রাজ্য দেশ বিদেশ খেলা খাবার ও রেসিপি লাইফস্টাইল ও স্বাস্থ্য প্রযুক্তি ও গ্যাজেটস অন্যান্য খবর Utility News

---Advertisement---

Real Betis Teddy Bear Toss: ফুটবল গ্যালারি থেকে ‘পুতুল বৃষ্টি’, দুঃস্থদের মুখে হাসি ফোটাতে অভিনব উদ্যোগ সমর্থকদের

By Raja
Published on: December 22, 2025
Real Betis
---Advertisement---

ফুটবল মানেই কি শুধু গগনবিদারী চিৎকার আর গ্যালারির উন্মাদনা? ফুটবল মানে টেডি বিয়ারের বৃষ্টিও (Real Betis Teddy Bear Toss)। আমাদের শহর কলকাতার বুকে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে যখন বড় ম্যাচ থাকে, তখন এক অদ্ভুত ছবি দেখা যায়। দর্শকদের হাতে জলের বোতল রাখা বারণ, হেলমেট বা ব্যাগ নিয়ে ঢোকাও নিষিদ্ধ। প্রশাসন ভয় পায়—যদি মাঠের ভেতরে বোতল বা ব্যাগ ফুটবলারদের দিকে ছুঁড়ে মারবেন না তো সমর্থকরা? অতীতে এমন তিক্ত অভিজ্ঞতার সাক্ষী থেকেছে কলকাতা ফুটবল। যুবভারতী থেকে হাজার মাইল দূরে স্পেনের এক ফুটবল ক্লাব আমাদের শেখাচ্ছে, গ্যালারি থেকে মাঠে শুধু ঘৃণা নয়, হতে পারে পুতুল বৃষ্টিও (Real Betis Teddy Bear Toss)।

Real Betis Teddy Bear Toss: যখন মাঠজুড়ে শুরু হয় ‘পুতুল-বৃষ্টি’

স্প্যানিশ ক্লাব Real Betis। তাদের ঘরের মাঠের গল্পটা কলকাতার ঠিক উল্টো। সেখানেও সমর্থকরা গ্যালারি থেকে মাঠে জিনিস ছুঁড়ে মারেন, কিন্তু সেই দৃশ্য দেখলে আপনার চোখে জল আসবে, রাগে শরীর রি-রি করে উঠবে না। কারণ, সেখানে গ্যালারি থেকে বৃষ্টির মতো ঝরে পড়ে হাজার হাজার নরম ‘সফট টয়’ বা পুতুল।

দারিদ্র্য পৃথিবীর এক অভিশাপ। একদল মানুষের কাছে যখন উৎসব মানে বিলাসিতা, অন্যদলের কাছে তখন দু-বেলা অন্ন জোটানোই দায়। উৎসবের আলো যখন বিত্তশালীদের ঘরে জ্বলে, তখন কতশত শিশু ছেঁড়া কাঁথায় শুয়ে স্বপ্ন দেখে—যদি একটা পুতুল থাকত! সেই সব নিঃস্ব শিশুদের মলিন মুখে হাসি ফোটাতেই রিয়াল বেতিসের এই আশ্চর্য উদ্যোগ।

Real Betis Teddy Bear Toss
কচিকাঁচাদের হাতেও থাকে পুতুল

২০১৮: একটি স্বপ্নের জন্ম

গল্পটা শুরু হয়েছিল ২০১৮ সালে। ক্লাবের সমাজসেবী সংগঠন ঠিক করল, বড়দিনের খুশিতে কোনও শিশুই যেন বাদ না পড়ে। কিন্তু ক্লাবের একার পক্ষে তো সবার কাছে পৌঁছনো সম্ভব নয়! তাই ডাক দেওয়া হলো ফুটবলপ্রেমীদের। ঠিক হলো, বড়দিনের আগে ক্লাবের শেষ হোম ম্যাচে সমর্থকরা নিজেদের সঙ্গে করে নিয়ে আসবেন পুতুল।

