রাজ্য দেশ বিদেশ খেলা খাবার ও রেসিপি লাইফস্টাইল ও স্বাস্থ্য প্রযুক্তি ও গ্যাজেটস অন্যান্য খবর Utility News

---Advertisement---

১৫ দিনেই শেষ স্যালারি? এই ৫ অভ্যাসে অজান্তেই জমিয়ে ফেলতে পারবেন টাকা

By Raja
Published on: July 16, 2026
Money Saving Tips
---Advertisement---

স্যালারি ঢোকার পর টাকা যে কত দ্রুত বেরিয়ে যায় তা অধিকাংশেই হিসেবে আসে না (Money Saving Tips)। যার ফলে মাসের ১৫ তারিখের মধ্যেই পকেট ফাঁকা। রেস্তোরাঁয় খাওয়া, পছন্দের জামাকাপড় কেনা কিংবা বন্ধুদের সাথে আড্ডা—খরচের হাত থাকে চড়া। কিন্তু ক্যালেন্ডারের পাতা ২০ তারিখ পেরোতেই মধ্যবিত্ত বা চাকরিজীবীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়তে শুরু করে। “এত টাকা মাইনে পেলাম, গেল কোথায়?”—এই প্রশ্নটিই মাসের শেষে ভারতের কোটি কোটি মানুষের মুখে মুখে ঘুরতে থাকে।

টাকা আয় করা যতটা কঠিন, তার চেয়েও অনেক বেশি কঠিন হলো সেই টাকাকে ধরে রাখা। আধুনিক জীবনযাত্রায় ক্রেডিট কার্ড, অনলাইন শপিং আর ওটিটি (OTT) সাবস্ক্রিপশনের চক্করে আমরা অজান্তেই এমন কিছু খরচ করে ফেলি, যা আমাদের পকেটকে ফাঁকা করে দেয়। কিন্তু আপনি কি জানেন, সামান্য কিছু অভ্যাসের বদল ঘটিয়ে কোনও বাড়তি চাপ ছাড়াই প্রতি মাসে হাজার হাজার টাকা জমিয়ে ফেলা সম্ভব? আজ আমরা আলোচনা করব এমন ৫টি সহজ লাইফ হ্যাকস নিয়ে, যা আপনার অজান্তেই আপনার ব্যাঙ্ক ব্যালেন্স বাড়িয়ে তুলবে। (Money Saving Tips)

‘২৪ ঘণ্টার নিয়ম’ এবং আবেগতাড়িত কেনাকাটায় লাগাম

অনলাইন শপিং অ্যাপগুলোর Notification আমাদের অবচেতন মনকে সারাক্ষণ প্ররোচিত করে কেনাকাটা করার জন্য। মাঝরাতে স্ক্রোল করতে করতে হুট করে একটা গ্যাজেট বা পোশাক পছন্দ হলো, আর আমরা ‘Buy Now’ বোতামে ক্লিক করলাম। একে বলা হয় ইমপালসিভ বাইং (Impulsive Buying) বা আবেগতাড়িত কেনাকাটা। মাসের শেষে পকেট ফাঁকা হওয়ার অন্যতম বড় কারণ এটি।

এই ফাঁদ থেকে বাঁচার সবচেয়ে মোক্ষম অস্ত্র হলো ২৪ ঘণ্টার নিয়ম বা 24-Hour Rule

কীভাবে কাজ করে এই নিয়ম? কোনও জিনিস পছন্দ হলে সেটি সঙ্গে সঙ্গে না কিনে আপনার শপিং কার্টে ফেলে রেখে দিন এবং অ্যাপটি বন্ধ করে দিন। আগামী ২৪ ঘণ্টা সেই জিনিসটি নিয়ে আর ভাববেন না।

ফলাফল: ২৪ ঘণ্টা পর দেখা যায়, প্রায় ৭০ শতাংশ ক্ষেত্রে সেই জিনিসটির প্রতি আমাদের আকর্ষণ কমে গিয়েছে বা আমরা বুঝতে পেরেছি যে ওটি ছাড়াও আমাদের জীবন চমৎকার চলে যাবে। এই একটি মাত্র অভ্যাস আপনার পকেট থেকে প্রতি মাসে কয়েক হাজার টাকার অপচয় রুখে দিতে পারে। (Money Saving Tips)

