রাজ্য দেশ বিদেশ খেলা খাবার ও রেসিপি লাইফস্টাইল ও স্বাস্থ্য প্রযুক্তি ও গ্যাজেটস অন্যান্য খবর Utility News

---Advertisement---

Chandra Shekhar Ghosh: 2 লাখ টাকা থেকে যাত্রা শুরু, বাঙালির হাত ধরে কীভাবে ব্যাঙ্ক হয়ে উঠল বন্ধন?

By Raja
Published on: February 7, 2026
Chandra Shekhar Ghosh
---Advertisement---

রাজ্যের গ্রাম হোক বা শহর, আপনি যেখানেই যান না কেন সেখানে একটা জিনিস থাকবে। তা হলো ‘বন্ধন’। না এটা মানুষের মাঝে বন্ধন না। এটা হলো বন্ধন ব্যাঙ্ক (Bandhan Bank)। একাধিক মধ্যবিত্ত বা নিম্ন মধ্যবিত্তের অন্যতম ভরসা এই সংস্থা। পশ্চিমবঙ্গের কোণায় কোণায় আজ Bandhan Bank’-এর শাখা ছড়িয়ে আছে। কিন্তু এই বিশাল সাম্রাজ্যের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন এমন একজন মানুষ, যাঁর শুরুটা ছিল অত্যন্ত সাধারণ। চন্দ্রশেখর ঘোষ (Chandra Shekhar Ghosh) প্রমাণ করেছেন যে, লক্ষ্য স্থির থাকলে এবং প্রান্তিক মানুষের সঙ্গে জুড়ে থাকলে যেকোনো অসম্ভবকে সম্ভব করা যায়। পাশাপাশি বাঙালি ব্যবসা করে না বলে যেই কথা প্রচলিত আছে, সেটাকে ভুল প্রমাণ করেছেন তিনি।

এই প্রতিবেদনে জেনে নিন বাংলার অন্যতম সফল ব্যবসায়ী চন্দ্রশেখর ঘোষের ব্যাপারে।

Chandra Shekhar Ghosh: শৈশব ও জীবনসংগ্রাম

চন্দ্রশেখর ঘোষের জন্ম ১৯৬০ সালে ত্রিপুরার আগরতলায়। তাঁর বাবা ছিলেন একজন মিষ্টির দোকানের মালিক। খুব ছোটবেলা থেকেই তিনি অভাবের সঙ্গে লড়াই করেছেন। পরিবারের বড় সন্তান হিসেবে তাঁর ওপর দায়িত্ব ছিল অনেক। তবে তাঁর রক্তে ছিল ব্যবসা।

  • শিক্ষাজীবন: Chandra Shekhar Ghosh ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পরিসংখ্যানে (Statistics) স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। যদিও তিনি মেধাবী ছিলেন, কিন্তু চাকরির বাজারে প্রবেশ করা তাঁর জন্য খুব একটা সহজ ছিল না।
  • প্রথম কর্মজীবন: ১৯৮৫ সালে তিনি ‘ব্র্যাক’ (BRAC) নামক একটি আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থায় যোগ দেন। সেখানেই তিনি প্রথম দেখেন গ্রামবাংলার প্রান্তিক মানুষের দারিদ্র্য এবং মহাজনদের থেকে ঋণ নিয়ে একের পর এক পরিবারের নিঃস্ব হয়ে যাওয়ার ছবি। এই অভিজ্ঞতাই তাঁর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয় এবং তিনি নতুন দিগন্তের দেখা পান।

বন্ধন-এর জন্ম: মাত্র ২ লক্ষ টাকার পুঁজি

২০০১ সালে চন্দ্রশেখর ঘোষ নিজের কিছু করার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি চাকরি ছেড়ে দিয়ে পশ্চিমবঙ্গ ফিরে আসেন। তিনি চেয়েছিলেন এমন কিছু করতে যা সরাসরি গরিব মানুষের উপকারে আসবে।

সেই সময় তাঁর কাছে মূলধন বলতে ছিল মাত্র ২ লক্ষ টাকা, যা তিনি বন্ধু এবং আত্মীয়দের কাছ থেকে ধার করেছিলেন। এই সামান্য টাকা নিয়েই ২০০১ সালে কলকাতার কাছাকাছি কোন্নগরে ‘বন্ধন’ নামে একটি অলাভজনক সংস্থা (NGO) শুরু করেন। কঠিন হলেও তিনি ঝুঁকি নেন এবং এটাই তাঁর কেরিয়ারের সেই টার্নিং পয়েন্ট ছিল।

গ্রামীণ মহাজনরা সাধারণ মানুষকে চড়া সুদে ঋণ দিয়ে সর্বস্বান্ত করত। চন্দ্রশেখর ঘোষ চেয়েছিলেন ক্ষুদ্রঋণ বা মাইক্রো-ফাইন্যান্সের মাধ্যমে মহিলাদের স্বনির্ভর করতে।

ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য পৃথিবীকে বাসযোগ্য করছেন মহারাষ্ট্রের ‘বীজ মাতা’

সাইকেল চালিয়ে গ্রাম ঘুরে ঋণ দেওয়া

বন্ধন-এর শুরুর দিনগুলো ছিল অত্যন্ত পরিশ্রমের। চন্দ্রশেখর ঘোষ নিজে সাইকেল চালিয়ে গ্রামে গ্রামে ঘুরতেন। মহিলারা যাতে ছোট ছোট ব্যবসার (যেমন- মুড়ি ভাজা, সেলাই, হাঁস-মুরগি পালন) জন্য অল্প সুদে ঋণ পায়, তা তিনি নিশ্চিত করতেন। পুরুষদের নয়, ঋণ দেওয়া হতো মহিলাদের।

