রাজ্য দেশ বিদেশ খেলা খাবার ও রেসিপি লাইফস্টাইল ও স্বাস্থ্য প্রযুক্তি ও গ্যাজেটস অন্যান্য খবর Utility News

---Advertisement---

History of Iran Economy: মাত্র 1000 টাকা নিয়ে গেলে হয়ে যাবেন কোটিপতি, কোন দেশে রয়েছে এই সুবিধা?

By Raja
Published on: January 25, 2026
History of Iran Economy
---Advertisement---

ডলার বিনিময়ে ভারতীয় মুদ্রার দাম ৯১ টাকা। যতদিন যাচ্ছে ডলার বিনিময়ে তত দাম কমছে ভারতীয় মুদ্রার। এটা নিয়ে দেশে শোরগোল কম হচ্ছে না। তবে বিশ্বের এমন একটা দেশ আছে যেখানে আপনি মাত্র ১ হাজার টাকা নিয়ে গেলে কোটিপতি হয়ে যাবেন। না, আমি কোনও গরীব দেশের কথা বলছি না। আমি বলছি ইরানের কথা (History of Iran Economy)। সেই দেশে এখন গেলে আপনি কোটিপতি হতে পারবে। তেলের ভান্ডারের দিক থেকে যেই দেশ বিশ্বে তৃতীয় স্থানে রয়েছে তাদের এই অবস্থা কী করে? এই প্রতিবেদনে রইল বিস্তারিত। যা আপনাকে ভাবতে বাধ্য করবে।

২৪ জানুয়ারির রেট দেখলে ১ ভারতীয় টাকা হচ্ছে ১১ হাজার ৭১৯ ইরানিয়ান রিয়ালের সমান। অর্থাৎ, ১ হাজার টাকা থাকলেই সেটা ইরানিয়ান রিয়ালে গিয়ে দাঁড়াবে ১ কোটি টাকার বেশি। ইরানিয়ান রিয়াল এখন বিশ্বের সবচেয়ে দুর্বল মুদ্রার তালিকায় উপরের দিকে জায়গা করেছে।

History of Iran Economy: ৪০ বছর আগে ইরান কতটা শক্তিশালী ছিল?

বর্তমানে ইরানের যা অবস্থা তা আগে ছিল না। ৪০ বছর আগে, অর্থাৎ, ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের আগে ইরানকে বলা হলো Switzerland of Middle East, অর্থাৎ, মধ্যপ্রাচ্যের সুইৎজ়ারল্যান্ড। ইরানের উন্নতি, স্বাধীনতা তখন ছিল বাকি বিশ্বের কাছে উদাহরণ। (History of Iran Economy)

  • অর্থনৈতিক শক্তি: সেই সময় ১ মার্কিন ডলারের দাম ছিল মাত্র ৭০ রিয়াল। ইরান ছিল বিশ্বের অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতি।
  • সামরিক ও আধুনিকতা: মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার সবথেকে বড় বন্ধু ছিল ইরান। তেহরানকে বলা হতো ‘প্রাচ্যের প্যারিস’। আধুনিক শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং তেলের ডলারে ইরান তখন উপচে পড়ছিল। এমনকি ভারতীয় ও পাকিস্তানিরাও তখন ইরানে কাজ করতে যেত উন্নত জীবনের আশায়।
  • মুদ্রার মান: সেই সময় ইরানের মুদ্রার মান ছিল অত্যন্ত স্থিতিশীল এবং আন্তর্জাতিক বাজারে এর গ্রহণযোগ্যতা ছিল অনেক বেশি।
History of Iran Economy
বর্তমানে ভারতীয় টাকার সঙ্গে ইরানিয়ান রিয়ালের পার্থক্য

কেন ধসে পড়ল রিয়াল? পতনের কারণসমূহ

ইরানের মুদ্রার এই ঐতিহাসিক পতনের পেছনে কেবল অর্থনৈতিক নয়, বরং রাজনৈতিক কারণগুলোই মুখ্য। শুধু ইরান নয়, বিশ্বের যে কোনও দেশের মুদ্রা বা অর্থনীতি পতনের নেপথ্যে সেই দেশের অযোগ্য প্রশাসনের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি থাকে। ইরান তার জ্বলজ্যান্ত উদাহরণ।

আমেরিকার নিষেধাজ্ঞা

ইরানের পতনের সবথেকে বড় কারিগর হলো আমেরিকার অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা। ১৯৭৯ সালে মার্কিন দূতাবাসে জিম্মি সংকটের পর থেকে শুরু করে পরমাণু কর্মসূচি পর্যন্ত—আমেরিকা ইরানের ওপর দফায় দফায় নিষেধাজ্ঞা চাপিয়েছে। এর ফলে ইরান তাদের তেল আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রি করতে পারেনি, এর ফলে ইরানের আয়ে ধাক্কা লাগে। (History of Iran Economy)

