শহরের ব্যস্ততার মধ্যে ছুটি পাওয়াটাই চাপের। অফিসের একদিন বা দু’দিনের ছুটিতে ব্যক্তিগত কাজ করতেই কেটে যায়। তবে ব্যস্ততা থাকলে কি ঘুরতে যাওয়া যাবে না? এই প্রতিবেদনে জেনে নিন এমন কয়েকটা জায়গার খোঁজ যেটা আপনি এক বা দু’দিনের জন্য কলকাতা থেকে সহজেই ঘুরে আসতে পারেন।
Table of Contents
বলা হয় পাওয়ার ন্যাপ যেমন প্রোডাক্টিভিটি বাড়াতে সাহায্য করে, তেমনই একটা পাওয়ার ট্রিপও ফ্রেশ থাকতে সাহায্য করে। তাই ফাঁক পেলেই পরিবার ও বন্ধুবান্ধবদের নিয়ে প্রকৃতির মাঝে বা ঐতিহাসিক স্থানের শান্ত পরিবেশে সময় কাটাতে পারবেন।
One Day Trip From Kolkata
শান্তিনিকেতন: শিল্প ও সংস্কৃতির কেন্দ্র
কলকাতা থেকে প্রায় ১৬০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত শান্তিনিকেতন শুধু একটি শিক্ষাকেন্দ্র নয়, এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতি বিজড়িত একটি অনন্য স্থান। এখানে কবিগুরু প্রকৃতির সঙ্গে একাত্ম হয়ে আশ্রমিক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলেছিলেন।
কীভাবে যাবেন: ট্রেন বা বাসে করে শান্তিনিকেতন সহজেই যাওয়া যায়। ভোরবেলা রওনা হলে সারাদিন ঘুরে সন্ধ্যায় ফিরে আসা সম্ভব। এছাড়াও গাড়িতে করেও আপনি বেরিয়ে পড়তে পারেন।
কী দেখবেন: বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়, উপাসনা গৃহ, কলা ভবন, রবীন্দ্র ভবন মিউজ়িয়াম এবং খোয়াইয়ের শান্ত পরিবেশ। এখানকার সোনাঝুরি হাটে লোকশিল্পীদের হাতে তৈরি জিনিস কিনতে পারেন। সঙ্গে বাউল গান বাড়তি পাওনা। (one day trip from kolkata)
মায়াপুর: আধ্যাত্মিক শান্তির ঠিকানা
নদিয়ার নবদ্বীপে অবস্থিত মায়াপুর হলো ইসকন (ISKCON)-এর সদর দপ্তর। এখানে দেশ-বিদেশ থেকে হাজার হাজার দর্শনার্থী আসেন। শান্তিতে সময় কাটানোর জন্য মায়াপুর আদর্শ।
কীভাবে যাবেন: কলকাতা থেকে লোকাল ট্রেন, বাস বা গাড়িতে করে সহজেই মায়াপুর পৌঁছানো যায়। নবদ্বীপ গেলে লঞ্চে নদী পার হতে হবে।
কী দেখবেন: শ্রী মায়াপুর চন্দ্রোদয় মন্দির, শ্রী কৃষ্ণ-বলরাম মন্দির, এবং বিভিন্ন মন্দির ও আশ্রম। এখানে সন্ধ্যা আরতি খুবই মনোরম হয়। হাতে সময় থাকলে নদী পার হয়ে নবদ্বীপ ঘুরে আসতে পারেন। (one day trip from kolkata)

ডায়মন্ড হারবার: নদীর ধারে এক শান্ত বিকেল
দক্ষিণ ২৪ পরগনায় অবস্থিত ডায়মন্ড হারবার একটি জনপ্রিয় পিকনিক স্পট। নদীর ধারে বসে সূর্যাস্ত দেখা এবং নদীর শীতল হাওয়া উপভোগ করা এক অন্যরকম অনুভূতি দেয়।
কীভাবে যাবেন: শিয়ালদহ থেকে লোকাল ট্রেনে ডায়মন্ড হারবার স্টেশনে যাবেন। সেখান থেকে হেঁটে নদীর ধারে।
কী দেখবেন: নদীর ঘাট, পুরনো লাইটহাউস, পুরনো দুর্গ এবং এখানকার স্থানীয় বাজার। এখানকার তাজা মাছের পদ ট্রাই করে দেখতে পারেন। পিকনিকের জন্য আদর্শ এই জায়গা।

গড়চুমুক: প্রকৃতি ও নদী একসঙ্গে
হাওড়া জেলার অন্যতম জনপ্রিয় পিকনিক স্পট গড়চুমুক, যেখানে দুটি নদীর মোহনা দেখা যায়। এখানে নদীর ধারে একটি সুন্দর পার্ক এবং একটি অভয়ারণ্য রয়েছে।
কীভাবে যাবেন: কলকাতা থেকে গাড়ি করে বা বাসে করে গড়চুমুক পৌঁছানো যায়।
কী দেখবেন: ডিভিসি খাল এবং হুগলী নদীর মিলনস্থল, ৫৮ গেট, এবং হরিণের অভয়ারণ্য। এখানে নৌকাবিহারের ব্যবস্থাও আছে। (one day trip from kolkata)
Low Cost International Travel: পূরণ হোক বিদেশ ঘোরার স্বপ্ন, কম খরচে ঘুরে আসুন এই 10 দেশ থেকে
দেউলটি: শরৎচন্দ্রের স্মৃতিধন্য গ্রাম
সাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের স্মৃতি বিজড়িত এই গ্রামটি হুগলী নদীর তীরে অবস্থিত। এটি এক শান্ত ও মনোরম পরিবেশ, যা সাহিত্যপ্রেমীদের আকর্ষণ করে। শরৎচন্দ্রের ব্যবহৃত জিনিস দেখতে পাবেন এখানে।
কীভাবে যাবেন: হাওড়া থেকে ট্রেন বা গাড়িতে করে সহজেই দেউলটি পৌঁছানো যায়।
কী দেখবেন: শরৎচন্দ্রের বাড়ি, রূপনারায়ণ নদীর তীর এবং এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য।

