Site icon Unknown Story

কীভাবে Banglar Yuva Sathi প্রকল্পে আবেদন করবেন? রইল সম্পূর্ণ গাইড

Banglar Yuva Sathi

লক্ষ্মীর ভান্ডারের ঘোষণা করে সাড়া ফেলে দিয়েছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (CM Mamata Banerjee)। ৫০০ টাকা দিয়ে শুরু করার পর এখন সেটা ১৫০০ ও ১৭০০ টাকায় এসে ঠেকেছে। এ বার মহিলাদের পাশাপাশি বেকার যুবকদের জন্য সাহায্যের ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। নাম দেওয়া হয়েছে ‘বাংলার যুব সাথী’ (Banglar Yuva Sathi)। এই প্রকল্পের অধীনে যোগ্য আবেদনকারীরা প্রতি মাসে ১,৫০০ টাকা করে পাবেন পাঁচ বছরের জন্য। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের অন্তর্বর্তী বাজেটে এই প্রকল্পের ঘোষণা করার পর খোঁজ শুরু হয়ে গিয়েছে। কীভাবে করবেন আবেদন? কারা কারা যোগ্য? বিস্তারিত রইল এই প্রতিবেদনে-

Banglar Yuva Sathi প্রকল্প কী?

এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো রাজ্যের শিক্ষিত কিন্তু বর্তমানে কর্মহীন যুবক-যুবতীদের একটি মাসিক আর্থিক সহায়তা প্রদান করা। যাতে তাঁরা এই টাকা দিয়ে চাকরির পরীক্ষার ফর্ম ফিলাপ, যাতায়াত বা কোনও স্কিল ডেভেলপমেন্ট কোর্সে ভর্তি হতে পারেন। এই টাকা সরাসরি উপভোক্তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে মাধ্যমে পাঠানো হবে। অর্থাৎ, চাকরি খুঁজতে সাহায্য করবে সরকার। পাশাপাশি এই টাকা দিয়ে চাকরির পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতিও নিতে পারবেন।

বাংলার যুব সাথী প্রকল্পে কারা আবেদন করতে পারবেন?

Banglar Yuva Sathi প্রকল্পে আবেদনের জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকার কিছু শর্ত রেখেছে। খুব কঠিন না হলেও এই শর্তগুলো পূরণ করতে হবে-

অর্থাৎ, সরকারের থেকে স্কলারশিপ পেলে যুব সাথী পাওয়া যাবে। সরকারি সাহায্য পেলে Banglar Yuva Sathi প্রকল্পের সুবিধা পাওয়া যাবে না।

বাতিল হয়ে গেছে লক্ষ্মীর ভান্ডারের অ্যাপ্লিকেশন? অনলাইনে করুন আবেদন

কবে থেকে শুরু এবং কোথায় আবেদন করবেন?

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘোষণা অনুযায়ী, এই প্রকল্পের কাজ শুরু হবে ১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে। অর্থাৎ, নির্বাচনের পরে। তার আগেই নাম নথিভুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হবে।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন প্রতিটি বিধানসভায় একটি করে ক্যাম্প হবে। এর পাশাপাশি যখন ‘দুয়ারে সরকার’-এর ক্যাম্প হবে সেখানেও জমা দেওয়া যাবে। তবে অনলাইনেও সুবিধা রয়েছে। এখনই অবশ্য অনলাইনে আবেদন করা যাবে না। সরকার চাইছে আগে অফলাইনে কাজ করে সেটাকে এগিয়ে রাখতে, পরে অনলাইনে শুরু করা হবে।

বাংলার যুব সাথীতে আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় নথি কী কী?

আবেদন করার সময় নিচের নথিগুলোর ফটোকপি (Self-attested) সঙ্গে রাখা বাধ্যতামূলক:

১. আধার কার্ড ও ভোটার কার্ড।

২. মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড (বয়সের প্রমাণ হিসেবে)।

৩. শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রমাণপত্র (মার্কশিট/সার্টিফিকেট)।

৪. ব্যাঙ্কের পাসবুকের প্রথম পাতা (যেখানে টাকা ঢুকবে, IFSC কোড পরিষ্কার থাকতে হবে)।

৫. রঙিন পাসপোর্ট সাইজ ছবি।

৬. মোবাইল নম্বর।

৭. জাতিগত শংসাপত্র (যদি থাকে) (SC, ST, OBC-দের জন্য)।

মাত্র 2 মিনিটে Kolkata Metro Ticket Online-এ কাটুন, দেখে নিন Step-by-Step গাইড

বাংলার যুব সাথীর জন্য কীভাবে আবেদন করবেন? রইল স্টেপ-বাই-স্টেপ পদ্ধতি

১. প্রথমে নির্দিষ্ট ক্যাম্পে গিয়ে Form-A সংগ্রহ করুন। আপনি চাইলে অনলাইনেও ডাউনলোড করতে পারবেন। এক্ষেত্রে আপনার সময় কম লাগবে। অনলাইনে ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন

২. ফর্মের উপরে দিন আপনার আধার কার্ড নম্বর। এর পর দিন আপনার নাম, বাবার নাম, জন্ম তারিখ, ঠিকানা এবং ব্যাঙ্কের তথ্য। মনে রাখবেন একটিও ভুল থাকলে আপনার আবেদন খারিজ হয়ে যাবে।

৩. ফর্মে একটি ‘Self-Declaration’ বা স্ব-ঘোষণাপত্র থাকবে, যেখানে আপনাকে সই করে জানাতে হবে যে আপনি বর্তমানে বেকার এবং অন্য কোনও ভাতা নিচ্ছেন না।

৪. সমস্ত নথির ফটোকপি ফর্মের সঙ্গে Self attested করে দিন। অর্থাৎ, প্রতিটা ফটোকপিতে আপনি সই করবেন।

ফর্ম

এক নজরে বাংলার যুব সাথী প্রকল্প ২০২৬

বিষয়তথ্য
ভাতার পরিমাণপ্রতি মাসে ১,৫০০ টাকা
সর্বোচ্চ সময়সীমা৫ বছর বা চাকরি না পাওয়া পর্যন্ত
বয়সসীমা২১ থেকে ৪০ বছর
ন্যূনতম যোগ্যতামাধ্যমিক পাশ
আবেদনের মাধ্যমবিশেষ ক্যাম্প, ভবিষ্যতে অনলাইনে
প্রকল্প শুরু১ এপ্রিল ২০২৬

মনে রাখবেন, এই প্রকল্পে আবেদন করার পর আপনি ফর্মে যা লিখেছেন সেগুলোর ভেরিফিকেশন হবে। অর্থাৎ, আপনার বয়স, বর্তমান পেশা, বাড়ি এগুলো সব খতিয়ে দেখা হবে। কোনও ভুল তথ্য দিলে আপনার আবেদন বাতিল হতে পারে। আবেদন জমা দেওয়ার পর আপনার ফোনে একটি কনফার্মেশন মেসেজ আসবে। এছাড়া সরকারি ওয়েবসাইট https://wbsportsandyouth.com/ এ গিয়ে আপনি আরও বিস্তারিত খোঁজ নিতে পারবেন। মনে রাখবেন এই ফর্ম তুলতে বা জমা দিতে কোনও টাকা লাগে না, পুরোটাই নিখরচায় হয়। কেউ টাকা চাইলে দেবেন না।


Unknown Story-কে ফেসবুক ও ইন্সটাগ্রামে ফলো করুন


Exit mobile version