পরমাণু চুক্তি ও ডোনাল্ড ট্রাম্প

২০১৫ সালে বারাক ওবামার আমলে পরমাণু চুক্তি (JCPOA) হওয়ার পর মনে করা হয়েছিল ইরানের সুদিন ফিরবে। কিন্তু ২০১৮ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প সেই চুক্তি থেকে বেরিয়ে গিয়ে ইরানের ওপর ‘ম্যাক্সিমাম প্রেশার’ নীতি প্রয়োগ করেন। এরপরই রিয়ালের মান আকাশ থেকে পাতালে পড়তে শুরু করে।

2022 সালে শুরু, কেন রাশিয়া-ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধ? ভারতের ভূমিকা কী?

মুদ্রাস্ফীতি ও অব্যবস্থাপনা

অভ্যন্তরীণ দুর্নীতি, ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থায় ত্রুটি এবং সরকারের অতিরিক্ত টাকা ছাপানোর ফলে ইরানে মুদ্রাস্ফীতি বর্তমানে ৪০-৫০ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। জিনিসের দাম প্রতিদিন বাড়ছে, ফলে মানুষ কাগজের নোটের ওপর আস্থা হারিয়ে সোনা বা ডলারে বিনিয়োগ করছে। (History of Iran Economy)

তবে এর শুরুটা কোথায়? কী করে ৪০ বছর আগে শক্তিশালী ইরানে আজ এই দশা হলো? 

এটা জানতে গেলে ঢুকতে হবে একটু গভীরে। ১৯৭৯ সালে ইরানে ইসলামিক নবজাগরণের পর তৈরি হলো বুনিয়াদ নামে একটা সমাজসেবামূলক সংগঠন। সরকার তাদের হাতে সব ক্ষমতা দিয়ে দিল। অর্থ, জমি সবকিছু দেওয়া হলো এই বুনিয়াদদের। বলা ভালো, জনগনের টাকা চলে গেল বুনিয়াদদের হাতে। ইরানের অর্থনীতির ৪০ শতাংশ নিয়ন্ত্রক হয়ে গেল এই বুনিয়াদরা। তারা সবার আগে এসে প্রাইভেক্ট সংস্থাগুলোর ঝাঁপ বন্ধ করল। কারণ স্বাধীনভাবে ব্যবসার বিরোধী তারা। আর এই প্রাইভেট সেক্টর থেকে আসত ২৫% কর।

এর বদলে বুনিয়াদরা তাদের পছন্দের সংস্থাকে সুবিধা করে দিল। যারা কোনও কর দিত না এবং জমি বিনামূল্যে পেত। পাশাপাশি কোনও সরকারি টেন্ডারের জন্য দরাদরি করতে হতো না, বুনিয়াদদের যাকে পছন্দ তাকেই দিত টেন্ডার।

Iran Economy
৪০ বছর আগে ইরানের ছবি

টাকায় নয়ছয় ও দুর্নীতি

সরকার ত্রিস্তরীয় কারেন্সি এক্সচেঞ্জ শুরু করল। এর লক্ষ্য হলো, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসে ভর্তুকি দেওয়া। চ্যানেল ১, যেখানে প্রতি ডলারে দেওয়া হলো ৪২ হাজার ডলার রিয়াল। যারা খাবারের মতো নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী আমদানি করত তারা এক ডলার দিয়ে ৪২ হাজার রিয়াল পেতে লাগল। ফলে অনেকেই সস্তায় ডলার কিনতে শুরু করল। বদলে চা, ডালের মতো সামগ্রী আমদানির দাবি করল। এর পর সেই সুবিধাটা সাধারণ মানুষের মধ্যে না বিলিয়ে দিলে খোলা বাজারে সেটাই বিপুল দামে বিক্রি করল। এর ফলে সরকার কয়েক হাজার কোটি রিয়াল হারাতে থাকল। (History of Iran Economy)

উদাহরণ- ধরুন আপনি ইরানের বুনিয়াদদের দেখালেন আপনি বাইরে থেকে চা ইরানে আমদানি করেছেন। আপনি চ্যানেল ১-এর সুবিধা নিয়ে ৪২ হাজার রিয়ালের বিনিময়ে এক ডলার দিলেন। আপনি ডলারে কিনলেন, বদলে ইরান সরকারকে কম রিয়াল দিলেন। সেই চা আপনি তিন গুণ বেশি দামে বাজারে বিক্রি করলেন। এর ফলে তিন গুণ আপনার লাভ।