আরও পড়ুন: Amazon, Flipkart-এ সেলের নামে বেশি টাকা দিচ্ছেন? রইল Online Shopping Tricks, কাজে লাগান আর টাকা বাঁচান

Money Saving Tips: ওটিটি এবং মেম্বারশিপের ফাঁদ থেকে মুক্তি

নেটফ্লিক্স, অ্যামাজন প্রাইম, হটস্টার, স্পটিফাই, জিম মেম্বারশিপ—একটু ভালো করে নিজের ব্যাঙ্ক স্টেটমেন্ট খতিয়ে দেখুন তো, প্রতি মাসে এই সাবস্ক্রিপশনগুলোর পিছনে আপনার কত টাকা কেটে যাচ্ছে? অটো-ডেবিট (Auto-debit) অপশন অন থাকার কারণে আমরা টের পাই না যে কত টাকা জল হচ্ছে।

অনেকেই আছেন যারা একসাথে ৩-৪টি ওটিটি প্ল্যাটফর্মের সাবস্ক্রিপশন নিয়ে রাখেন, কিন্তু মাসে হয়তো দুটি সিনেমাও দেখার সময় পান না।

অডিট করুন আপনার সাবস্ক্রিপশন: প্রতি ৩ মাস অন্তর একটি ছোট অডিট করুন। যে প্ল্যাটফর্মটি গত এক মাসে আপনি একবারও ব্যবহার করেননি, সেটির সাবস্ক্রিপশন অবিলম্বে বন্ধ করে দিন অথবা সাবস্ক্রিপশন পজ করতে পারেন। এতে আপনি একমাস অপেক্ষা করে পরের মাসে সেই সিরিজগুলো দেখতে পারবেন।

শেয়ারিং ইজ সেভিং: বন্ধুদের বা পরিবারের সাথে ফ্যামিলি প্ল্যান শেয়ার করুন। এতে খরচ এক-চতুর্থাংশ হয়ে যায়। মাসের শেষে এই ছোট ছোট কাঁচছাঁট আপনাকে প্রায় ১,৫০০ থেকে ২,০০০ টাকা অনায়াসে বাঁচিয়ে দেবে। (Money Saving Tips)

3 Bank Accounts Theory

টাকা জমানোর সবচেয়ে বড় ভুল হলো খরচ করার পর যা বাঁচে, তা জমানোর চেষ্টা করা। প্রখ্যাত বিনিয়োগকারী ওয়ারেন বাফেট বলেছিলেন, “আগে সঞ্চয় করো, তারপর যা অবশিষ্ট থাকবে তা খরচ করো।” আর এই কাজটি নিখুঁতভাবে করার জন্য আপনার প্রয়োজন তিনটি আলাদা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট।

অ্যাকাউন্ট ১ (ইনকাম ও বিল অ্যাকাউন্ট): যেখানে আপনার মাইনে বা ব্যবসার টাকা ঢুকবে এবং বাড়ি ভাড়া, ইলেকট্রিক বিলের মতো ফিক্সড খরচগুলো মিটে যাবে।

অ্যাকাউন্ট ২ (সঞ্চয় অ্যাকাউন্ট): মাইনে পাওয়ার সঙ্গে একটি নির্দিষ্ট অংশ (যেমন ১০% বা ২০%) এই অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার করে দিন। সবচেয়ে ভালো হয় যদি এই অ্যাকাউন্টের কোনও ডেবিট কার্ড বা ইউপিআই (UPI) অ্যাপ আপনার ফোনে ইনস্টল করা না থাকে। এতে টাকা তোলার সুযোগ কমবে।

অ্যাকাউন্ট ৩ (লাইফস্টাইল অ্যাকাউন্ট): আপনার খাওয়া-দাওয়া, সিনেমা দেখা বা ঘোরার জন্য প্রতি মাসে একটি নির্দিষ্ট বাজেট এই অ্যাকাউন্টে রাখুন। এই অ্যাকাউন্টের টাকা শেষ মানে সেই মাসে আপনার বাইরের সমস্ত আমোদ-প্রমোদ বন্ধ। এই অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে আপনি Small Finance Bank-গুলো বেছে নিতে পারেন।

