রাজ্য দেশ বিদেশ খেলা খাবার ও রেসিপি লাইফস্টাইল ও স্বাস্থ্য প্রযুক্তি ও গ্যাজেটস অন্যান্য খবর Utility News

---Advertisement---

Driving License Online Apply: আর নয় দালালচক্র, নিজেই আবেদন করে বানিয়ে নিন ড্রাইভিং লাইসেন্স

By Raja
Published on: September 8, 2025
Driving License Online Apply
---Advertisement---

‘সরকারি কাজ করতে গেলেই ঘুষ দিয়ে হয়’। বাজারে এই একটা কথার খুব প্রচলিত। আর বছরের পর বছর ধরে এই ছবিটা দেখার পর এই কথার প্রচলন হওয়াই স্বাভাবিক। বরাবরই দেখা গিয়েছে কিছু কাজের ক্ষেত্রে ঘুষ বা দালালদের দাপট থাকে। এগুলো সবচেয়ে বেশি যেখানে থাকে সেটা হচ্ছে ড্রাইভিং লাইসেন্স তৈরিতে। সেটা ছিল একটা কঠিন কাজ, তবে এ বার আর ড্রাইভিং লাইসেন্স তৈরি করা কঠিন নয়। নিজেই বানিয়ে ফেলতে পারেন ড্রাইভিং লাইসেন্স। কোনও দালাল, ঘুষের দরকার নেই। কী ভাবে বানাবেন? (Driving License Online Apply) জেনে নিন এই প্রতিবেদনে-

অনলাইনের দুনিয়ায় যেখানে মাসের পর মাস ব্যাঙ্কের ব্রাঞ্চে না গিয়েই সব কাজ হয়ে যাচ্ছে সেখানে দাঁড়িয়ে লাইসেন্সের মতো কাজও অনলাইনে হচ্ছে। আসলে মানুষের দৈনন্দিন কাজকে সহজ করার জন্য সরকারের এই পদক্ষেপ। কিন্তু এর প্রচারের অভাবে অধিকাংশ মানুষ দালালদের শরণাপন্ন হচ্ছে। কী ভাবে করবেন লাইসেন্সের জন্য আবেদন? জেনে নিন-

ড্রাইভিং লাইসেন্সের প্রথম ধাপ: লার্নার লাইসেন্সের আবেদন (Driving License Online Apply)

ড্রাইভিং লাইসেন্স যেটা নিয়ে আপনি গাড়ি বা বাইক চালাতে পারবেন সেটা আপনি একবারে পাবেন না। তার আগে আপনাকে দেওয়া হবে লার্নার লাইসেন্স। অর্থাৎ, শিক্ষানবিশ লাইসেন্স। এটি একটি অস্থায়ী লাইসেন্স, যা আপনাকে ড্রাইভিং শিখতে সাহায্য করবে। অর্থাৎ, এই লাইসেন্স নিয়ে আপনি ড্রাইভিং শিখতে পারবেন। এর মেয়াদ ৬ মাস হয়।

ধাপ ১: পরিবহন পোর্টাল ভিজ়িট করুন

সবার প্রথমে আপনাকে ভারতের সড়ক পরিবহণ ও জনপথ মন্ত্রকের পোর্টালে যেতে হবে। parivahan.gov.in এটা ওয়েবসাইট।

ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে, ‘Online Services’ ট্যাবের নিচে ‘Driving Licence Related Services’ অপশনে ক্লিক করুন। এরপর রাজ্যের নাম ‘West Bengal’ বেছে নিন (অন্য রাজ্যের বাসিন্দা হলে আপনি আপনার রাজ্যের নাম বেছে নিন)।

ধাপ ২: আবেদনের ফর্ম পূরণ

রাজ্য নির্বাচন করার পর, একটি নতুন পেজ খুলবে। এখানে ‘Apply for Learner Licence’ অপশনটি বেছে নিন। এবার লম্বা ফর্ম আসবে, যেখানে আপনাকে কিছু ব্যক্তিগত তথ্য পূরণ করতে হবে। যেমন:

নাম, বাবার নাম, জন্ম তারিখ, ঠিকানা, ফোন নম্বর, শিক্ষাগত যোগ্যতা, রক্তের গ্রুপ (জানা থাকলেও টেস্ট করে সেই রিপোর্ট জমা দিন), আপনি কোন ধরনের গাড়ির লাইসেন্স চান (যেমন – দুই চাকার, চার চাকার)।

driving license test
বাইকের পরীক্ষা

ধাপ ৩: প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস আপলোড

ফর্ম পূরণের পর আপনাকে আপনার দাবির পক্ষে ডকুমেন্টস আপলোড করতে হবে।

যেমন- বয়সের প্রমাণ: আধার কার্ড, জন্ম শংসাপত্র, অথবা দশম শ্রেণির অ্যাডমিট কার্ড।

ঠিকানার প্রমাণ: আধার কার্ড, বিদ্যুতের বিল, অথবা ভোটার আইডি কার্ড।

ফটো এবং সই (সাদা কাগজে সই করে সেটার ছবি তুলে আপলোড করতে হবে)

