দেশজুড়ে বেজে গিয়েছে ভোটের দামামা। ২০২৫ সালে রয়েছে বিহারে ভোট, ২০২৬ সালে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা। তারপর পৌরসভা। ফলে প্রায় প্রতি বছরই কোনও না কোনও ভোট রয়েছে। তার আগে সবচেয়ে যেটা গুরুত্বপূর্ণ তা হলো ভোটার কার্ড সংশোধন। আপনার ভোটের কার্ডে কি কোনও ভুল আছে? এখনই সংশোধন করে নিন। (Voter Card Correction Online) কীভাবে করবেন? জেনে নিন-
Table of Contents
ভোটার বা এপিক কার্ড শুধু আপনার পরিচয়ের কার্ডই নয়। এটা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার জন্য এটি অপরিহার্য অংশ। কিন্তু অধিকাংশ সময়ে অনেকের কার্ডে একাধিক ভুল থাকে। নামের বানান, ঠিকানা, জন্ম তারিখ, খারাপ ছবি দেখা যায়। অনেকে আবার পুরোনো, নষ্ট হয়ে যাওয়া কার্ডও ব্যবহার করেন। সরকারি কাজে অনেক সময় লাগবে ভেবে অনেকে সংশোধনের ঝামেলায় যেতে চান না। এবার অনলাইনেই সংশোধন করা যাবে ভোটার কার্ডের।
অনলাইনে ভোটার কার্ড সংশোধনের জন্য কী কী লাগবে? (Voter Card Correction Online)
একটি বৈধ মোবাইল নম্বর: যে মোবাইল নম্বরটি আপনার আধার কার্ডের সঙ্গে লিঙ্ক করা আছে সেটা দেবেন, চেষ্টা করবেন সেই নম্বরটা রেখে দিতে।
ই-মেইল আইডি: যদি থাকে, তাহলে ভালো।
সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র, যেমন—
নাম সংশোধনের জন্য: পাসপোর্ট, আধার কার্ড, ড্রাইভিং লাইসেন্স বা কোনো শিক্ষাগত শংসাপত্র।
ঠিকানা সংশোধনের জন্য: আধার কার্ড, বিদ্যুৎ বিল, জলের বিল, গ্যাসের বিল, বা ব্যাঙ্কের পাসবুক।
জন্মতারিখ সংশোধনের জন্য: জন্ম শংসাপত্র, প্যান কার্ড, বা শিক্ষাগত শংসাপত্র। (Voter Card Correction Online)
আপনার বর্তমান ভোটার কার্ড নম্বর (EPIC Number)।
অনলাইনে ভোটার কার্ড সংশোধনের পদ্ধতি (Step By Step Guide)
ভারতের নির্বাচন কমিশনের ন্যাশনাল ভোটারস সার্ভিসেস পোর্টাল থেকে আপনাকে ভোটার কার্ড সংশোধন করতে হবে।
ধাপ ১: পোর্টালে লগইন বা রেজিস্ট্রেশন
প্রথমে, National Voters’ Services Portal-এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট https://www.nvsp.in/ বা https://voters.eci.gov.in/ এ যান।
যদি আপনি নতুন ব্যবহারকারী হন, তাহলে Create an account বা Sign Up অপশনে ক্লিক করে আপনার মোবাইল নম্বর এবং ই-মেইল আইডি দিয়ে অ্যাকাউন্ট তৈরি করুন। আপনার মোবাইলে একটি OTP আসবে, সেটা দিন এবং আপনার অ্যাকাউন্ট তৈরি হয়ে যাবে।
যদি আপনার ইতিমধ্যে অ্যাকাউন্ট থাকে, তাহলে Login অপশনে ক্লিক করে আপনার মোবাইল নম্বর/ই-মেইল আইডি এবং পাসওয়ার্ড দিন।
ধাপ ২: আবেদন ফর্ম 6B এবং ফর্ম 8 পূরণ
লগইন করার পর, আপনি একটি ড্যাশবোর্ড দেখতে পাবেন। এখানে Correction of entries in electoral roll বা Form 8 অপশনে ক্লিক করুন।
এরপর আপনাকে দুটি বিকল্প দেওয়া হবে: একটি Self (নিজের জন্য) অথবা Family (পরিবারের অন্য সদস্যের জন্য)। আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী একটি অপশন বেছে নিন।
