘ট্রাই’ ও ‘ওন্ডা’।
‘ট্রাই’ (Tri) মানে হলো তিন (Three)। এটি সরাসরি তিনটি আয়োজক দেশ—মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ক্যানাডা এবং মেক্সিকোকে নির্দেশ করে।
‘ওন্ডা’ (Onda) মানে হলো ঢেউ (Wave)। এটি তিনটি দেশের মধ্যে ফুটবলের প্রবাহকে বোঝানো হয়েছে।
নকশা এবং রঙের ব্যবহার
ট্রাইওন্ডা বলের নকশা দিয়ে এই তিন দেশের ঐক্যকে তুলে ধরা হয়েছে। বলে রয়েছে লাল, সবুজ ও নীল রং। লাল অর্থ ক্যানাডা, সবুজ হলো মেক্সিকো ও নীল অর্থাৎ আমেরিকা। মেক্সিকোর প্রতীক হিসেবে রয়েছে ঈগল। ক্যানাডার প্রতীক হলো মেপল পাতা এবং আমেরিকার প্রতীক তারা। (FIFA World Cup 2026 Ball)
সবচেয়ে আকর্ষণীয় সংযোজন হলো বলটিতে থাকা সোনালি রঙের ছোঁয়া। এই সোনালি রং বিশ্বকাপ ট্রফির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেছে এবং এটি স্পষ্ট মনে করিয়ে দেয় যে, এই বলটি ফুটবলের সর্ববৃহৎ মঞ্চের জন্য তৈরি।
Kolkata Derby: 1921 থেকে 2025, ইতিহাসের পাতায় দেখে নিন বাঙালির আবেগের বড় ম্যাচ
প্রযুক্তির শিখরে ট্রাইওন্ডা
ট্রাইওন্ডা বলটি কেবল সৌন্দর্যেই সেরা নয়, এটি প্রযুক্তিগত দিক থেকেও অ্যাডিডাসের শ্রেষ্ঠ উদ্ভাবন। ২০২৬ বিশ্বকাপ হবে ফুটবল প্রযুক্তির ক্ষেত্রে একটি নতুন বিপ্লবের সাক্ষী। দেখে নিন ট্রাইওন্ডা বলে কী কী ফিচার রয়েছে?
কানেক্টেড বল প্রযুক্তি ও ৫০০ হার্জ সেন্সর
ট্রাইওন্ডার সবচেয়ে বড় নতুনত্ব হলো অ্যাডিডাসের কানেক্টেড বল প্রযুক্তি। বলের ভিতরে একটি IMU – Inertial Measurement Unit সেন্সর বসানো হয়েছে, যা প্রতি সেকেন্ডে ৫০০ হার্জ ডেটা রেটে তথ্য সংগ্রহ করে। এই সেন্সরটি VAR ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের রিয়েল-টাইম তথ্য সরবরাহ করে। এর ফলে রেফারি যদি কোনও সিদ্ধান্তের জন্য VAR-এর সাহায্য নেন, তা হলে তাঁকে ফুটেজের জন্য অপেক্ষা করতে হবে না। দ্রুত পেয়ে যাবেন। (FIFA World Cup Ball)
সেমি-অটোমেটেড অফসাইড প্রযুক্তি (SAOT)
৫০০ হার্জ সেন্সর বলের কিক-পয়েন্টকে নিখুঁতভাবে চিহ্নিত করতে সাহায্য করবে। এই ডেটা সরাসরি SAOT সিস্টেমকে সরবরাহ করা হবে, যা দ্রুত সময়ের মধ্যে অফসাইডের সিদ্ধান্ত নেওয়া নিশ্চিত করবে। এতে ম্যাচে এক্সট্রা টাইমের সংখ্যা কমবে।
কঠিন পরিস্থিতি চিহ্নিতকরণ
হ্যান্ডবল বা ফাউলের মতো পরিস্থিতিতে বলের সঙ্গে খেলোয়াড়ের হাতের বা শরীরের অন্য অংশ স্পর্শ করলে সেই ডেটাও চলে যাবে রেফারির কাছে। (FIFA World Cup 2026 Ball)
Indian Hockey: সোনালি যুগ থেকে বর্তমান সময়, ভারতীয় হকির উত্থান-পতনের গল্প
গোললাইন প্রযুক্তি
এই প্রযুক্তিটা পুরোনো, বলটি সম্পূর্ণভাবে গোললাইন অতিক্রম করেছে কি না, তা তৎক্ষণাৎ জানা যাবে।