ধাপ ৪: ফি প্রদান

এবার আপনাকে ফি প্রদান করতে হবে। সাধারণত ১৫০ টাকা নেয় লার্নারের জন্য। ক্রেডিট কার্ড, ডেবিট কার্ড, বা নেট ব্যাঙ্কিংয়ের মাধ্যমে অনলাইনে ফি দিতে পারবেন। সফল পেমেন্টের পর আপনার ফোনে মেসেজ আসবে।

ধাপ ৫: স্লট বুকিং

ফি প্রদানের পর আপনাকে লার্নার লাইসেন্স পরীক্ষার জন্য একটি স্লট বুক করতে হবে। আপনার সামনে তারিখ ও সময়ের তালিকা দেওয়া হবে। সেটা বেছে নিন। এই পরীক্ষা সাধারণত অনলাইনেই নেওয়া হয়।

Useful Government Apps: এই 6 সরকারি অ্যাপেই হবে মুশকিল আসান, আছে তো আপনার ফোনে?

লার্নার লাইসেন্সের জন্য পরীক্ষা

লার্নার লাইসেন্স পেতে বাইক বা গাড়ি চালিয়ে দেখাতে হয় না। এটা ক্যুইজ়। সাধারণ ট্র্যাফিকের প্রশ্ন করা হবে। অনলাইনে আপনি একাধিক সাইট পেয়ে যাবেন যেখানে প্রস্তুতি সারতে পারবেন।

কীভাবে পরীক্ষা দেবেন, সেটা বিস্তারিতভাবে আপনাকে জানিয়ে দেবে মেসেজ করে। সাধারণত ১৫টি প্রশ্ন থাকে। যার মধ্যে ৯টি সঠিক উত্তর দিলেই পাশ।

পাশ করার সঙ্গে সঙ্গে আপনার ফোনে মেসেজ চলে আসবে। সেখান থেকে ডাউনলোড করে নিন।

লার্নার লাইসেন্সের পর মূল লাইসেন্সের জন্য আবেদন

লার্নার পাওয়ার ৩০ দিন পর আপনি মূল লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে পারবেন। এই সময়টা দেওয়া হয় গাড়ি চালানো শেখার জন্য।

কীভাবে করবেন মূল লাইসেন্সের জন্য আবেদন?

ধাপ ১: ফের পরিবহন পোর্টালে লগ ইন করুন এবং ‘Apply for Driving Licence’ অপশনটি বেছে নিন।

ধাপ ২: ফর্ম এবং ডকুমেন্টস

এবার আপনাকে লার্নার লাইসেন্সের নম্বর এবং জন্ম তারিখ দিয়ে লগইন করতে হবে। এর পর একটি ফর্ম খুলবে, সেটা ফিলআপ করার জন্য স্লট বুকিং করতে হবে। (Driving License Online Apply)

ধাপ ৩: ড্রাইভিং টেস্টের জন্য স্লট বুকিং

ফর্ম পূরণের পর আপনাকে প্র্যাকটিক্যাল ড্রাইভিং টেস্টের জন্য স্লট বুক করতে হবে। এবার আপনাকে সরাসরি RTO অফিসে গিয়ে টেস্ট দিতে হবে। অনলাইনে আপনি আপনার নিকটবর্তী RTO অফিস এবং টেস্টের তারিখ ও সময় বেছে নিতে পারবেন। এক্ষেত্রে আপনার একটি বাইক লাগবে। আপনার নিজের বাইক না থাকলেও আপনাকে বাইক জোগাড় করতে হবে। অনেক সময় দেখা গিয়েছে, RTO অফিসে দালালরা বাইক সাপ্লাই দেন। আপনি যেহেতু নিজের থেকে করছেন পুরোটাই তাই আপনাকেই বাইক জোগাড় করতে হবে।

টিকিট বুকিং এখন আরও সহজ, নতুন অ্যাপ আনল ইন্ডিয়ান রেল

কীভাবে হবে লাইসেন্সের পরীক্ষা?

পরীক্ষক আপনাকে একটা জায়গায় চালাতে বলবে। লেন বদল, ইউটার্ন, ডান দিক বা বাঁদিক আপনাকে হাত দিয়ে দেখাতে হবে। ফেল হলে আপনাকে ফের পরীক্ষা দিতে হবে।

আপনি পাশ করার ১৫ দিনের মাথায় আপনার বাড়ির ঠিকানায় লাইসেন্স চলে আসবে। সরকারি ছুটি, ভোট থাকলে সময় আরও বেশি লাগতে পারে।

driving license test
চাকচাকার পরীক্ষা

কেন অনলাইনে আবেদন করবেন?