সাইকেলে করে গ্রামে ঘুরে ঋণ দেওয়া থেকে ধীরে ধীরে বন্ধন জনপ্রিয়তা অর্জন করতে থাকে। কোনও বিজ্ঞাপন দিতে হয়নি সংস্থাকে। উপভোক্তারাই ছিলেন বিজ্ঞাপনের মাধ্যম। আর বন্ধনের অন্যতম গুণ হচ্ছে, এখানে ঋণ সপ্তাহে শোধ করতে হয়। ফলে একবারে শোধ করতে গিয়ে কারও পকেটে চাপও পড়ত না। পাশাপাশি ছিল, ঋণ চলাকালীন যদি কোনও মহিলার স্বামীর মৃত্যু হয়, তা হলে তাঁকে ঋণ দিতে হতো না। 

ধীরে ধীরে বন্ধন বাংলার গ্রাম থেকে ছড়িয়ে পড়ে দেশেও এবং বন্ধন থেকে বন্ধন ব্যাঙ্ক হওয়ার দিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে যায়।

bandhan bank inauguration
ব্যাঙ্কের উদ্বোধনে তৎকালীন অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি

ইতিহাস সৃষ্টি: এনবিএফসি থেকে ইউনিভার্সাল ব্যাঙ্ক

২০১৪ সালের ২ এপ্রিল ভারতীয় ব্যাঙ্কিং ইতিহাসে এক ঐতিহাসিক দিন। আইডিএফসি (IDFC) এবং বন্ধন—এই দুটি সংস্থাকেই রিজার্ভ ব্যাঙ্ক নতুন ব্যাঙ্কিং লাইসেন্স প্রদান করে। ভারতের ইতিহাসে প্রথম কোনও ক্ষুদ্রঋণ প্রদানকারী সংস্থা সরাসরি একটি পূর্ণাঙ্গ ব্যাঙ্কে রূপান্তরিত হয়।

২০১৫ সালের ২৩ অগস্ট কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি কলকাতায় আনুষ্ঠানিকভাবে Bandhan Bank-এর উদ্বোধন করেন। সেইদিন থেকে চন্দ্রশেখর ঘোষের স্বপ্ন এক নতুন উচ্চতা পায়।

সাফল্যের রহস্য: কেন বন্ধন ব্যাঙ্ক আলাদা?

বন্ধন ব্যাঙ্কের সাফল্যের পেছনে চন্দ্রশেখর ঘোষের কয়েকটি বিশেষ কৌশল কাজ করেছে:

১. প্রান্তিক মানুষের ওপর আস্থা: যে বড় বড় ব্যাঙ্কগুলো গরিব মানুষকে ঋণ দিতে ভয় পেত, চন্দ্রশেখর ঘোষ তাঁদের ওপরই ভরসা করেছেন। বন্ধনের ঋণের পুনরুদ্ধারের হার (Recovery Rate) সবসময়ই ৯৮-৯৯ শতাংশের ওপর থেকেছে।

২. মিতব্যয়িতা: ব্যাঙ্ক হওয়ার পরেও বন্ধন তার পরিচালনাগত খরচ (Operational Cost) নিয়ন্ত্রণে রেখেছে।

৩. ব্যক্তিগত সংযোগ: বন্ধনের কর্মীরা সরাসরি মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিষেবা দেন। এই ‘Doorstep Service’ গ্রামীণ ভারতের মানুষের মন জয় করে নিয়েছে।

চন্দ্রশেখর ঘোষের বর্তমান স্থিতি ও পদত্যাগ

দীর্ঘ দুই দশক বন্ধন ব্যাঙ্ককে নেতৃত্ব দেওয়ার পর ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে Chandra Shekhar Ghosh তাঁর এমডি এবং সিইও (MD & CEO) পদ থেকে অবসরের ঘোষণা করেন। তিনি এখন এই প্রতিষ্ঠানের একজন পথপ্রদর্শক বা মেন্টর হিসেবে থাকতে চান। তাঁর হাত ধরে শুরু হওয়া সেই ২ লক্ষ টাকার সংস্থা আজ কয়েক লক্ষ কোটি টাকার আমানত সমৃদ্ধ এক বিশাল ব্যাঙ্কিং প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।

চন্দ্রশেখর ঘোষ কেবল একজন সফল ব্যাঙ্কার নন, তিনি একজন সমাজ সংস্কারকও বটে। তিনি শিখিয়েছেন যে, পুঁজি কম থাকলেও যদি সততা এবং মানুষের জন্য কাজ করার সদিচ্ছা থাকে, তবে শূন্য থেকেও সাম্রাজ্য গড়া যায়। তাঁর জীবনকাহিনী আগামী প্রজন্মের উদ্যোক্তাদের জন্য চিরকাল আলোকবর্তিকা হয়ে থাকবে।


Unknown Story-কে ফেসবুক ও ইন্সটাগ্রামে ফলো করুন



Discover more from Unknown Story

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

---Advertisement---

Raja

লেখালেখি পছন্দ করেন। পেশাদার লিখিয়ে নন। নিজের কাজের পাশাপাশি এখন UnknownStory.in-এ লিখছেন।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now

Leave a Reply