রাজ্য দেশ বিদেশ খেলা খাবার ও রেসিপি লাইফস্টাইল ও স্বাস্থ্য প্রযুক্তি ও গ্যাজেটস অন্যান্য খবর Utility News

---Advertisement---

Dwarkanath Tagore Business: কলকাতায় 43টি বেশ্যালয়ের মালিক, প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুরের অন্য ব্যবসার গল্প

By Raja
Published on: October 11, 2025
Dwarkanath Tagore Business
---Advertisement---

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বা ঠাকুরবাড়ির কারও নাম সামনে আসলে সাধারণ বাঙালির সামনে ভেসে ওঠে সাহিত্যের কথা। কবিতা, গল্প, উপন্যাসের ছবি। কিন্তু ঠাকুরবাড়িকে শুধু সাহিত্যচর্চার মধ্যে বেঁধে ফেললে হবে না। ঠাকুরবাড়ির ইতিহাসের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে বিশাল ব্যবসা। আর তার নেপথ্যে প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর (Dwarkanath Tagore Business), রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পিতামহ। তিনি ছিলেন আধুনিক বাংলার প্রথম বাঙালি উদ্যোগপতি। তাঁর একাধিক ব্যবসার মধ্যে ছিল যৌনপল্লি। তিনি ৪৩টি যৌনপল্লির মালিক ছিলেন।

কলকাতার সেন্ট্রাল এভিনিউ থেকে শোভাবাজারের রাস্তা ধরে এগিয়ে চললে, আপনি পাবেন গৌরী শঙ্কর লেন। এখানেই রয়েছে এশিয়ার সর্ববৃহৎ যৌনপল্লি সোনাগাছি, চলতি বাংলায় যেটাকে বেশ্যাপট্টিও বলা হয়। তথাকথিত ভদ্র বাঙালি যেই এলাকায় পা বাড়ান না, সেই এলাকার মালিক একটা সময়ে ছিলেন প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর। চলুন জেনে নিন এই গল্প-

প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুরের দ্বৈত জীবন

দ্বারকানাথ ঠাকুর ছিলেন একজন কিংবদন্তী। ইংরেজ শাসনের সময়ে লন্ডনে তাঁর জন্ম। শুরু থেকে তিনি ছিলেন ব্যবসায়ীর মানসিকতার। তিনি পার্সি কাপলে এবং জর্জ হিলারির মতো ইউরোপীয় ব্যক্তির সঙ্গে ব্যবসা করতেন। তাঁর ব্যবসার মধ্যে ছিল কয়লাখনি, জাহাজ কোম্পানি (The Bengal Steam Navigation Company)। তাঁর জমিদারি তাঁকে প্রিন্স উপাধি দিয়েছিল। কলকাতা শহরকে উন্নত করার নেপথ্যে তাঁর নাম রয়েছে।

দ্বারকানাথের জীবনও ছিল জটিলতায় পূর্ণ। আর সেই জটিলতা এসেছিল যৌনপল্লির জন্য। আসলে তিনি যেই সময়ে ব্যবাস করছেন তখন কলকাতায় ব্যবসায়িক বিনিয়োগ এবং সম্পত্তি অধিগ্রহণের কৌশল ছিল অত্যন্ত ভিন্ন। অনেক সময় বিপুল পরিমাণ জমিদারি এবং সম্পত্তির মধ্যে এমন কিছু এলাকাও অন্তর্ভুক্ত হতো, যা সমাজের চোখে ছিল নিন্দনীয়। সেখানেই দ্বারকানাথ ঠাকুরের হাতে এসেছিল যৌনপল্লি।

Prince Anwar Shah Road-এর আনোয়ার শাহ কে? কেন তাঁর নামে রাস্তা? জেনে নিন ইতিহাস

বেশ্যালয় কেন ব্যবসায়িক সম্পত্তি ছিল? (Dwarkanath Tagore Business)

এটার জন্য যেতে হবে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বাণিজ্যের দিকে। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি যেই ব্যবসা করতে এসেছিল, তাদের সেই ব্যবসার জন্য কলকাতায় আসেন প্রচুর কর্মচারী। এদের মধ্যে অধিকাংশ ছিলেন নিচুতলার কর্মী এবং কম বয়সি। লন্ডন থেকে লম্বা সময় পার করে জাহাজে চেপে ভারতে আসা এবং এখানে এসে কাজ করার পাশাপাশি সেই কর্মীদের দরকার ছিল আমোদের। এখানেই হাত বাড়ান দ্বারকানাথ।

