শীতকাল আসলে একটা সমস্যা গোটা দেশে দেখা যায়, তা হলে দূষণ। কারণ শীতকালের শুকনো আবহাওয়ার জন্য ধুলো বেশি ওড়ে এবং এতে দূষণ বাড়ে। যাদের হার্টের সমস্যা বা শ্বাসকষ্ট আছে, তাদের কাছে শীতকাল সবচেয়ে কঠিন। তবে এমন কিছু গাছ আছে যা আপনি বাড়িতে রাখলে দূষণের সমস্যা থেকে অনেকটাই মুক্তি পাবেন। এই প্রতিবেদনে রইল তারই হদিশ (Best Indoor Plants for Air Purification)।
Table of Contents
ভারতের রাজধানী দিল্লিতে সবচেয়ে বেশি Air Pollution হয়। প্রতি বছর দিওয়ালির পর দিল্লি ধোঁয়াশার চাদরে ঢেকে যায়। এর ফলে দিল্লিবাসীদের নিঃশ্বাস নেওয়া কঠিন হয়ে যায়। কলকাতায় দিল্লির মতো না হলেও দূষণ হয়, অর্থাৎ, দিল্লির থেকে দূষণের দিক থেকে কলকাতা কোনও অংশে কম নয়। আরও সমস্যা হচ্ছে ঘরের ভিতরে। সবসময় দরজা-জানালা বন্ধ রাখা যায় না আর তা খুলে দিলে বাইরের দূষণ ভিতরে প্রবেশ করে। এই কারণে অনেকে এয়ার পিউরিফায়ার লাগান। তবে সেসবের দরকার নেই। পাঁচটা গাছ ঘরের ভিতরে রাখলেই আপনি দূষণ থেকে মুক্তি পাবেন।
অত্যাধুনিক এয়ার পিউরিফায়ার কেনা অনেকের নাগালের বাইরে এর দাম সাধারণত ১০,০০০ থেকে ৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। সেখানে মাত্র ৩০০ থেকে ৭০০ টাকা খরচ করলে ঘরে রাখার সহজলভ্য কিছু গাছ পেতে পারেন, যা ঘরের ভিতরের বাতাসকে পরিষ্কার করার ক্ষমতা রাখে।
অভ্যন্তরীণ বায়ু দূষণ (Indoor Air Pollution): এটা Silent Killer
অনেকের ধারণা, দরজা-জানালা বন্ধ রাখলেই বাইরের দূষণ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। কিন্তু এর পুরোটা সঠিক না। আধুনিক বাড়িঘরগুলি এত বেশি এয়ার-টাইট হয় যে বাইরের দূষণ ঢুকতে না পারলেও, ভেতরের উৎপাদিত দূষিত বাতাস বাইরে বের হতে পারে না, ফলে তা ঘরের মধ্যে জমা হতে থাকে।
ঘরের ভেতরের বায়ু দূষণের প্রধান কারণ হলো ভোলাটাইল অর্গানিক কম্পাউন্ডস (Volatile Organic Compounds – VOCs)। এটি একটি রাসায়নিক। এর ফলে দীর্ঘমেয়াদী শ্বাসযন্ত্রের সমস্যা তৈরি করে এবং এমনকি ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়। এর উৎসগুলি হলো:
- ফরম্যালডিহাইড (Formaldehyde): নতুন আসবাবপত্র, কার্পেট এবং প্লাইউড থেকে নির্গত হয়। এটি চোখ ও গলায় জ্বালা সৃষ্টি করে।
- বেনজিন (Benzene): প্লাস্টিক, ডিটারজেন্ট এবং পেইন্ট থেকে নির্গত হয়।
- জাইলিন (Xylene) ও ট্রাইক্লোরোইথিলিন (Trichloroethylene): প্রিন্টার, প্লাস্টিক এবং শিল্পজাত পরিষ্কারক সামগ্রীতে পাওয়া যায়।
- ছত্রাকের কণা (Mold Spores): স্যাঁতসেঁতে দেওয়াল বা টয়লেটের ভেতরের অংশে জন্ম নেয়, যা হাঁপানি বা অ্যালার্জির তীব্রতা বাড়ায়।
- কার্বন মনোক্সাইড: গ্যাস ওভেন বা হিটার থেকে উৎপন্ন হয়।
এই টক্সিনগুলি ঘরের ভেতরের বাতাসকে বাইরে থাকার বাতাসের চেয়েও অনেক সময় ১০ গুণ বেশি বিষাক্ত করে তোলে। এর বিরুদ্ধে লড়ার জন্য নাসার বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে পাঁচটা ইনডোর প্ল্যান্ট বেছেছে।
খোসাসহ না ছাড়িয়ে, কীভাবে আমন্ড খেলে উপকার বেশি? রইল বিস্তারিত
Best Indoor Plants for Air Purification: কম খরচে অক্সিজেন বিপ্লব
NASA-র সুপারিশ অনুসারে, এখানে পাঁচটি অত্যন্ত কার্যকর এবং কম খরচের ইনডোর প্ল্যান্টের তালিকা দেওয়া হলো, যা আপনার বাড়ির অভ্যন্তরের বাতাসকে পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করবে।
পিস লিলি (Peace Lily) – আনুমানিক ৬০০টাকা
পিস লিলি একটি কার্যকর বায়ু পরিশোধক। এটি কেবল ঘরের সৌন্দর্যের জন্যই নয়, এর স্বাস্থ্য উপকারিতার জন্যও বিখ্যাত।
এই গাছটি বিশেষত ঘরে থাকা অ্যালকোহল, অ্যাসিটোন এবং বেনজিনের মতো কঠিন রাসায়নিক দূষণ কমাতে অত্যন্ত কার্যকর। এটি বাথরুমের আশপাশে জন্মানো ছত্রাকের কণাকে শেষ করতে পারে। েটি অ্যালার্জি এবং অ্যাজ়মা রোগীদের জন্য অত্যন্ত কাজের।
যত্ন: এটি কম আলোতে ভালো জন্মায় এবং মাটির উপরের অংশ শুকিয়ে গেলে জল দিতে হয়। এর সাদা ফুলটি আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে।

