Every Resident Own a Plane: আজকাল রাস্তা বেরলেই একটা জিনিস সকলেই দেখতে পান। সেটা হচ্ছে গাড়ির জ্যাম। রিক্সা, বাইক, অটোর ভিড়ে এখন পথে চলাই দায়। এরসঙ্গে যুক্ত হয়েছে হর্ন। ফলে ধৈর্যের সঙ্গে সঙ্গে কানেরও বারোটা বাজে। আপনি শহরে থাকুন বা গ্রামে, এই সমস্যা ফেস করেছেন। তবে আপনি কি জানেন, বিশ্বের এমন একটা শহর আছে যেখানে নেই কোনও গাড়ির ভিড়। কারণ এখানে নেই আর পাঁচটা শহরের মতো রাস্তা, এখানে গাড়িও নেই। বরং প্রতিটা বাড়িতে রয়েছে একটা বিমান। আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়ার ক্যামেরুন এয়ারপার্ক এলাকাটা এমনই। একে অনেকে fly-in community বলে থাকেন।
Table of Contents
এখানে সকালের সংবাদপত্রটি ডেলিভারি দিতে একজন মানুষ প্লেন নিয়ে উড়ে আসেন। এলাকার শিশুরা স্কুলে যাওয়ার জন্য তাদের ছোট প্লেনে চেপে বসে, আর বাবা-মায়েরা অফিসে যাওয়ার আগে নিজেদের প্লেনের রক্ষণাবেক্ষণে ব্যস্ত থাকেন। সারা বিশ্বের মানুষ যখন গাড়ির জ্বালানি খরচ, ট্র্যাফিকের চাপ এবং পরিবেশ দূষণ নিয়ে চিন্তিত, তখন ক্যামেরুন এয়ারপার্কের বাসিন্দারা আকাশে নিজেদের জায়গা করে নিয়েছে। এখানে প্রতিটা বাড়িতে গাড়ি রাখার পার্কিং না থাকলেও বিমান রাখার জন্য হ্যাঙার রয়েছে।
Russia Ukrain War: 2022 সালে শুরু, কেন রাশিয়া-ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধ? ভারতের ভূমিকা কী?
কোথায় অবস্থিত ক্যামেরুন এয়ারপার্ক?
ক্যালিফোর্নিয়ার স্যান গ্যাব্রিয়েল পর্বতমালার এক কোণে রয়েছে এই শহর। শহরটি এতটাই কোণে অবস্থিত যে, গুগল ম্যাপে এর অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া কঠিন। এই শহরটি আর পাঁচটা শহরের মতো বড় রাস্তা, ট্র্যাফিক সিগনাল, বাস বা মেট্রো স্টেশন দিয়ে সাজানো নয়। এখানে রয়েছে অসংখ্য চওড়া রানওয়ে, যা প্রতিটি বাড়ির দরজা থেকে শুরু। প্রতিটি রানওয়ে থেকে একটি ছোট প্রাইভেট প্লেন উড়তে এবং নামতে পারে। প্রতিটি বাড়ির সঙ্গে একটি হ্যাঙার রয়েছে (বিমান যেখানে পার্কিং করা হয়)।
এই এলাকার বাসিন্দারা গর্বের সঙ্গে বলেন, ‘আমাদের ঠিকানা আকাশে, পৃথিবীতে আমাদের অস্তিত্ব কম।’ এখানে শিশুদের প্লেন চালানোর ট্রেনিং দেওয়া হয়, যা তাদের প্রাথমিক শিক্ষার একটি অংশ।
গাড়ি ছেড়ে কেন বিমানকে বেছে নিলেন এখানকার বাসিন্দারা? (Every Resident Own a Plane)
বিমানে চড়া মানুষের স্বপ্ন থাকে। সেই স্বপ্নপূরণ করে এটাকে নিত্যদিনের সঙ্গী করে তুলেছেন এই এলাকার বাসিন্দারা। এই স্বপ্নের জন্ম হয়েছিল প্রায় ১০০ বছর আগে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে অনেক পাইলট বেকার হয়ে যান। তাদের মধ্যে কিছুজন নতুন ধরনের জীবনযাপনের লক্ষ্য নেন। এই স্বপ্নকে বাস্তব রূপ দেন একজন দূরদর্শী পাইলট, যার নাম জন হিলম্যান।
ছোট দেশগুলোর ভরসা, যুদ্ধে কী ভাবে গুরুত্ব বাড়ছে ড্রোনের?