ব্রিটিশ রাজকর্মচারীদের আপ্যায়নের জন্যই দ্বারকানাথ প্রায় ৪৩ বেশ্যালয়ের মালিক হয়ে গেলেন। তিনি দেখেছিলেন ব্যবসা বাড়াতে গেলে এটা ছাড়া রাস্তা নেই। তবে তিনি সরাসরি বেশ্যালয় বানাননি, এগুলো ছিল তাঁর জমিদারির অংশ। তাঁর তৈরি বেশ্যালয়ের বেশিরভাগ কোঠাতেই ইংরেজ কর্মচারীরা তাদের আমোদ-ফূর্তির জন্য রাখতেন এক বা একাধিক নেটিভ উপপত্নী। ইংরেজদের পাশাপাশি অনেক বাঙালি বাবুও ছিলেন এই তালিকায়। আর এই বেশ্যালয় যেখানে তৈরি হয়েছিল সেটা ছিল সোনাগাছি। এতগুলো বেশ্যালয়ের মালিকানা নেওয়া দ্বারকানাথের এই পরিকল্পনা ছিল তাঁর ব্যবসায়িক বুদ্ধির প্রমাণ।

prince Dwarkanath Tagore
প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর

যৌনপল্লির নারীদের করুণ কাহিনী

তবে তিনি ব্যবসা করে সাফল্য পেলেও এই যৌনপল্লি তাঁকে সবসময় ধাওয়া করত। ৪৩টা বেশ্যালয়ের আলোর ঝলকানি, নারীদের আর্তনাদ তাঁকে অস্বস্তিতে রাখত। দরবার আর আসরের আলোর ঝলকানি শেষ হলে দ্বারকানাথ যখন তাঁর বিশাল প্রাসাদ, জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ির নিঃশব্দ সিঁড়ি বেয়ে উঠছেন, তখন তাঁকে তাড়া করল ৪৩টা ঘরের আর্তনাদ। আসলে এই বেশ্যালয়গুলো ছিল মূলত সেই সময়ের সামাজিক ট্র্যাজেডির কেন্দ্র—যেখানে অল্পবয়সী মেয়েদের স্বপ্ন, সম্মান ও ভবিষ্যৎ নিলামে উঠত। তাঁর মতো একজন দূরদর্শী মানুষ নিশ্চয়ই জানতেন যে, এই ব্যবসাটি কেবল অর্থ উপার্জনের মাধ্যম নয়, এটি সমাজের গভীর ক্ষত। কিন্তু তৎকালীন ব্রিটিশ আইনের জটিলতা, সামাজিক কাঠামোর অনমনীয়তা এবং জমিদারির আইনগত বাধ্যবাধকতার কারণে তিনি চাইলেও এই বেশ্যালয় বন্ধ করে দিতে পারেননি।

শ্যামের পরে বাজার এল কী করে? জেনে নিন শ্যামবাজার নামের ইতিহাস

শুধুই কি আইনি জটিলতা? দেবেন্দ্রনাথ চাইলে বন্ধ করতে পারতেন না বেশ্যালয়গুলো?

আসলে এই বেশ্যালয়গুলো বন্ধ করতে গেলে কেবল ব্যবসায়িক ক্ষতি হতো না, বরং সমাজের একটি বিশাল অংশ পথে বসতো। তৎকালীন সময়ে পুনর্বাসনের কোনও কাঠামো ছিল না। দ্বারকানাথ হয়তো সেই কঠিন সত্য বুঝতে পেরেছিলেন। তাই তিনি বেশ্যালয় বন্ধ না করে ধীরে ধীরে অন্য ব্যবসায়িক খাতে মনোযোগ বাড়ান। তিনি চেয়েছিলেন তাঁর পরের প্রজন্ম যেন এই বেশ্যালয়ের জ্বালা থেকে মুক্ত হতে পারে।

সেটার প্রমাণও মিলেছিল। তাঁর পুত্র মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর যিনি ছিলেন একজন কট্টর সমাজ সংস্কারক, ব্রাহ্ম ধর্মের প্রবর্তনকারী, তিনি বাবার মৃত্যুর পর এই ৪৩টি বেশ্যালয়সহ বিতর্কিত সম্পত্তিগুলির দ্রুত নিষ্পত্তি করেছিলেন। এটিই প্রমাণ করে, দ্বারকানাথের শেষ ইচ্ছা হয়তো ছিল তাঁর পরিবারের উপর থেকে এই সামাজিক বোঝা দূর করা।


Unknown Story-কে ফেসবুক ও ইন্সটাগ্রামে ফলো করুন



Discover more from Unknown Story

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

---Advertisement---

Raja

লেখালেখি পছন্দ করেন। পেশাদার লিখিয়ে নন। নিজের কাজের পাশাপাশি এখন UnknownStory.in-এ লিখছেন।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now

Leave a Reply