বিশ্বে রেকর্ড বুকে জায়গা করে নিয়েছে traffic jam। ভাবলেও অবাক লাগে এমন একটা জিনিস রেকর্ড বইতে নাম লেখাতে পারে। যেই ট্র্যাফিক জ্যাম কথাটা শুনলে কপালে ভাঁজ পড়ে। গাড়ির মাঝে বসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা একই জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকাটা বিরক্তিকর। ট্র্যাফিক আলোর লাল, হলুদ ও সবুজের ঝলকানিতে নিত্যযাত্রীরা বিরক্ত। এ বার এই তিন আলোর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে আরও এক লাইট। সেটা হলো সাদা (White Traffic Light)। কী সেটা?
Table of Contents
প্রযুক্তি ও পরিকাঠামোর উন্নতির সঙ্গে এ বার আসছে সাদা ট্র্যাফিক আলো। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জ্যাম সামলাতে এটা হতে পারে জাদুর চাবিকাঠি।
বর্তমান ট্র্যাফিক ব্যবস্থা: লাল, হলুদ, সবুজের মেলা
প্রায় দেড় শতাব্দী আগে আবিষ্কার হওয়া ট্র্যাফিক লাইট ব্যবস্থা এখনও পৃথিবীর প্রায় সব শহরে কার্যকর। কায়দা আলাদা থাকলেও আলো কিন্তু তিনটেই। কিন্তু এই ব্যবস্থা যখন তৈরি হয় তখন প্রযুক্তির এত উন্নতি হয়নি তখন মানুষ নিজেরাই গাড়ি চালাতেন। সেটাই ছিল একমাত্র পরিবহন মাধ্যম।
বর্তমানে জনবিস্ফোরণের যুগে সেই তিন আলোর ট্র্যাফিক ব্যবস্থা সমস্যার তৈরি করেছে। প্রযুক্তি, মানুষ বাড়লেও ট্র্যাফিক সিগন্যালে বদল আসেনি। ফলে মানুষের ভোগান্তি চলছেই। আর এখানে যুক্ত হয়েছে স্বয়ংক্রিয় যানবাহন বা Autonomus Car. বিশেষজ্ঞদের মতে, যখন রাস্তায় ধীরে ধীরে স্বয়ংক্রিয় যানবাহনের সংখ্যা বাড়ছে, তখন এই চিরাচরিত ব্যবস্থা আর যথেষ্ট নয়। এই সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে আসছে সাদা আলো।
white traffic light-এর পরিকল্পনা কী করে এল?
সাদা ট্র্যাফিক লাইটের ধারণাটি এসেছে নর্থ ক্যারোলাইনা স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষকের মাথা থেকে। ধীরে ধীরে যেভাবে রাস্তায় স্বয়ংক্রিয় বা চালকবিহীন গাড়ির সংখ্যা বাড়ছে সেটার প্রস্তুতি তাঁরা নিচ্ছেন। বর্তমানে বিদেশে স্বয়ংক্রিয় গাড়ির সংখ্যা বাড়ছে, যদিও সেই দৌড়ে পিছিয়ে আছে ভারত।
Karl Bushby: পদব্রজে বিশ্ব ভ্রমণ, 28 বছর ধরে হাঁটছেন প্রাক্তন সেনাকর্মী
কেন নতুন আলোর দরকার?
এই নেপথ্যে প্রধান কারণ হলো সমন্বয় বা Co-ordination। আসলে, চালকবিহীন গাড়ির সুবিধা হচ্ছে, এই গাড়িগুলো একে অন্যের সঙ্গে ভালো যোগাযোগ রাখতে পারে। দুটো গাড়ির মধ্যে নিরাপদ দূরত্ব। রাস্তা বুঝে গতি বাড়ানো বা কমানোর মতো কাজ করতে পারে। আর এই স্বয়ংক্রিয় গাড়িগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রাখবে সাদা আলো। এগুলি সিদ্ধান্ত নেবে কখন তারা গাড়ি আটকাবে আর কখনও থামাবে।
বিশেষজ্ঞরা দাবি করেছেন, যখন রাস্তায় যথেষ্ট পরিমাণে স্বয়ংক্রিয় যানবাহন উপস্থিত থাকবে, তখন ট্র্যাফিক সিগন্যাল স্বয়ংক্রিয় মোডে চলে যাবে, অর্থাৎ, সাদা আলো জ্বলবে। সাদা আলো দেখে কোনও চালক বুঝতে পারবেন যে সেই রাস্তায় স্বয়ংক্রিয় গাড়ির সংখ্যা বেশি এবং তাঁকে সেটাই অনুসরণ করতে হবে। এর ফলে ট্র্যাফিক একটা জায়গায় স্থির থাকবে না। বর্তমানে প্রতিটা সিগন্যালে একটা নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেওয়া রয়েছে। ফলে কোনও সময়ে রাস্তায় গাড়ির চাপ বেশি হলে সেই সিগন্যালকে বদলে ফেলা যায় না, ট্র্যাফিক পুলিশদের রাস্তায় নামতে হয়। এ বার সেটা আর হবে না।

