ঘিবলি দিয়ে শুরু, আর এখন সেটা এসে ঠেকেছে নতুন নতুন শাড়ি নিয়ে। কাপল হোক বা সিঙ্গেল ফটো। সোশ্যাল মিডিয়া খুললেই সব জায়গায় AI দিয়ে তৈরি ছবির ভিড়। তবে এই AI-এর মাধ্যমে ছবি বানানো বা AI প্ল্যাটফর্মগুলোকে ছবি দেওয়া নিয়ে অনেকে ভ্রু কোঁচকাচ্ছেন। AI-কে ছবি দেওয়া কি ঠিক? কী রয়েছে নিয়মে? এই প্রতিবেদনে আলোচনা করব ChatGPT ও Gemini-এর সঙ্গে ছবি শেয়ার করা ঠিক? কী রয়েছে সংস্থাগুলোর নিয়মে (AI Tools Safety)।
Table of Contents
গত কয়েক বছরে AI মডেলগুলোর উন্নতির ফলে এগুলো এখন শুধু টেক্সট নয়, ছবিও বুঝতে পারে। আপনি ঠিকঠাক প্রম্পট দিলে মনের মতো ছবি করে দিতে পারে। পাশাপাশি ছবিতে থাকা কোনও জিনিসের ব্যাপারে জানা যায় এক ক্লিকে। কারও কাছে এটা কাজে, আবার কারও কাছে এটা মজার। তবে প্রত্যেকেই AI মডেলগুলো ব্যবহারের আগে কি পড়ে নিয়েছেন সংস্থার গোপনীয়তা নীতি? কী রয়েছে সেখানে?
ChatGPT-তে ছবি ব্যবহারের নীতি (AI Tools Safety)
চ্যাটজিপিটি থেকে কোনও বিষয় জানার থেকে শুরু করে রিসার্চ, নিজের পছন্দমতো ছবি বানানো সবকিছুই চলে। যেমন ঘিবলি ট্রেন্ড প্রথম শুরু হয় এই চ্যাটজিপিটি দিয়েই। তাই এখন সবকিছুতেই সকলে এই অ্যাপ ব্যবহার করছেন।
ডেটা ব্যবহার: চ্যাটজিপিটির সংস্থা ওপেনএআই জানিয়েছে তারা তাদের AI মডেলকে আরও ভালো করে তৈরি ও নির্ভুল করতে ব্যবহারকারীদের দেওয়া তথ্য, যার মধ্যে ছবিও থাকে, ব্যবহার করতে পারে। নতুন অ্যাকাউন্ট খোলার সময়ে এই শর্ত মানতে হয়।
তবে ওপেনএআই তাদের প্ল্যাটফর্মে সংবেদনশীল বা ব্যক্তিগত ছবি আপলোড না করার পরামর্শ দেয়। যদি কোনও ছবিতে কোনও ব্যক্তির নাম, ঠিকানা বা অন্য গোপন তথ্য থাকে সেটাও বারণ করা হয়।
অনলাইন পেমেন্টে বিপদ, UPI Fraud থেকে বাঁচতে কী করবেন? রইল 10 পয়েন্ট
Gemini এবং ছবি ব্যবহারের নীতি
গুগল-এর তৈরি Gemini ও একটি এআই মডেল, যা টেক্সট, কোড, অডিও এবং ছবির মতো একাধিক ধরনের তথ্য বিশ্লেষণ করতে পারে। Gemini-কে ছবি দিলে তা সেই ছবিটির বিষয়বস্তু এবং তার সঙ্গে সম্পর্কিত তথ্য বিশ্লেষণ করতে পারে। গুগলের নিজস্ব প্রোডাক্ট হওয়ায় এটির জনপ্রিয়তা আরও বেশি।
- ডেটা ব্যবহার: ওপেনএআইয়ের মতো গুগলও তাদের ব্যবহারকারীর দেওয়া ডেটা ব্যবহার করে তাদের মডেলকে উন্নত করে। তাদের নীতি অনুযায়ী, আপনি যখন Gemini-কে কোনো ইনপুট দেন, তখন সেই ডেটা বিশ্লেষণ করে ও সেটিকে ব্যবহার করে নিজেদের আরও উন্নিত করে।
- নিরাপত্তা: তবে নিরাপত্তার প্রশ্নে গুগল আপোস করে না। আপনার যদি অ্য়ান্ড্রয়েড ফোন হয় এবং আপনি যদি জিমেইল ব্যবহার করেন তা হলে আপনার ডেটাও রয়েছে গুগলের কাছে। গুগল তার ব্যবহারকারীদের ডেটা সুরক্ষার জন্য কঠোর নিয়ম মেনে চলে। তারা ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য গোপন রাখতে বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করে। তবে, গুগলও জানিয়েছে সংবেদনশীল বা গোপনীয় তথ্য আপলোড করা উচিত নয়।