ম্যাচ শুরুর আগে যখন জায়ান্ট স্ক্রিনে কাউন্টডাউন শুরু হয়—৩, ২, ১… অমনি দেখা যায় এক অবিশ্বাস্য দৃশ্য। গ্যালারি থেকে হাজার হাজার পুতুল ডানা মেলে উড়ে আসছে সবুজ ঘাসের দিকে। চারপাশ রঙিন হয়ে ওঠে মখমলের সেই খেলনায়। মাঠের কর্মীরা পরম মমতায় কুড়িয়ে নেন সেই উপহারগুলো, যা পরে পৌঁছে যায় অনাথ আশ্রম কিংবা দুঃস্থ শিশুদের হাতে। সেই থেকে প্রতি বছর নিয়ম করে সমর্থকরা এটা করে থাকেন। ২৫ ডিসেম্বরের আগে ঘরের মাঠে শেষ যেই ম্যাচটা দল খেলে সেই ম্যাচেই এই কাজ করা হয়।

রইল 10টা AI Christmas Photo Prompt, ব্যবহার করুন আর সেলিব্রিটি হয়ে উঠুন সোশ্যাল মিডিয়ায়

২০২৪: রেকর্ড ভাঙা ভালোবাসা

দিন দিন এই ভালোবাসার জোয়ার বাড়ছে। ২০২৪ সালের ক্রিসমাসের আগে ভালেকানোর বিরুদ্ধে ম্যাচে দেখা যায় এক দৃশ্য যা আগে কেউ দেখেনি। গ্যালারি থেকে পুতুলগুলো যখন আসছিল, মনে হচ্ছিল আকাশ থেকে স্বর্গীয় কোনও আশীর্বাদ ঝরছে। বিপক্ষ দলের সমর্থকরাও সেদিন নিজেদের শত্রু ভুলে মেতে উঠেছিলেন এই মানবিক উৎসবে। রিয়াল বেতিসের এই ‘পুতুল বৃষ্টির’ ঢেউ এখন পৌঁছে গেছে তুরস্কের বেসিকটস ক্লাবেও। সেখানেও ভূমিকম্পে সর্বস্ব হারানো শিশুদের জন্য এভাবেই ভালোবাসার ডালি সাজিয়ে দেন সমর্থকরা।

Real Betis Teddy Bear Toss
পুতুল বৃষ্টির পরের ছবি

শুধু Real Betis নয়। যেই ম্যাচে পুতুলের বৃষ্টি করা হয় সেই ম্যাচ স্পেনের একাধিক ক্লাবের সমর্থকরা ভিড় করেন। বার্সেলোনা, রিয়াল মাদ্রিদ থেকে শুরু করে ছোট বড় সব ক্লাবের সমর্থকরা সেই নির্দিষ্ট ম্যাচে রিয়াল বেতিসের স্টেডিয়ামে থাকেন এবং যে যার ক্ষমতা অনুযায়ী পুতুল নিয়ে যান এবং কাউন্টডাউন শেষে পুতুল ছুড়ে দেন মাঠের দিকে।

কলকাতায় যেখানে আমরা জলের বোতল লুকিয়ে স্টেডিয়ামে ঢুকতে চাই, সেখানে রিয়াল বেতিসের ভক্তরা বুকের মাঝে পুতুল আগলে স্টেডিয়ামে ঢোকেন। শর্ত একটাই—পুতুলে কোনও ব্যাটারি থাকা চলবে না, যাতে কোনো শিশু আঘাত না পায়।

Real Betis Teddy Bear Toss
পুতুল বৃষ্টির সময়ের ছবি

ফুটবলকে বলা হয় ‘জীবন-মরণের চেয়েও বড় খেলা’। রিয়াল বেতিস প্রমাণ করে দিল, ফুটবল শুধু গোল করার খেলা নয়, ফুটবল হলো হারানো শৈশবকে ফিরিয়ে দেওয়ার নাম। যুবভারতীর লোহার গেটগুলো কবে এমন ভালোবাসার জন্য খুলে দেওয়া হবে, সেই অপেক্ষায় হয়তো বাংলার ফুটবলও প্রহর গুনছে।


Unknown Story-কে ফেসবুক ও ইন্সটাগ্রামে ফলো করুন



Discover more from Unknown Story

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

---Advertisement---

Raja

লেখালেখি পছন্দ করেন। পেশাদার লিখিয়ে নন। নিজের কাজের পাশাপাশি এখন UnknownStory.in-এ লিখছেন।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now

Leave a Reply