স্নেক প্ল্যান্ট (Snake Plant / Mother-in-Law’s Tongue) – আনুমানিক ৫০০টাকা
স্নেক প্ল্যান্ট বর্তমানে সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং সবচেয়ে কম খরচের ইনডোর প্ল্যান্ট। এটি প্রায় সব ধরনের ঘরের পরিবেশের জন্য উপযুক্ত।
বেশিরভাগ গাছ রাতে কার্বন ডাই অক্সাইড শোষণ করে, কিন্তু স্নেক প্ল্যান্ট হলো সেই বিরল গাছগুলির মধ্যে একটি, যা রাতে অক্সিজেন নির্গত করে। বেডরুমের জন্য এটি আদর্শ।
এটি ফরম্যালডিহাইড (Formaldehyde), বেনজিন এবং ট্রাইক্লোরোইথিলিন সহ একাধিক টক্সিন দূর করতে সিদ্ধহস্ত।
ফ্ল্যাট, অফিস বা শোওয়ার ঘরের জন্য দারুণ, যেখানে জানালার আলো কম আসে। এটি রাখতে খরচ কম হওয়ায় সবাই ব্যবহার করতে পারবেন।

অ্যারিকা পাম (Areca Palm) – আনুমানিক ৬০০টাকা
অ্যারিকা পাম একটি বড়, আকর্ষণীয় পাম গাছ, যা কেবল ঘরকে গরম করে না বরং এটি একটি প্রাকৃতিক হিউমিডিফায়ার হিসাবেও কাজ করে।
এই গাছটি ঘরের বাতাসে থাকা জাইলিন এবং টলুইনের মতো ক্ষতিকারক টক্সিন শোষণ করে।
এটি প্রচুর পরিমাণে অক্সিজেন উৎপন্ন করে এবং ঘরের আর্দ্রতাকে স্বাভাবিক রাখে। শুষ্ক আবহাওয়া বা শীতকালে এটি ঘরের বাতাসকে আরামদায়ক করে।
এটি বড় রুম বা ড্রয়িং রুমের জন্য সেরা, যেখানে সামান্য আলো আসে।

রাবার প্ল্যান্ট (Rubber Plant / Ficus Elastica) – আনুমানিক ৭০০টাকা
রাবার প্ল্যান্ট কেবল তার গাঢ়, উজ্জ্বল পাতার জন্য পরিচিত নয়, এটি বায়ু পরিশোধন ক্ষমতার জন্যও জনপ্রিয়।
এটি মূলত বেনজিন এবং ফরম্যালডিহাইড শোষণ করে। এর বড়, মোমযুক্ত পাতাগুলি বাতাসের ধুলো শোষণ করতেও সহায়তা করে।
রাবার প্ল্যান্ট হলো এমন একটি গাছ যা কম আলো এবং ঠাণ্ডা তাপমাত্রাতেও বাঁচতে পারে।
কম পরিচর্যায় গাছ বাঁচাতে চান এমন মানুষের জন্য এবং নতুন পেইন্ট করা বা আসবাবপত্র কেনা হয়েছে এমন ঘরের জন্য উপযোগী।