অ্যাডিডাস ট্রাইওন্ডা-তে একটি নতুন চার-প্যানেল নকশা ব্যবহার করেছে, যার ফলে বল ভালো করে বায়ুকে কাটিয়ে যেতে পারবে। এবং সব পরিস্থিতিতে একইরকম ব্যবহার করবে। কাতার বিশ্বকাপের বল আল রিহলাতে প্যানেলের সংখ্যা কমানো হয়েছিল, এ বার সেটা বাড়ানো হয়েছে।
গ্রিপ নিশ্চিতকরণ
বলের উপর খোদাই করা প্রতীক ও গ্রাফিক্সগুলো এমনভাবে ডিজ়াইন করা হয়েছে যাতে সব পরিস্থিতিতে বল ভালো করে গ্রিপ করা যায়। এতে গোলকিপাররা সুবিধা পাবেন।
২০২৬ বিশ্বকাপের চ্যালেঞ্জ
২০২৬ সালের টুর্নামেন্টটি পরিবেশগত দিক থেকে চ্যালেঞ্জের। কারণ তিনটে দেশে আলাদা আলাদা আবহাওয়া। যেমন, উত্তর আমেরিকা। এখানকার আবহাওয়া অত্যন্ত বৈচিত্র্যময়। এখানে যেমন সমুদ্রপৃষ্ঠের কাছাকাছি স্টেডিয়াম রয়েছে, তেমনই উচ্চতায় রয়েছে স্টেডিয়াম। ফলে বায়ুচাপের তারতম্য রয়েছে।
তাপমাত্রার পার্থক্য রয়েছে, যেমন ডালাসে গরম থাকে এবং নিউ ইয়র্ক আর্দ্র।
এই বলের সাফল্য ফুটবলের সরঞ্জাম তৈরিতে নতুন মানদন্ড তৈরি করবে। এর মাধ্যমে প্রমাণিত হবে, প্রযুক্তিগত নির্ভুলতা, পরিবেশগত দায়িত্ব এবং সাংস্কৃতিক প্রতিনিধিত্ব একসঙ্গে চলতে পারে। অ্যাডিডাস ট্রাইওন্ডা ২০২৬ সালের প্রতিটি গোল, প্রতিটি সেভ এবং প্রতিটি জয়ের নীরব সাক্ষী হবে, যা বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি দর্শকের স্মৃতিতে চিরকালের জন্য খোদাই হয়ে থাকবে। (FIFA World Cup 2026 Ball)
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের বল ‘ট্রাইওন্ডা’, এক মহাদেশীয় ঐক্যের আহ্বান। এর নকশায় তিনটি দেশের সাংস্কৃতিক চেতনা, এর প্রযুক্তিতে ফুটবলের ইতিহাসে সবচেয়ে নির্ভুল ডেটা এবং এর উপকরণে পরিবেশের প্রতি দায়িত্বশীলতার ছাপ থাকবে। এই বলই বিশ্বকে দেখাবে, কীভাবে প্রযুক্তি এবং মানবিক মূল্যবোধ একত্রিত হয়ে একটি বিশ্ব ইভেন্টকে আরও সুন্দর, নির্ভুল এবং অনুপ্রেরণামূলক করে তুলতে পারে।
Unknown Story-কে ফেসবুক ও ইন্সটাগ্রামে ফলো করুন
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
২০২৬ FIFA বিশ্বকাপের বলের নাম কী?
ট্রাইওন্ডা (Trionda)
ট্রাইওন্ডা (Trionda) বল কারা তৈরি করেছে?
অ্যাডিডাস (Adidas)
ট্রাইওন্ডা (Trionda) শব্দের অর্থ কী?
ট্রাইওন্ডা নামটি এসেছে দুটি স্প্যানিশ শব্দ থেকে — ‘ট্রাই’ ও ‘ওন্ডা’।
‘ট্রাই’ (Tri) মানে হলো তিন (Three)। এটি সরাসরি তিনটি আয়োজক দেশ—মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ক্যানাডা এবং মেক্সিকোকে নির্দেশ করে।
‘ওন্ডা’ (Onda) মানে হলো ঢেউ (Wave)। এটি তিনটি দেশের মধ্যে ফুটবলের প্রবাহকে বোঝানো হয়েছে।
২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের আয়োজক কে?
আমেরিকা, ক্যানাডা ও মেক্সিকো

