Site icon Unknown Story

Dharmatala Name History: ধর্মতলা নামে ‘ধর্ম’ এল কোথা থেকে? জেনে নিন ইতিহাস

Dharmatala Name History

বাংলায় থাকেন আর ধর্মতলা চেনেন না এমন মানুষের সংখ্যা হাতে গোনা। না এলেও নাম সকলেই শুনেছেন। জানেন এই ধর্মতলার ইতিহাস কী? কোথা থেকে এসেছে এই ধর্মতলা নামটা (Dharmatala Name History)? হঠাৎ করে একটা জায়গার নামে ‘ধর্ম’ কথাটা এল কী করে? চলুন জেনে নেওয়া যাক-

কলকাতার প্রাণকেন্দ্র ধর্মতলা। মিটিং-মিছিল, সমাবেশ, বনধ, চাক্কা জ্যাম সবকিছু হয় এই ধর্মতলাকে কেন্দ্র করে। ডোরিনা ক্রসিং, ওয়াই চ্যানেলে নিত্যদিন কোনও না কোনও ধর্না হয়। রাজ্যে যেকোনও প্রান্তে যাওয়া যায় ধর্মতলা থেকে। দূরপাল্লার বাস, মেট্রো, ফেরি, ট্রেন সবকিছুই রয়েছে। সঙ্গে ব্যবসা ও চিকিৎসার কাজে এই ধর্মতলায় প্রতিদিন লাখখানেক লোক আসেন।

ধর্মতলা নামের ইতিহাস (Dharmatala Name History)

এই ইতিহাস জানার আগে সবার আগে বুঝতে হবে ধর্মতলায় কী আছে। আপনি যদি এসপ্ল্যানেড মেট্রো স্টেশনের এক নম্বর গেট দিয়ে বাইরে বেরোন, তা হলে সোজা তাকালে দেখতে পাবেন একটা দোতলা বিল্ডিং। তার নিচে রয়েছে বিখ্যাত K.C. Das-এর মিষ্টির দোকান। ঠিক তার উল্টোদিকে তাকালে দেখতে পাবেন একটি মসজিদ। সেটা টিপু সুলতানের।

এ বার মসজিদের দিকে মুখ করে আপনার ডান হাতের দিকে একটা রাস্তা পাবেন। সেটার নাম লেনিন সরণী। সেখান দিয়ে কিছু দূর গেলে পাবেন একটা চার্চ, যার নাম সেক্রেড হার্ট চার্চ। আপাতত এই টুকুই মনে রাখুন।

ধর্মতলায় কি ধর্মঠাকুরের মন্দির ছিল?

একাধিক মহল থেকে দাবি করা হয়, ধর্মতলা অঞ্চলে আগে ধর্মঠাকুরের পুজো হতো। সেই থেকেই এলাকার নাম হয় ধর্মতলা। যদিও এখন ধর্মতলা অঞ্চলে ধর্ম ঠাকুরের বড় মন্দির নেই। কোনও গলিতে ছোট মন্দির থাকতে পারে বা কেউ ব্যক্তিগতভাবে পুজো করতে পারেন। যেহেতু তিন ধর্মের মানুষের ধর্মীয় উপাসনা যুক্ত এখানে তাই ধর্মতলা নাম (Dharmatala Name History)।

স্বামী সর্বানন্দ অবধূত BBC বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘ইতিহাস ঘেঁটে আমরা দেখতে পাচ্ছি যে কলকাতার ধর্মতলায় একটা সময়ে ধর্মঠাকুরের পুজো হতো। পাশ দিয়েই গঙ্গা প্রবাহিত হত, আর ওই অঞ্চলে বসবাস করত জেলে আর আদিবাসীরা। তারাই আদিকালে ধর্ম ঠাকুরের পুজো করত।’

‘কলকাতা শহরের ইতিবৃত্ত’ গ্রন্থের লেখক বিনয় ঘোষের মতেও এই এলাকায় বহুকাল আগে ধর্মঠাকুরের মন্দির ছিল।

১৮৪১ সালে প্রকাশিত ‘বেঙ্গল অ্যান্ড আগ্রা অ্যানুয়াল গেজেটিয়ার’ থেকে উদ্ধৃত করে প্রাণতোষ ঘোষ তাঁর বই ‘হে নগর – হে মহানগর’-এ লিখেছেন, কলকাতার পথঘাট ও বিশেষ দ্রষ্টব্য স্থানের যে বিবরণ আছে তার মধ্যে ৫১ নম্বর জানবাজার স্ট্রিটে ‘ধম্ম ঠাকুর’ এর উল্লেখ রয়েছে।

ধর্মঠাকুর কী?