এরপর আপনি একটি নতুন ফর্ম দেখতে পাবেন। এই ফর্মটি হলো Form 8।
ফর্মটি খুব সাবধানে পূরণ করুন। এখানে আপনার রাজ্য, জেলা, এবং বিধানসভা কেন্দ্রের নাম নির্বাচন করুন।
এরপর আপনার ভোটার আইডি কার্ড নম্বর দিন।
ধাপ ৩: তথ্যের সংশোধন
ফর্মের পরবর্তী অংশে, আপনাকে একটি তালিকা দেওয়া হবে যেখানে আপনি কী কী সংশোধন করতে চান তা বেছে নিতে হবে। যেমন:
নাম, ঠিকানা, জন্মতারিখ, পিতার নাম, লিঙ্গ, ছবি, মোবাইল নম্বর
যে তথ্যটি আপনি সংশোধন করতে চান, তার পাশের বক্সটিতে টিক দিন।
Driving License Online Apply: আর নয় দালালচক্র, নিজেই আবেদন করে বানিয়ে নিন ড্রাইভিং লাইসেন্স
এবার সঠিক তথ্যটি পূরণ করুন এবং প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র (যেমন আধার কার্ড, পাসপোর্ট, ইত্যাদি) আপলোড করুন। ফাইলটি যেই ফর্ম্যাটে চাওয়া হবে সেই ফর্ম্যাটই দিন। নয়তো গ্রহণ হবে না।
আবেদনপত্র জমা দেওয়ার পর আপনি একটি রেফারেন্স আইডি (Reference ID) পাবেন। এই আইডিটি কোথাও লিখে রাখুন, এটি ভবিষ্যতে আপনাকে আবেদনের অবস্থা জানতে সাহায্য করবে। (Voter Card Correction Online West Bengal)
ভোটার কার্ড সংশোধনের আবেদনের স্থিতি যাচাই (Voter Card Correction Online Status Check)
আবেদন জমা দেওয়ার পর আপনি আপনার রেফারেন্স আইডি ব্যবহার করে অনলাইনে আবেদনের স্থিতি যাচাই করতে পারেন।
ধাপ ১: NVSP পোর্টালে যান (যেই পোর্টালে গিয়ে আবেদন করেছিলেন)।
ধাপ ২: Track Application Status অপশনে ক্লিক করুন।
ধাপ ৩: আপনার রেফারেন্স আইডি দিন এবং Track Status বোতামে ক্লিক করুন।
এরপর আপনার সামনে তালিকা চলে আসবে, যেখানে আপনি আপনার আবেদনের বর্তমান অবস্থা দেখতে পাবেন। সাধারণত, আবেদন করার ১৫ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে আপনি স্ট্যাটাস জানতে পারবেন। আবেদন গ্রহণ হলে আপনার ঠিকানায় আপনি কার্ড পেয়ে যাবেন। না পেলে ভোটার কার্ড সংক্রান্ত ক্য়াম্পে পেয়ে যাবেন।
কেন ভোটার কার্ড সংশোধন করা প্রয়োজন?
ভোটার কার্ডে ভুল তথ্য থাকলে তা ভবিষ্যতে বিভিন্ন সমস্যার কারণ হতে পারে। যেমন: ভোটদানে সমস্যা, অন্যান্য পরিচয়পত্রে সঙ্গে তথ্যের গরমিল, আইনি জটিলতার মুখে পড়তে পারেন।
এই সমস্যাগুলো এড়াতে ভোটার কার্ডে কোনো ভুল থাকলে তা দ্রুত সংশোধন করে নেওয়া উচিত। তাই অফলাইনের জন্য অপেক্ষা না করে দ্রুত অনলাইনে সংশোধন করে নিন। (Voter Card Correction Online)
Unknown Story-কে ফেসবুক ও ইন্সটাগ্রামে ফলো করুন
FAQ
ভোটার কার্ড অনলাইনে সংশোধনের সাইট কী?
ভোটার কার্ড সংশোধন করতে কী কী লাগবে?
একটি বৈধ মোবাইল নম্বর, ই-মেইল আইডি।
নাম সংশোধনের জন্য: পাসপোর্ট, আধার কার্ড, ড্রাইভিং লাইসেন্স বা কোনো শিক্ষাগত শংসাপত্র।
ঠিকানা সংশোধনের জন্য: আধার কার্ড, বিদ্যুৎ বিল, জলের বিল, গ্যাসের বিল, বা ব্যাঙ্কের পাসবুক।
জন্মতারিখ সংশোধনের জন্য: জন্ম শংসাপত্র, প্যান কার্ড, বা শিক্ষাগত শংসাপত্র।
আপনার বর্তমান ভোটার কার্ড নম্বর।

