Site icon Unknown Story

German Man Swims to Office: যানজটে বিরক্ত, প্রতিদিন 2 কিলোমিটার সাঁতার কেটে অফিস যান এই ব্যক্তি

German man swims to office

আপনি অফিস বা কর্মস্থলে কী করে যান? বাস, মেট্রো, লোকাল ট্রেন, নিজস্ব গাড়ি বা হেঁটে। কেমন হয় যদি আপনাকে বলা হয়, প্রতিদিন সাঁতার কেটে অফিসে যেতে হবে? শুনতে অবাস্তব লাগলেও এটাই করছেন জার্মানির মিউনিখের বেঞ্জামিন ডেভিড (German man swims to office)। কেন এই কাজ করছেন বেঞ্জামিন? জেনে নিন-

বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ও ব্যস্ত শহরগুলোর মধ্যে প্রথম সারিতে রয়েছে মিউনিখ। এই শহরের রাস্তাগুলোতে সবসময়ে মানুষের ভিড় লেগেই থাকে। অফিসের টাইমে যেটা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। ফলে যানজট এখানকার নিত্যদিনের সঙ্গী। প্রতিদিন যাতায়াত করার সময় এই জ্যাম বিরক্তির জন্ম দেবেই। সেটা থেকেই রক্ষে পেতেই বেঞ্জামিন এই পদক্ষেপ নেন, সাঁতার কেটে অফিস যাওয়া তাঁর নিত্যদিনের কাজ।

কে বেঞ্জামিন ডেভিড?

বেঞ্জামিন ডেভিড একটি সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা। শিল্পকর্ম নিয়ে তাঁর কাজ। তাঁর অফিসটি অবস্থিত মিউনিখের জনপ্রিয় ইসার নদীর কাছে। প্রতিদিনই তাঁকে অফিস যেতে হয়।

কেন সাঁতার কেটে অফিস যান (German man swims to office)?

গত কয়েক বছর ধরে তিনি মিউনিখের ট্র্যাফিক নিয়ে বিরক্ত হচ্ছিলেন। প্রতিদিনের যানজট এবং কর্মস্থলে পৌঁছানোর ধকলের ফলে তাঁর কাজ, দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেলছিল। সাইকেল বা বাসে করে অফিসে যেতেও অনেক সময় লাগত এবং মানসিক চাপ বাড়ত। সৃজনশীল ব্যক্তি হওয়ায় দৈনন্দিন এই ধকল তাঁকে ভাবতে সাহায্য করত না।

Last newspaper hawker in France: 50 বছর, ইউরোপের শেষ পেপার হকার, পাকিস্তানি আলিকে ফ্রান্সের সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মান

এভাবে চলে বেশ কয়েক বছর। সেই সময়ে এক গ্রীষ্মকালে তিনি তাঁর বাড়ির জানালা দিয়ে দেখছিলেন পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ইসার নদীকে। তাঁর অফিস ও বাড়ির পাশ দিয়ে এই নদী বয়ে গিয়েছে। কাজের মাঝে কোনওদিন নদীটিকে শান্তভাবে দেখার সময় পাননি তিনি। সেদিন ছুটি পেয়ে সেটাই করছিলেন। দেখছিলেন ইসার নদীর শান্ত ও স্বচ্ছ জলধারা।

সেই মুহূর্তেই তাঁর মনে আসে এক অভিনব চিন্তা। দেখেন নদীটি তাঁর বাড়ি থেকে অফিস পর্যন্ত বয়ে গেছে এবং সেটা দেখে তাঁর মনে হলো, এই নদী কেন তাঁর যাতায়াতের মাধ্যম হতে পারে না? যেই ভাবা সেই কাজ (German man swims to office)।

শুধু সময় বাঁচানো নয়, কারণ ছিল প্রকৃতিও

তবে এই সিদ্ধান্তের পিছনে কেবল সময় বাঁচানোর কারণ ছিল না। তিনি প্রকৃতিপ্রেমীও ছিলেন। তিনি চেয়েছিলেন প্রকৃতির কাছাকাছি থেকে দিন শুরু করতে। এই ধারণাটি তাঁকে এতটাই অনুপ্রাণিত করে যে, তিনি পরদিন থেকেই এই নতুন যাতায়াত ব্যবস্থা শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন (German man swims to office)।

Every Resident Own a Plane: গাড়ি নয়, এখানে নিত্যদিনের সঙ্গী বিমান, চেনেন এই শহরকে?