স্পাইডার প্ল্যান্ট (Spider Plant) – ৩০০টাকা দাম, সবচেয়ে সস্তা
স্পাইডার প্ল্যান্ট হলো সবচেয়ে সহজে জন্মানো এবং দ্রুত কার্যকর হওয়া এয়ার পিউরিফায়িং প্ল্যান্টগুলির মধ্যে একটি। এটির পাতা বেরিয়ে ঝুলে থাকার কারণে এটিকে দেখতে অনেকটা মাকড়সার মতো। তাই এটির নাম স্পাইডার প্ল্যান্ট।
এটি বাতাস থেকে কার্বন মনোক্সাইড এবং জাইলিনকে শেষ করে। এটি ঘরের সাধারণ দূষণ এবং ধূলোকণা কমাতেও সহায়ক।
এটি খুব দ্রুত বাড়ে এবং এর ছোট ছোট চারাগুলি থেকে আরও বেশি পরিমাণে গাছ তৈরি হয়। ফলে এই গাছ একবার কিনলে আর চিন্তা নেই।
এটাতো গেল সাময়িক সুরাহা, তবে শুধুমাত্র গাছ লাগালেই হবে না, ঘরের ভেতরের বাতাসের গুণমান উন্নত করতে কয়েকটি সহজ কিন্তু কার্যকরী কাজ করা জরুরি। (Best Indoor Plants for Air Purification)

সুগারের রোগীদের কি গাজর খাওয়া উচিত? কী বলছেন চিকিৎসকরা?
ঘরের ভিতরের Air Pollution রোধে বাড়তি কিছু টিপস
হাওয়া চলাচল নিশ্চিত করুন
দিনের বেলায় যখন বাইরের AQI অপেক্ষাকৃত কম থাকে, তখন অল্প সময়ের জন্য জানালা খুলে রাখুন। এটি ঘরের ভেতরে জমে থাকা টক্সিন এবং কার্বন ডাই অক্সাইডকে বাইরে বের করে দেবে। আপনার ঘরে হাওয়া চলাচল কম করলে জানালার দিকে মুখ করে একটা টেবল ফ্যান চালিয়ে দিন, এক্সট ফ্যানের কাজ করবে।
প্রাকৃতিকভাবে ঘর পরিষ্কার করুন
বাণিজ্যিক পরিষ্কার করার সামগ্রীতে প্রায়শই অ্যামোনিয়া, ক্লোরিন এবং অন্যান্য VOCs থাকে। এর পরিবর্তে প্রাকৃতিক উপাদান যেমন লেবু, বেকিং সোডা এবং ভিনিগার ব্যবহার করুন। এছাড়া, সুগন্ধের জন্য রাসায়নিক এয়ার ফ্রেশনার বা সুগন্ধি মোমবাতি বর্জন করুন, কারণ এগুলিও VOCs নির্গত করে। এর বদলে প্রাকৃতিক এশেনশিয়াল অয়েল ডিফিউজার ব্যবহার করতে পারেন।
নিয়মিত পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা
ধুলো হলো অ্যালার্জি এবং শ্বাসযন্ত্রের সমস্যার অন্যতম প্রধান কারণ। সপ্তাহে অন্তত একবার HEPA ফিল্টারযুক্ত ভ্যাকুয়াম ক্লিনার দিয়ে কার্পেট এবং মেঝে পরিষ্কার করুন। ভেজা কাপড় দিয়ে আসবাবপত্র মুছুন, যাতে ধুলোর কণা বাতাসে মিশে না যায়। বেডিং এবং পর্দা নিয়মিত পরিষ্কার করুন।
ধূমপান এবং আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণ
ঘরের ভেতরে ধূমপান করবেন না। ধূমপান করলে যিনি ধূমপায়ী তিনিই শুধু ক্ষতিগ্রস্ত হন না, আশপাশের সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হন।
সব মিলিয়ে গাছের পাশাপাশি মানুষ নিজের সুরক্ষিত হলে একটু একটু করে দূষণ কমবে, এতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম লাভবান হবে।
Unknown Story-কে ফেসবুক ও ইন্সটাগ্রামে ফলো করুন
FAQ
What re the Best Indoor Plants for Air Purification?
Peace Lily, Snake Plant, Areca Palm, Rubber Plant, Spider Plant
Discover more from Unknown Story
Subscribe to get the latest posts sent to your email.


