এই নিয়মানুবর্তিতা আপনাকে কোনও রকম কৃচ্ছ্রসাধন না করেই প্রতি মাসে একটি মোটা অঙ্কের টাকা জমাতে সাহায্য করবে। (Money Saving Tips)

আরও পড়ুন: IRCTC Tatkal Ticket Booking: এক ক্লিকেই পাবেন ট্রেনের কনফার্ম টিকিট, রইল 5টা টিপস

ইউপিআই (UPI) প্রযুক্তির যুগে নগদ টাকার মনস্তত্ত্ব

আজকের দিনে এক কাপ চা থেকে শুরু করে দামি গ্যাজেট—সবকিছুতেই আমরা ফোন বের করে স্ক্যান করে দিচ্ছি। ইউপিআই (UPI) বা অনলাইন পেমেন্ট আমাদের জীবনকে সহজ করলেও, এটি আমাদের টাকা খরচের ব্যথ্যা বা ‘Pain of Paying’ সম্পূর্ণ মুছে দিয়েছে। পকেট থেকে যখন ফিজিক্যাল বা আসল নোট বেরিয়ে যায়, তখন আমাদের মস্তিষ্ক একটা বাধা অনুভব করে। কিন্তু ফোনে পাসকোড দেওয়ার সময় সেই অনুভূতি হয় না।

সমাধান: প্রতিদিন বা প্রতি সপ্তাহের শুরুতে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ নগদ টাকা (Cash) আপনার মানিব্যাগে রাখুন। চেষ্টা করুন ছোটখাটো মুদিখানা, বাজার বা ক্যাবের খরচ এই নগদ টাকায় মেটাতে।

যখন আপনি চোখের সামনে নোট কমতে দেখবেন, তখন আপনার অবচেতন মন নিজে থেকেই আপনাকে হিসাব করে খরচ করতে বাধ্য করবে। এই ছোট মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তনটি ট্রাই করে দেখুন, খরচ কমবেই! (Money Saving Tips)

ডাইনিং আউট এবং ‘ফ্যান্টম কস্ট’ নিয়ন্ত্রণ

সপ্তাহের শেষে ক্লান্ত হয়ে জোম্যাটো (Zomato) বা সুইগি (Swiggy) থেকে খাবার অর্ডার করা কিংবা ক্যাফেতে গিয়ে কফি খাওয়া এখন আমাদের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। কিন্তু এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে প্যাকিং চার্জ, ডেলিভারি ফি, এবং জিএসটি—যাকে বলা হয় ‘ফ্যান্টম কস্ট’ বা অদৃশ্য খরচ। একটি ৩-৪০০ টাকার খাবারে প্রায় ১০০ টাকা বাড়তি কর ও ফি দিতে হয়। (Money Saving Tips)

বিকল্প অভ্যাস: মাসে বাইরে খাওয়ার সংখ্যা একেবারে শূন্য করার প্রয়োজন নেই। তবে প্রতি সপ্তাহে অর্ডার করার বদলে সেটিকে মাসে দুবার বা তিনবারে নামিয়ে আনুন।

অফিসে যাওয়ার সময় বাড়ি থেকে টিফিন বা বোতলে জল নিয়ে যাওয়ার অভ্যাস করুন। প্রতিদিন বাইরের জলের বোতল বা বিকেলের স্ন্যাক্সের পেছনে যে ৫০-১০০ টাকা খরচ হয়, মাসের শেষে তা প্রায় ২-৩ হাজার টাকার বিশাল আকার নেয়। (Money Saving Tips)

টাকা জমানো মানেই জীবনকে উপভোগ করা বন্ধ করে দেওয়া নয়। এটি আসলে আপনার ভবিষ্যৎকে সুরক্ষিত করার একটি আনন্দদায়ক প্রক্রিয়া। আজ যে টাকাটা আপনি অপ্রয়োজনীয় সাবস্ক্রিপশন বা ইমপালসিভ শপিং থেকে বাঁচাচ্ছেন, কাল সেটাই আপনার কোনো বড় বিপদে বা স্বপ্নের ট্যুরে কাজে লাগবে। উপরে বলা ৫টি উপায়ের মধ্যে মাত্র ২টি উপায়ও যদি আপনি আগামী মাস থেকে কঠোরভাবে মেনে চলেন, তবে মাসের ৩০ তারিখে আপনার পকেট আর শূন্য থাকবে না, বরং ব্যাঙ্ক ব্যালেন্স দেখে আপনার মুখে হাসি ফুটবে। আজই শুরু করুন, কারণ ছোট ছোট বিন্দুর মাধ্যমেই সিন্ধুর সৃষ্টি হয়!