AI-কে ছবি দেওয়া কি নিরাপদ? (Is It Safe to Upload own Photos to AI)
এই প্রশ্নটা এখন সকলের। বিশেষ করে যেভাবে AI টুলগুলোর ব্যবহার বাড়ছে ততই এই প্রশ্নের গুরুত্বও বাড়ছে। আপনার তথ্য নিরাপদ কি না এটি নির্ভর করে আপনি কোন ধরনের ছবি দিচ্ছেন এবং কেন দিচ্ছেন তার উপর। এআই মডেলগুলো আমাদের জীবন সহজ করার জন্য তৈরি হয়েছে।
আসলে AI প্ল্যাটফর্মে দেওয়া প্রতিটি ছবি তাদের সার্ভারে জমা হয়। প্রতিটা সংস্থা তাদের তথ্য সুরক্ষার জন্য একাধিক কড়া পদক্ষেপ নেয়। নিরাপত্তার জন্য একাধিক লেয়ার ব্যবহার করে। কিন্তু অনেক সময়ে ডেটা ব্রিচের মতো ঘটনা ঘটে। এটা হলে শুধু AI সংস্থা নয়, বিশ্বের একাধিক সংস্থাই এর কবলে পড়ে। কথায় আছে না, সাবধানের মার নেই। তাই ঝুঁকি না নিয়ে নিজের এমন কিছু ছবি বা তথ্য দেবেন না, যেটা কোনও কারণে ডেটা ব্রিচের কবলে পড়লে আপনি বিপদে পড়তে পারেন। ট্রেন্ডে গা ভাসানোর আগে এটা মাথায় রাখা দরকার।
একটি ছবি আপনি যদি আপনার ফোন দিয়ে তোলেন, তা হলে সেই ছবির মেটাডেটা সেভ হয়ে যায়। যেমন ছবিটা কবে, কখন ও কোথায় তোলা হয়েছিল। কোন ফোন দিয়ে তোলা হয়েছিল সব দেখানো হয়। ফলে আপনি ছবি আপলোড করলে সেই তথ্যগুলো চলে যায় AI সংস্থাগুলোর কাছে। একই জিনিস প্রযোজ্য আপনি যখন ফেসবুকে ছবি আপলোড করেন তখনও।
Ai Trending Picture: মাত্র 5 মিনিটে বানিয়ে নিন ভাইরাল Ai ছবি, রইল Step-by-Step গাইড
কোন ধরনের ছবি AI-কে দেওয়া উচিত নয়?
এই নিয়ে কোনও নির্দিষ্ট নিয়ম নেই। প্রতিটা সংস্থার আলাদা আলাদা নিয়ম আছে। যেমন মেটা AI-তে সব ছবি দেওয়া যায় এবং আপনি কোনও জনপ্রিয় ব্যক্তির ছবি চাইলে তারা বানিয়ে দেয়। Gemini বা ChatGPT-তে সেটা হয় না। দেখে নিন আপনি কোন কোন ছবি আপলোড করবেন না-
- ব্যক্তিগত পরিচয়পত্র: আধার কার্ড, পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স বা কোনও সরকারি পরিচয়পত্রের ছবি AI-কে দেবেন না। এই ডকুমেন্টসগুলোতে আপনার নাম, ঠিকানা, জন্ম তারিখের মতো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থাকে। এগুলো হ্যাকারদের কাছে পৌঁছলে মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে।
- আর্থিক নথি: ব্যাঙ্ক স্টেটমেন্ট, ক্রেডিট কার্ড, ডেবিট কার্ড বা অন্য কোনও আর্থিক নথির ছবি দেবেন না। এই তথ্যগুলো আপনার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খালি করে দিতে পারে।
- ব্যক্তিগত ছবি: চেষ্টা করবেন আপনার ঘনিষ্ঠ ছবি বা কোনও আপত্তিকর ছবি AI-কে না দিতে। কোনও কারণে ডেটা ব্রিচ হলে সেগুলো হ্যাকারদের হাতে যেতে পারে।