তবে ইসার নদী পেরোতে গেলে তাঁর লাগবে একটা বোট। হিসেব করে দেখেন বোট জলে নামাতে যা খরচ ও অনুমতির জন্য যা ঝামেলা পোহাতে হবে সেটা খুব একটা লাভ হবে না। তাই তিনি সাঁতার কেটে অফিসে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এটার জন্য তিনি একটি বিশেষ ধরনের ওয়াটারপ্রুফ ব্যাগ কেনেন।

এই ব্যাগে থাকত তাঁর পোশাক, ল্যাপটপ, ফোন এবং অন্য জরুরি জিনিসপত্র। এই ব্যাগ ভাসমান ছিল। ফলে সাঁতার কাটার সময় তাঁর বাড়তি সুবিধা হতো, কিছু সময় ভেসেও থাকতে পারতেন। তিনি পেশাদার সাঁতারুর মতো পোশাক পরে নদীতে নেমে সাঁতার কেটে যান (German man swims to office)।

সাঁতার কেটে অফিসে যাওয়া (German man swims to office)

প্রতিদিন সকালে বেঞ্জামিন তাঁর বাড়ির কাছে নদীর ঘাটে নেমে পড়েন এবং স্রোতের সঙ্গে ভেসে চলেন। প্রায় ২ কিলোমিটার সাঁতার কেটে তিনি মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যে অফিসে পৌঁছে যান, যেখানে বাসে বা সাইকেলে যেতে তাঁর এক ঘণ্টারও বেশি সময় লাগত। এই অভিনব পদ্ধতিটি তাঁকে শারীরিক এবং মানসিকভাবে ফিট থাকতে সাহায্য করছে।

বেঞ্জামিনের প্রতিক্রিয়া এবং এই অভ্যাসের প্রভাব

কোনও কাজ শুরু করলে অনেকে অনেক কথা বলে। বেঞ্জামিনের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটেছিল। নিন্দার মুখে পড়েছিলেন। পাগল বলেছিলেন অনেকে। প্রথম দিকে, সেতুর উপর দিয়ে হেঁটে যাওয়া মানুষজন তাঁকে পাগল বলতেন। তবে একদিন যখন তিনি পুরো বিষয়টা সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেন, তখন সবার দৃষ্টিভঙ্গি বদলে যায়।

বেঞ্জামিন বলেন, ‘যখন আমি নদীতে সাঁতার কাটি, তখন আমি সব ধরনের চাপ ও দুশ্চিন্তা থেকে মুক্ত থাকি। নদীর শান্ত পরিবেশে আমি চারপাশে প্রকৃতির সৌন্দর্য দেখতে পাই। হাঁস, কাঠবিড়ালি এবং নদীর পাশের সবুজ গাছপালা আমাকে সতেজ করে তোলে।’

বেঞ্জামিনের জীবনে পরিবর্তন

এই অভ্যাসটির ফলে তাঁর জীবনে বহু ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। বেঞ্জামিন জানান, তিনি এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সুস্থ এবং ফুরফুরে মেজাজে থাকেন, তিনি অফিসে পৌঁছন সতেজ ও প্রাণবন্ত হয়ে, যা তাঁর কর্মক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।

তাঁকে দেখে অনেকে সাঁতারের রাস্তা ধরেছেন। কেউ ফিট থাকতে সাঁতার কাটেন, কেউ কেউ অফিসে যাওয়া আসা করেন তাঁর মতো সাঁতার কেটে।

বর্তমানে বাড়তে থাকা জনসংখ্যার সামনে বেঞ্জামিন ডেভিডের উদাহরণ অনুপ্রেরণা। যানজট, জনসংখ্যা কোনও সমস্যাই নয়, যদি বুদ্ধি খরচ করা যায়। তবে বেঞ্জামিনের দেখাদেখি যারা নদীতে সাঁতার কেটে অফিস যাচ্ছেন, তাঁদের কাছে চ্যালেঞ্জ নদী পরিষ্কার রাখা।


Exit mobile version