অতীতের তুলনায় এখন অনলাইনে আবেদন করা অনেক সহজ। এর অনেকগুলো সুবিধা রয়েছে, যা আপনার সময় এবং শ্রম দুটোই বাঁচাবে।

  • ১. সময় বাঁচায়: RTO অফিসে লম্বা লাইনে দাঁড়ানোর ঝামেলা নেই। আপনি আপনার সুবিধা অনুযায়ী যেকোনও সময়, যেকোনও স্থান থেকে আবেদন করতে পারেন।
  • ২. খরচ কম: পরিবহণ খরচ বা অন্যান্য অপ্রয়োজনীয় খরচ এড়ানো যায়।
  • ৩. স্বচ্ছতা: পুরো প্রক্রিয়াটি অনলাইনে হয় বলে এতে স্বচ্ছতা অনেক বেশি। ফি জমা দেওয়া থেকে শুরু করে স্লট বুকিং পর্যন্ত সবকিছুই অনলাইনে দেখা যায়।
  • ৪. সহজ ডকুমেন্ট আপলোড: প্রয়োজনীয় কাগজপত্র স্ক্যান করে সহজেই আপলোড করা যায়। ফলে হারানো বা ভুলে যাওয়ার ভয় থাকে না।

কিছু গুরুত্বপূর্ণ টিপস ও তথ্য

লার্নার লাইসেন্স: কমপক্ষে ১৮ বছর বয়স হলে তবেই এই লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে পারবেন।

সঠিক ডকুমেন্ট: সব ডকুমেন্ট যেন পরিষ্কারভাবে স্ক্যান করা থাকে এবং নির্দিষ্ট সাইজ ও ফরম্যাটে থাকে।

কতরকমের ড্রাইভিং লাইসেন্স হয়?

  • MC 50CC: ৫০ সিসি ক্যাপাসিটি বাইকের জন্য।
  • MCWOG/FVG (গিয়ার ছাড়া মোটরসাইকেল): স্কুটি, মোপেডের লাইসেন্সের জন্য।
  • MCWG/MCYCLWG (গিয়ার দেওয়া মোটরসাইকেল): যেই মোটরসাইকেলে গিয়ার আছে। এই লাইসেন্স নিয়ে আপনি গিয়ার ছাড়া মোটরসাইকেলও চালাতে পারবেন।
  • LMV-NT (হাল্কা গাড়ির জন্য): অর্থাৎ, ব্যক্তিগত চারচাকার লাইসেন্স।
  • LMV-TR (হাল্কা গাড়ির জন্য, ট্রান্সপোর্ট): এই লাইসেন্স আপনি ব্যবসায়িক কাজে ব্যবহার করতে পারবেন। যেমন অনলাইনে ক্যাব চালানো বা ট্যুরিস্ট গাড়ি চালানো।
  • HMV: ট্রাক, বাস চালানোর জন্য।

Unknown Story-কে ফেসবুক ও ইন্সটাগ্রামে ফলো করুন


FAQ

ড্রাইভিং লাইসেন্স কতরকমের হয়?

MC 50CC: ৫০ সিসি ক্যাপাসিটি বাইকের জন্য।
MCWOG/FVG (গিয়ার ছাড়া মোটরসাইকেল): স্কুটি, মোপেডের লাইসেন্সের জন্য।
MCWG/MCYCLWG (গিয়ার দেওয়া মোটরসাইকেল): যেই মোটরসাইকেলে গিয়ার আছে। এই লাইসেন্স নিয়ে আপনি গিয়ার ছাড়া মোটরসাইকেলও চালাতে পারবেন।
LMV-NT (হাল্কা গাড়ির জন্য): অর্থাৎ, ব্যক্তিগত চারচাকার লাইসেন্স।
LMV-TR (হাল্কা গাড়ির জন্য, ট্রান্সপোর্ট): এই লাইসেন্স আপনি ব্যবসায়িক কাজে ব্যবহার করতে পারবেন। যেমন অনলাইনে ক্যাব চালানো বা ট্যুরিস্ট গাড়ি চালানো।
HMV: ট্রাক, বাস চালানোর জন্য।

Driving license only apply website

লার্নারের কতদিন পর মূল লাইসেন্স মেলে?

লার্নার লাইসেন্স পাওয়ার ৩০ দিন পর মূল লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে পারেন। লার্নারের মেয়াদ ৬ মাস।

লার্নার লাইসেন্স নিয়ে কি রাস্তায় গাড়ি চালাতে পারব?

না। লার্নার লাইসেন্স শুধু গাড়ি চালানো শেখার জন্য।



Discover more from Unknown Story

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

---Advertisement---

Raja

লেখালেখি পছন্দ করেন। পেশাদার লিখিয়ে নন। নিজের কাজের পাশাপাশি এখন UnknownStory.in-এ লিখছেন।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now

Leave a Reply