ঝাড়গ্রাম: প্রকৃতির মাঝে এক শান্ত আশ্রয়
ঝাড়গ্রাম একটি ছোট্ট শহর হলেও এখানকার গভীর জঙ্গল, আদিবাসী সংস্কৃতি এবং শান্ত পরিবেশ ভ্রমণপিপাসুদের মন জয় করে। শহরের কোলাহল থেকে নিরিবিলিতে সময় কাটানোর জন্য এটি আদর্শ একটা জায়গা।
কীভাবে যাবেন: হাওড়া থেকে ট্রেনে করে ঝাড়গ্রাম যাওয়া যায়। সেখান থেকে অটো বা টোটো করে ঘুরতে পারবেন।
কী দেখবেন: ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ি, ডুলুং নদী এবং বেলপাহাড়ি। (one day trip from kolkata)
টাকি: ইছামতী নদীর কোলে
ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে অবস্থিত টাকি ছুটি কাটানোর জন্য পারফেক্ট। ইছামতী নদীর বুকে নৌকাবিহার এখানকার প্রধান আকর্ষণ।
কীভাবে যাবেন: শিয়ালদহ থেকে হাসনাবাদ লোকাল ট্রেনে করে টাকি যাওয়া যায়।
কী দেখবেন: ইছামতী নদীর উপর নৌকা করে যাওয়া, গোরা মন্দির এবং টাকি রাজবাড়ি।

গঙ্গানি: পশ্চিমবঙ্গের গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন
পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার এই জায়গাটি তার লাল মাটি এবং ক্যানিয়নের মতো গঠনের জন্য পরিচিত।
কীভাবে যাবেন: হাওড়া থেকে ট্রেনে করে গড়বেতা বা মেদিনীপুর গিয়ে সেখান থেকে গাড়িতে করে গঙ্গানি।
কী দেখবেন: ক্যানিয়নের মতো প্রাকৃতিক গঠন, শীলাবতী নদীর তীর এবং এখানকার ল্যান্ডস্কেপ।
ফুরফুরা শরিফ: এক ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় স্থান
হুগলি জেলার ফুরফুরা শরিফ একটি ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় স্থান। এটি দরগা শরিফ এবং মসজিদের জন্য পরিচিত।
কীভাবে যাবেন: কলকাতা থেকে গাড়ি বা বাসে করে ফুরফুরা শরিফ যাওয়া যায়।
কী দেখবেন: এখানকার পুরোনো মসজিদ এবং দরগা শরিফ। এখানকার স্থাপত্যশৈলী অত্যন্ত মনোমুগ্ধকর। (one day trip from kolkata)
রিষড়া: ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মেলবন্ধন
হুগলি জেলার একটি পুরানো শহর রিষড়া, যা তার ঐতিহাসিক গুরুত্ব এবং শিল্প কারখানার জন্য পরিচিত। এখানে কিছু পুরনো মন্দির এবং গঙ্গার ঘাট রয়েছে।
কীভাবে যাবেন: শিয়ালদহ থেকে ট্রেন বা গাড়ি করে রিষড়া যাওয়া যায়।
কী দেখবেন: গঙ্গার ঘাট, পুরোনো মন্দির এবং এখানকার স্থানীয় জনজীবন।
এই প্রতিটি জায়গা কলকাতা থেকে একদিন বা দু’দিনের ছুটিতে ঘোরার জন্য আদর্শ। প্রতিটা জায়গা আপনি ব্যক্তিগত গাড়ি বা বাইকে করে যেতে পারেন। পাবলিক ট্রান্সপোর্টে যেতে গেলে আপনি ট্রেন বা বাসে করে যেতে পারে। খরচও কম হবে, তাই আর দেরি না করে বেছে নিন আপনার পছন্দের ডেস্টিনেশন এবং বেরিয়ে পড়ুন এক নতুন অভিজ্ঞতার খোঁজে। (one day trip from kolkata)
Unknown Story-কে ফেসবুক ও ইন্সটাগ্রামে ফলো করুন
FAQ
কলকাতা থেকে ঘুরতে যাওয়ার সেরা ১০ জায়গা কী কী?
শান্তিনিকেতন, মায়াপুর, ডায়মন্ড হারবার, গড়চুমুক, দেউলটি, ঝাড়গ্রাম, টাকি, গঙ্গানি, ফুরফুরা শরিফ, রিষড়া।
Discover more from Unknown Story
Subscribe to get the latest posts sent to your email.



