অর্থের জোগান কমে যাওয়া

যেহেতু সরকার বুনিয়াদদের থেকে কর নিত না, তাই সরকারের কোষাগারে টান পড়তে লাগল। সরকারকে কিন্তু বেতন দিতে হচ্ছিল সেনা ও সরকারি কর্মীদের। এটা করতে গিয়ে সরকার আরও বেশি করে টাকা ছাপান শুরু করল। এর ফলে বাজারে অনেক ক্যাশ চলে এল এবং ফলে জিনিসের দাম বাড়ল ৪২% পর্যন্ত। বেতন এবং পেনশনের কোনও মূল্যই রইল না। এতেই কমল রিয়ালের দাম।

Strait of Hormuz নিয়ন্ত্রণ করতে চায় ইরান, কেন? জেনে নিন 3 কারণ

নিষেধাজ্ঞা ও প্রতিযোগী

ইরানের থেকে তেল কেনার সবচেয়ে বড় ক্রেতা ছিল চিন। ধীরে ধীরে চিন তেলের ব্যবহার কমাতে শুরু করল। একই সঙ্গে ইরানের থেকেও কম দামে তেল বিক্রি শুরু করল রাশিয়া এবং সেটা আরও ভালো মানের। এর ফলে ইরানের তেলের চাহিদা কমল। 

ইরানের বর্তমান জীবনযাত্রা: কোটিপতি কিন্তু ভিখারি?

এটা অনেকটা ট্র্যাজেডি। ইরানে একজন দিনমজুরের বেতনও কয়েক লক্ষ রিয়াল। কিন্তু সেই টাকা দিয়ে তিনি এক কেজি মাংস কিনতেই হিমশিম খাচ্ছেন। অর্থাৎ, তাঁর দেশে মুদ্রার দাম তলানিতে। এখন বেশি ক্যাশ হাতে রাখতে হচ্ছে ইরানের বাসিন্দাদের। দোকানে গেলে এক ব্যাগ নোট দিয়ে সামান্য কয়েকটা সবজি পাওয়া যায়। ফলে সরকার এখন ‘রিয়াল’ বদলে ‘তোমান’ (Toman) নামক নতুন ইউনিট ব্যবহার করছে, যেখানে থেকে ৪টি শূন্য বাদ দেওয়ার চেষ্টা চলছে। (History of Iran Economy)

আর দেশের এই অবস্থা দেখে সাধারণ মানুষ বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম মেজাজ হারিয়ে রাস্তায় নামল। অনেকে ইরানে জোর করে ইসলামের নীতি চাপিয়ে দেওয়ায় রাস্তায় হিজাব খুলে বিক্ষোভ দেখায়। তাদের আটকাতে ইরান সরকার বল প্রয়োগ করায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। (Iran Protest)

Iran Protest
ইরানের রাস্তায় মহিলাদের বিক্ষোভ

আমেরিকায় ভূমিকার

যেই দেশের কাছে তেল আছে তাদের উপর আমেরিকার নজর বরাবরের। আর ইরান সরকারের আমেরিকা বিরোধী মনোভাব সেই ছবিটাকে আরও খারাপ করেছে। আমেরিকার নিষেধাজ্ঞা কেবল ইরানের সরকারকে চাপে ফেলার জন্য নয়, বরং ইরানের সাধারণ মানুষের জীবনকে পঙ্গু করে দেওয়ার অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। ব্যাঙ্কিং চ্যানেল বন্ধ করে দেওয়ায় ইরানের সাধারণ মানুষ বিদেশ থেকে ওষুধ বা প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানি করতে পারছে না। আমেরিকা মনে করে, এই অর্থনৈতিক চাপ ইরানকে তাদের পরমাণু কর্মসূচি বন্ধ করতে বাধ্য করবে। কিন্তু বাস্তবে এর প্রভাব পড়ছে মুদ্রার দামে। (History of Iran Economy)

ইরানের এই পরিস্থিতি সারা বিশ্বের জন্য একটি শিক্ষা। প্রাকৃতিক সম্পদ (তেল) থাকা সত্ত্বেও কেবল ভূ-রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব এবং নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়ে কীভাবে একটি শক্তিশালী দেশের মুদ্রা মূল্যহীন হয়ে যেতে পারে, ইরান তার সবথেকে বড় উদাহরণ। ভারতীয়দের জন্য ইরান এখন সস্তা ভ্রমণের দেশ হতে পারে, কিন্তু সেই সস্তাত্বের নেপথ্যে লুকিয়ে আছে ৪০ বছরের এক দীর্ঘ লড়াই ও অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের ইতিহাস।


Unknown Story-কে ফেসবুক ও ইন্সটাগ্রামে ফলো করুন



Discover more from Unknown Story

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

---Advertisement---

Raja

লেখালেখি পছন্দ করেন। পেশাদার লিখিয়ে নন। নিজের কাজের পাশাপাশি এখন UnknownStory.in-এ লিখছেন।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now

Leave a Reply