জন হিলম্যান এবং তার কয়েকজন পাইলট বন্ধু মিলে পরিকল্পনা করেন এমন একটি শহর তৈরি করবেন যেখানে তাঁরা বিমান পার্ক করতে পারবেন, পাশাপাশি যখন খুশি তখন উড়তে পারবেন। এই প্রস্তাবটা নিয়ে অনেক কর্তার কাছে গেলেও সকলে তা উড়িয়ে দেন। কিন্তু তিনি খুঁজে ক্যালিফোর্নিয়ার এই নির্জন স্থানটি বের করেন ও সেখানেই কমিউনিটি তৈরি করেন।
১৯৫০ সাল নাগাদ জন এবং তাঁর বন্ধুরা শুরুতে কয়েকটা রানওয়ে তৈরি করেন। এর পর সেই রানওয়ের পাশে বাড়ি তৈরি করেন। স্বাভাবিকভাবে শুরুতে কয়েকজন পাইলটের পরিবার এখানে বসবাস করত (Every Resident Own a Plane)। ধীরে ধীরে অনেকের নজর পড়ে এই এলাকার দিকে। শহরের কোলাহল থেকে দূরে থাকতে চান সকলেই। বিভিন্ন জায়গা থেকে পাইলট এবং বিমানপ্রেমীরা এখানে আসতে শুরু করেন। তাঁদের দেখাদেখি ভিন্ন পেশার মানুষও ভিড় জমান।
এখানকার মানুষদের জীবনযাত্রা কেমন?
এখানকার মানুষের জীবনযাত্রা সম্পূর্ণ আলাদা। এখানে রাস্তার থেকে বেশি ভিড় হয় আকাশে। প্রত্যেকে অফিস যাওয়ার আগে হ্যাঙার থেকে বিমান বের করেন। বাচ্চাদের স্কুলে নিয়ে যাওয়া থেকে শুরু করে বাজার করা সবকিছুই চলে বিমানে (Every Resident Own a Plane)।
এখানকার বিমানগুলো বিভিন্ন আকারের হয়। কেউ ছোটো ছোটো একাধিক বিমান রাখেন। যাতে একজন বা দু’জন চড়তে পারেন. আবার কিছু পরিবার একটু বড় বিমান রাখেন, দূরে ভ্রমণের জন্য। ঠিক যেমন ফোর বা সেভেন সিটার কার।
এয়ারশো-র আয়োজন
প্রতি বছর এই শহরে বেশ কয়েকটি এয়ার শো এবং প্লেন রেসিং প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এটিই এখানকার বার্ষিক উৎসব। বাইরে থেকেও অনেকে অংশগ্রহণ করেন এখানে।
এখানকার বাসিন্দাদের একটি ক্লাব রয়েছে, যার নাম ‘ফ্লাইং ফ্যামিলি ক্লাব’। ঠিক আমার আপনার পাড়ার ক্লাবের মতো। এখানে ক্লাবে আড্ডা থেকে একসঙ্গে পিকনিক চলে।
China AI Technology: বিশ্বজুড়ে এক থ্রেট ও ভারতে এর প্রভাব
আকাশ মেঘে ঢাকা ও চ্যালেঞ্জ
সারাদিন বিমানে যাতায়াত করা যতটা রোমাঞ্চকর, ঠিক ততটাই চ্যালেঞ্জিং। বিমান মানে সেখানে ঝুঁকি সবসময় বেশি। আবহাওয়া একটা ফ্যাক্টর রয়েছে। পাশাপাশি বিমান সারাই করা আর গাড়ি সারাই করা এক নয়। বিমান চালাতে ও রক্ষণাবেক্ষণ করতে খরচও বেশি।
নতুন প্রজন্ম আকাশে ডানা মেলছে
নতুন প্রজন্ম এই বিমানের পথে হাঁটছে (Every Resident Own a Plane)। বিমান চালানো, রক্ষণাবেক্ষণ, ড্রোন নিয়ে পড়াশোনা করছে। যেহেতু শহরেই একটা এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোল আছে, তাই সেটির প্রশিক্ষণও অনেকে নেন। সব মিলিয়ে এই শহর একটা আলাদা উদাহরণ তৈরি করেছে, যেটা এখনও স্পর্শ করতে পারেনি কোনও শহর।
Discover more from Unknown Story
Subscribe to get the latest posts sent to your email.



















1 thought on “Every Resident Own a Plane: গাড়ি নয়, এখানে নিত্যদিনের সঙ্গী বিমান, চেনেন এই শহরকে?”