Unknown Story-কে ফেসবুক ও ইন্সটাগ্রামে ফলো করুন

‘২৪ ঘণ্টার নিয়ম’ বা ২৪-Hour Rule আসলে কী?

এটি আবেগতাড়িত কেনাকাটা (Impulsive Buying) রোখার একটি মনস্তাত্ত্বিক উপায়। অনলাইন শপিং অ্যাপে কোনো জিনিস পছন্দ হলে সেটি সাথে সাথে না কিনে ২৪ ঘণ্টার জন্য শপিং কার্টে রেখে দিন। ২৪ ঘণ্টা পর অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায় সেই জিনিসের প্রতি আকর্ষণ কমে গেছে, যার ফলে অপ্রয়োজনীয় খরচ বেঁচে যায়। (Money Saving Tips)

থ্রি-ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট (3-Bank Account) থিয়োরি কীভাবে কাজ করে?

এই নিয়মে আপনার টাকা তিনটি আলাদা অ্যাকাউন্টে ভাগ হয়ে যায়। প্রথমটি আপনার নিয়মিত আয় ও ফিক্সড বিল (যেমন বাড়ি ভাড়া বা বিদ্যুৎ বিল) মেটানোর জন্য, দ্বিতীয়টি শুধুমাত্র সঞ্চয়ের জন্য (যার কোনো ইউপিআই বা ডেবিট কার্ড থাকবে না), এবং তৃতীয়টি আপনার প্রতি মাসের খাওয়া-দাওয়া বা ঘোরার খরচের বাজেটের জন্য।

ইউপিআই (UPI) ব্যবহার করলে কি টাকা বেশি খরচ হয়?

হ্যাঁ, মনস্তাত্ত্বিকভাবে ইউপিআই বা অনলাইন পেমেন্টে টাকা খরচের কষ্ট বা ‘Pain of Paying’ টের পাওয়া যায় না, কারণ এখানে চোখের সামনে ফিজিক্যাল নোট বা আসল টাকা হাতছাড়া হয় না। ফলে ডিজিটাল পেমেন্টে মানুষ অজান্তেই বেশি খরচ করে ফেলে।

ওটিটি (OTT) বা অ্যাপ সাবস্ক্রিপশন থেকে কীভাবে টাকা বাঁচানো সম্ভব?

প্রতি ৩ মাস অন্তর আপনার সমস্ত ওটিটি, মিউজিক বা জিম মেম্বারশিপ অডিট করুন। যে প্ল্যাটফর্মটি গত এক মাসে আপনি একবারও ব্যবহার করেননি, সেটির সাবস্ক্রিপশন অবিলম্বে বন্ধ করে দিন। এছাড়া বন্ধুদের সাথে ফ্যামিলি প্ল্যান শেয়ার করে ব্যবহার করলে খরচ অনেকটাই কমে যায়।

জীবন উপভোগ করা বন্ধ না করেও কি টাকা জমানো সম্ভব?

অবশ্যই সম্ভব। সঞ্চয় করা মানে কৃচ্ছ্রসাধন বা আনন্দ বন্ধ করা নয়। এটি মূলত সচেতনভাবে খরচ করা। যেমন—মাসে ৪ বার বাইরে রেস্তোরাঁয় না খেয়ে সেটি ২ বা ৩ বারে নামিয়ে আনা, কিংবা প্রতিদিনের ছোটখাটো অদৃশ্য খরচগুলো (ফ্যান্টম কস্ট) নিয়ন্ত্রণ করলেই কোনো বাড়তি চাপ ছাড়াই হাজার হাজার টাকা বাঁচানো যায়।



Discover more from Unknown Story

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

---Advertisement---

Raja

লেখালেখি পছন্দ করেন। পেশাদার লিখিয়ে নন। নিজের কাজের পাশাপাশি এখন UnknownStory.in-এ লিখছেন।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now

Leave a Reply