রাঢ় বঙ্গের মেদিনীপুর, দুই ২৪ পরগণা, মুর্শিদাবাদ, বাঁকুড়া, হুগলী এবং বর্ধমান অঞ্চলে অঞ্চলীয় আদিবাসীদের দেবতা এই ধর্মঠাকুর। তাঁর কোনও মূর্তি নেই। একটি এবড়োখেবড়ো পাথরকে সিঁদুর-চন্দন পরিয়ে উপাসনা করেন ডোম, বাউড়ি সম্প্রদায়ের মানুষেরা। তবে অনেক জায়গায় মূর্তি পুজোও হয়।

অর্থাৎ, ধর্মতলা নামের নেপথ্যে এই কারণগুলি রয়েছে। যারমধ্যে ধর্মঠাকুরের মন্দিরের তত্ত্বের পক্ষে যুক্তির সংখ্যা বেশি।

কেন ২১ জুলাই শহিদ দিবস পালন করে তৃণমূল? জানুন ইতিহাস

ধর্মতলার সঙ্গে এসপ্ল্যানেডের সম্পর্ক কী?

ধর্মতলার বর্তমান নাম এমপ্ল্যানেড। দুই নামেই এই অঞ্চলকে ডাকা হয়। আপনি মেট্রোতে টিকিট কাটতে গেলে ধর্মতলা বললে হবে না। বলতে হবে এসপ্ল্যানেড। অন্যদিকে বাসে উঠলে ধর্মতলা বলতে হবে। সব মিলিয়ে দুটো নাম নিয়েই চলছে কলকাতার প্রাণকেন্দ্র।

তা হলে এ বার প্রশ্ন উঠতেই পারে ধর্মতলা নামটা তো বোঝা গেল (Dharmatala Name History)।

এসপ্ল্যানেড নাম এল কোথায় থেকে?

এরজন্য ফের যেতে হবে ধর্মতলায় মানচিত্রে। ধর্মতলার একদিকে রয়েছে ফোর্ট উইলিয়াম, অন্যদিকে ছিল জনবসতি (এখানে এখন অফিস চত্ত্বর)। এই দুর্গ আর শহরের মাঝে ছিল জঙ্গল। দুর্গ আর শহরের মাঝখানের জমিকে ইংরেজিতে বলে এসপ্ল্যানেড। সেই কারণেই ব্রিটিশরা এই এলাকাকে এসপ্ল্যানেড বলে ডাকত। কারণ তাদের পক্ষে ধর্মতলা উচ্চারণ করা দাঁত ভাঙার মতোই কষ্টকর।

তবে বাঙালি তো সবসময় সবাইকে আপন করতে পারে। ঠিক যে ভাবে ধর্মতলায় একাধিক ধর্মের মানুুষ থাকেন, তেমনই ধর্মতলা ও এসপ্ল্যানেড নামকেও আপন করে নিয়েছে। তবে একটা জিনিস পরিষ্কার, ধর্মতলা নামটা এসেছে ধর্মচারণ থেকে। সেটা ধর্মঠাকুরের পুজো হোক বা মসজিদ, গির্জার বর্তমান অবস্থান হোক।

সেই ধর্মতলা এখন ধর্মের থেকেও বেশি রাজনীতির, বিক্ষোভের জন্য পরিচিত। সে মিছিল হোক বা সমাবেশ। সব মিলিয়ে কলকাতা প্রাণকেন্দ্র সবসময় জমজমাট থাকে।

Shaheed Minar Kolkata: সেলিব্রেশন থেকে স্বাধীনতা সংগ্রামীদের উৎসর্গ, জেনে নিন 200 বছরের স্থাপত্যের ইতিহাস

কী ভাবে যাবেন ধর্মতলা?

শিয়ালদা স্টেশন থেকে নেমে শিয়ালদা কোর্টের সামনে থেকে বাসে ধর্মতলা স্টপেজ। ১০ টাকা ভাড়া।

হাওড়া স্টেশনের ওল্ড কমপ্লেক্সের পাশের বাসস্ট্যান্ড থেকে ধর্মতলা স্টপেজ। হাওড়া স্টেশন মেট্রো স্টেশন থেকে এসপ্ল্যানেড স্টেশনেও আসতে পারেন। বাকি মেট্রোতে এসপ্ল্যানেড স্টেশনে নামতে হবে আপনাকে।


Exit mobile version