- স্বাস্থ্য সংক্রান্ত তথ্য: আপনার কোনো মেডিকেল রিপোর্ট বা স্বাস্থ্য সংক্রান্ত তথ্যের ছবি আপলোড করবেন না। এই তথ্যগুলি ব্যক্তিগত এবং গোপন রাখা উচিত।
- অফিসিয়াল ডকুমেন্টস: আপনার কোম্পানির কোনও গোপনীয় বা পেশাগত নথিপত্র, চুক্তিপত্র বা অন্য গুরুত্বপূর্ণ কাগজের ছবি AI-কে দেওয়া থেকে বিরত থাকুন।
AI-কে ছবি দেওয়ার সময় কিছু সতর্কতা
আপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য AI ব্যবহারের সময় কিছু সাধারণ নিয়ম মেনে চলা উচিত।
- শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় তথ্য দিন: আপনি যে প্রশ্নটি জিজ্ঞাসা করতে চান, শুধু সেইটুকু তথ্যই ছবিতে রাখুন। অপ্রয়োজনীয় বা ব্যক্তিগত তথ্য বাদ দিন।
- AI-এর শর্তাবলী পড়ুন: আপনি যে এআই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করছেন, তার প্রাইভেসি পলিসি এবং শর্তাবলী ভালোভাবে পড়ুন।
- ডেটা মুছে দিন: যদি সম্ভব হয়, তাহলে ছবি আপলোড করার পর চ্যাট হিস্টরি থেকে সেই ছবিটি মুছে দিন।
AI আমাদের জীবনকে সহজ করেছে। আগে ফটোশপ দিয়ে যেই কাজ করা যেত, এখন AI দিয়েই সেটা করা যাচ্ছে। পাশাপাশি এখন কোনও তথ্য খুঁজতে লম্বা সময় ধরে গুগলে সার্চ করতে হয় না। AI প্ল্য়াটফর্মগুলো নেট খুঁজে সেই তথ্য বের করে দেয়। এই প্রযুক্তির সুবিধা নিতে হলে অবশ্যই এর ঝুঁকির দিকগুলো সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে। যেটা AI-কে দেওয়ার দরকার সেটাই দিন। অপ্রয়োজনীয় তথ্য দেবেন না। সতর্ক হলেই বিপদ এড়ানো যাবে।
Unknown Story-কে ফেসবুক ও ইন্সটাগ্রামে ফলো করুন
FAQ
AI-কে ছবি দেওয়ার সময় কী কী খেয়াল রাখবেন?
শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় তথ্য দিন, AI-এর শর্তাবলী পড়ুন, ডেটা মুছে দিন
কোন ধরনের ছবি AI-কে দেওয়া উচিত নয়?
ব্যক্তিগত পরিচয়পত্র, আর্থিক নথি, ব্যক্তিগত ছবি, স্বাস্থ্য সংক্রান্ত তথ্য, অফিসিয়াল ডকুমেন্টস।
AI-কে ছবি দেওয়া কি নিরাপদ?
আপনার তথ্য নিরাপদ কি না এটি নির্ভর করে আপনি কোন ধরনের ছবি দিচ্ছেন এবং কেন দিচ্ছেন তার উপর। AI প্ল্যাটফর্মে দেওয়া প্রতিটি ছবি তাদের সার্ভারে জমা হয়। প্রতিটা সংস্থা তাদের তথ্য সুরক্ষার জন্য একাধিক কড়া পদক্ষেপ নেয়। নিরাপত্তার জন্য একাধিক লেয়ার ব্যবহার করে। কিন্তু অনেক সময়ে ডেটা ব্রিচের মতো ঘটনা ঘটে। এটা হলে শুধু AI সংস্থা নয়, বিশ্বের একাধিক সংস্থাই এর কবলে পড়ে। কথায় আছে না, সাবধানের মার নেই। তাই ঝুঁকি না নিয়ে নিজের এমন কিছু ছবি বা তথ্য দেবেন না, যেটা কোনও কারণে ডেটা ব্রিচের কবলে পড়লে আপনি বিপদে পড়তে পারেন। ট্রেন্ডে গা ভাসানোর আগে এটা মাথায় রাখা দরকার।