সাদা আলোর মূল মন্ত্র: ‘অনুসরণ করো’
সাদা ট্র্যাফিক লাইটে অর্থ হচ্ছে অনুসরণ করো। এই আলো ট্র্যাফিককে থামিয়ে দেয় না। চিরাচরিত লাল-সবুজ আলো যেমন ‘থামো’ বা ‘যাও’ নির্দেশ দেয়, তেমনই এটির নির্দেশ হচ্ছে ‘অনুসরণ করো’।
যখন কোনও ইন্টারসেকশনে সাদা আলো জ্বলে উঠবে, তখন তার অর্থ হবে:
- এভি নেটওয়ার্ক সক্রিয়: স্বয়ংক্রিয় যানবাহনগুলি (Autonomous Vehicles) নিজেদের মধ্যে গতির সমন্বয় করেছে, ফলে সেই হিসেবে তারা চলবে। এবং মানুষদেরও সেই হিসেবে চলতে হবে।
- মানুষের ভূমিকা: সাদা আলো দেখলে গাড়ির চালকের কাজ হবে তাঁর সামনে থাকা গাড়িকে অনুসরণ করা। গতি বাড়িয়ে ওভারটেক করা বা অতিরিক্ত সময়ে দাঁড়িয়ে পড়া যাবে না।
স্বয়ংক্রিয় যানবাহনগুলি এমনভাবে গতি বাড়াতে বা কমাতে পারবে যাতে কোনও সিগন্যালে কোনও গাড়ি দাঁড়িয়ে না যায়। এতে লম্বা সময় ধরে traffic jam হবে না।
তবে সাদা আলোর কিন্তু সবসময় চলবে না। এটা নির্ভর করবে রাস্তায় কতগুলো স্বয়ংক্রিয় গাড়ি চলছে তার উপরে। যদিও সেই সংখ্যাটা কত তা নির্দিষ্ট নয়। গবেষকরা মনে করছেন, রাস্তায় যখন ৪০-৫০ শতাংশ স্বয়ংক্রিয় গাড়ি থাকবে তখনই সাদা আলো কাজ করবে। সেই সময় বাকি তিনটে আলো কাজ করবে না।
এক কথায় বলতে গেলে দৈনন্দিন জীবনে যেমন AI এসেছে, তেমনই ট্র্যাফিক সিগন্যালও এবার AI নিয়ন্ত্রণ করবে।
বিশ্বে রয়েছে underwater mailbox, চিঠি পাঠাতে যেতে হয় জলের 33 ফুট গভীরে, জেনে নিন বিস্তারিত
সাদা আলোর ফলে কী কী পরিবর্তন হবে ট্র্যাফিক ইকোসিস্টেমে?
White Traffic Light-এর ধারণাটি বাস্তবায়িত হলে শহুরে ট্র্যাফিক ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশের উপর এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়বে:
- Traffic Jam কমবে: পরিকল্পনা অনুযায়ী, সাদা আলো ফলে প্রায় ৩০% থেকে ৪০% পর্যন্ত traffic jam কমবে। যেহেতু গাড়িগুলোকে বারবার থামতে হচ্ছে না, তাই কোনও সিগন্যালে বেশিক্ষণ কোনও গাড়িকে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে না।
- কার্বন নির্গমন হ্রাস: প্রতিটা সংস্থা এখন কম কার্বন ব্যবহারের দিকে ঝুঁকছে। গাড়ি কম সময় সিগন্যালে দাঁড়ালে জ্বালানি কম পুড়বে এবং কার্বন নির্গমন কম হবে ও পরিবেশের উপকার হবে।
- সুরক্ষা বৃদ্ধি: স্বয়ংক্রিয় যানবাহনগুলি যেহেতু একই সেটআপে কাজ করে তাই মানুষ চালিত গাড়ির তুলনায় অনেক কম ভুল করে। আচমকা গতি বাড়ানো বা কমানোর মতো ঘটনা ঘটে না। এতে দুর্ঘটনা কম ঘটে।

ভারতে সাদা ট্র্যাফিক আলোর ভবিষ্যৎ কী?
এই যে পরিকল্পনাটা তা ভারতের জন্যই নয়। কারণ ভারতে এখনও স্বয়ংক্রিয় গাড়ির সংখ্যা হাতেগোনা। আর যদি অদূর ভবিষ্যতে দেশে স্বয়ংক্রিয় গাড়ি আনাও হয়, তা হলেও সেটা খুব একটা কার্যকরি হবে না। কারণ বেআইনি টোটোর দাপট, সিগন্যাল না মানা। এগুলোর জন্য স্বয়ংক্রিয় গাড়ি রাস্তা নামলেও তা প্রভাব ফেলতে পারবে না। পাশাপাশি খারাপ রাস্তা তো রয়েছে। সব মিলিয়ে White Traffic Light-এর ধারণা ভালো হলেও ভারতে তার বাস্তবায়ন সোনার পাথরবাটি।
Unknown Story-কে ফেসবুক ও ইন্সটাগ্রামে ফলো করুন
Discover more from Unknown Story
Subscribe to get the latest posts sent to your email.














